কক্সবাজারের রামু ও উখিয়াকে মেরিনড্রাইভের সঙ্গে যুক্ত করেছে মরিচ্যা-গোয়ালিয়া সড়ক। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির গোয়ালিয়া অংশে সম্প্রতি ৫ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দরপত্র আহবানের পর কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তাফা এন্টারপ্রাইজ। বাস্তবায়নাধীন এ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংস্কারে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরজমিনে দেখা যায়, নিম্নমানের পাথর,বিটুমিন কম দেওয়া এবং কার্পেটিংয়ে থিকনেস কম দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদার। এতে অনেকটা কাজ শেষ হওয়ার আগেই কার্পেটিংগুলো উঠে যেতে শুরু করেছে। এছাড়াও সংস্কারে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইটের খোয়া।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসনাত বলেন, ‘ দায়সারাভাবে সড়কের কাজটি করা হয়েছে। এলজিইডির তেমন তদারকিও নেই। এতে বর্ষামৌসুম শুরু হলে এ রাস্তা ঠিকবে বলে মনে হচ্ছেনা। ‘
সড়ক লাগোয়া একটি পানের দোকানদার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ কাজ শেষ না করতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার করা না করা একই হল। ভেবেছিলাম এই কাজের ফলে ভোগান্তি কমবে, এখন দেখছি ভোগান্তি আরো বাড়বে।’
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, মোস্তফা এন্টারপ্রাইজকে এই কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন রামু উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের জহরুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের পার্সেন্টিজের বিনিময়ে মোস্তফা এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ জামাল প্রকাশ জামাল কোম্পানির সাথে তিনি সংস্কার কাজে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার জামাল দাবী করেন, ‘ কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে। কেউ কাজ নিতে চাচ্ছে না। যারা এসব অভিযোগ করছে তাদের প্রমাণ করতে বলেন। ‘
জহরুল ইসলাম জানান, ‘ আমার কাজ হচ্ছে মনিটরিং করা, কাজ শেষ হয়েছে বলে ঠিকাদার জানিয়েছে। আপনার কোন কথা থাকলে আমার উর্ধ্বতনের সাথে বলতে পারেন। ‘
অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে জানিয়ে রামু উপজেলা প্রকৌশলী কফিল উদ্দিন কবীর বলেন, ‘ সরজমিনে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করে দেখব, অনিয়ম পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















