ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু রামুর প্রজ্ঞামিত্র বিহারে ৪০তম স্বর্গপুরী উৎসব : পুন্যার্থীর ঢল কক্সবাজারে শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রেং উৎসব ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে সাউথ কোরিয়া গেলেন লায়ন মো. মুজিবুর রহমান জমি পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- দ্রুত ঈদগাঁওতে আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে চসিক স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পাচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী বুলবুল আকতার ফালংজিতে শুরু হলো “থানগ্রেং” পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নানার বাড়ির পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৩ অপহৃত উদ্ধার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে

মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত কিছু প্রকল্প এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি, যা উদ্বেগজনক।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পটি ঠিকাদার নিয়োগ জটিলতার কারণে কমিশনিংয়ের আগেই চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউর মাধ্যমে দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে এবং এগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ি এলাকায় সরকার এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং কাজের গতি বাড়ানোর উপায় খুঁজতেই সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা যাচাই করাও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে অনেকটাই মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও বৈশ্বিক সংকটের কারণে কয়লা সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে পড়েছে, যার বাইরে বাংলাদেশও নয়।

তিনি জানান, বর্তমানে কয়লা খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। আগে যেখানে সরবরাহকারীদের তথ্যের ওপর নির্ভর করা হতো, এখন মন্ত্রণালয়, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা সরাসরি পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি সংবাদ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এর আগে মন্ত্রী জাহাজযোগ সাগরে স্থাপিত এসপিএম বয়া পরিদর্শন করেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এসময় তার সঙ্গে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে

আপডেট সময় : ১২:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত কিছু প্রকল্প এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি, যা উদ্বেগজনক।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশখালী মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পটি ঠিকাদার নিয়োগ জটিলতার কারণে কমিশনিংয়ের আগেই চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দুটি এফএসআরইউর মাধ্যমে দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ পূরণ করা হচ্ছে এবং এগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ি এলাকায় সরকার এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং কাজের গতি বাড়ানোর উপায় খুঁজতেই সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান জ্বালানি সংরক্ষণ সক্ষমতা যাচাই করাও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এসময় তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট থেকে অনেকটাই মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও বৈশ্বিক সংকটের কারণে কয়লা সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে পড়েছে, যার বাইরে বাংলাদেশও নয়।

তিনি জানান, বর্তমানে কয়লা খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। আগে যেখানে সরবরাহকারীদের তথ্যের ওপর নির্ভর করা হতো, এখন মন্ত্রণালয়, বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা সরাসরি পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি সংবাদ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

এর আগে মন্ত্রী জাহাজযোগ সাগরে স্থাপিত এসপিএম বয়া পরিদর্শন করেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে মহেশখালীর মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

এসময় তার সঙ্গে সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।