পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, “পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম নিয়ে যে বিতর্ক, আমরা তার অবসান চাই। পহেলা বৈশাখ মূলত সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও কৃষকের উৎসব। আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ গণতান্ত্রিক সরকার। গণতন্ত্রে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য থাকবে। এখন থেকে নববর্ষের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণসহ অন্যান্য সকল আয়োজনই থাকবে। চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়, তার যে যে বৈশিষ্ট্য আছে, সবই থাকবে।”
গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি।
কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করে আসছিল আওয়ামী লীগের সময় থেকেই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই বিরোধিতা আরো জোরালো হয়।
সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।
গত মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সভা হয়।
সভার পর ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে।”
তবে আনন্দ শোভাযাত্রা নাকি মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় তর্ক-বিতর্ক চলে।
সেই প্রেক্ষাপটে এবার সংস্কৃতিমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
ইউনেস্কো স্বীকৃতির কি হবে?
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় এখনো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ শিরোনামেই অন্তর্ভুক্ত আছে।
ইউনেস্কো বলছে, নামকরণ সংক্রান্ত জাতীয় সিদ্ধান্তে তারা কোনো অবস্থান নেয় না। তবে সরকার যদি নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউনেস্কোর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হয়।
নাম পরিবর্তনের কারণে ইউনেস্কোর কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, এক প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, “আমরা নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ইউনেস্কোকে জানিয়ে দেব।”
বর্ষবরণ শোভাযাত্রার নামকরণ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার এক ই-মেইল বার্তায় ইউনেস্কো ঢাকার হেড অফ অফিস অ্যান্ড রিপ্রেজেনটেটিভ সুজান ভাইজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “ইউনেস্কো নামকরণ সংক্রান্ত জাতীয় সিদ্ধান্তে কোনো অবস্থান নেয় না, কারণ এ ধরনের বিষয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব এখতিয়ার ও সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত।
“যদি বাংলাদেশ সরকার এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউনেস্কোর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে। ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ কনভেনশনের অপারেশনার ডিরেকটিভস অনুযায়ী, এ ধরনের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র করতে পারে এবং তা কমিটির অধিবেশনের অন্তত তিন মাস আগে বিবেচনার জন্য জমা দিতে হয়।”
বর্তমানে মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর Representative List of the Intangible Cultural Heritage of Humanity-তে ‘Mangal Shobhajatra on Pahela Baishakh’ নামেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
টিটিএন ডেস্ক: 





















