প্রতিবছর বৈশাখ আসে নতুন আশার বার্তা নিয়ে। কিন্তু এ বছর, বৈশাখ যেন শুধুই ঋতুর পালাবদল নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক প্রতীক, এক প্রতিবাদ, এক আত্মমর্যাদার ঘোষণা। বৈশাখী ঝড়ের মধ্যেও যখন মানুষ রাস্তায় নামে, মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়, নতুন বছরকে বরণ করে, তখন সেটি শুধু উৎসব নয়, সেটি একটি জাতির অদম্য চেতনার প্রকাশ।
বাংলাদেশের ইতিহাসই আমাদের শিখিয়েছে, ঝড় থামাতে পারে না এই জাতিকে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, প্রতিটি সংগ্রামে আমরা প্রতিকূলতাকে জয় করেছি। সেই ধারাবাহিকতায় বৈশাখ আজ শুধুই সংস্কৃতির উৎসব নয়, এটি হয়ে উঠেছে স্বাধীনতা, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈশাখ কি সত্যিই মুক্ত? যখন সমাজে ভয়, দমন-পীড়ন, মত প্রকাশের সংকোচ তৈরি হয়, তখন উৎসবের আনন্দও অনেকাংশে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তাই বৈশাখের প্রকৃত তাৎপর্য কেবল পান্তা-ইলিশ বা শোভাযাত্রায় নয়, বরং একটি মুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষায়।
আজকের বৈশাখ আমাদের আহ্বান জানায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, অসত্যকে প্রত্যাখ্যান করতে, এবং একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে।
বৈশাখী ঝড় হয়তো সাময়িক ভাবে আকাশ অন্ধকার করে, কিন্তু সেই ঝড়ই পরিশুদ্ধ করে প্রকৃতিকে। ঠিক তেমনি, সমাজের প্রতিকূলতাও আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, নতুন করে গড়তে অনুপ্রাণিত করে।
এই নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার হোক, মুক্ত চিন্তা, মুক্ত কণ্ঠ, এবং মুক্ত মানুষের বাংলাদেশ গড়ার। বৈশাখ হোক কেবল উৎসব নয়, হোক আমাদের স্বাধীন অস্তিত্বের দৃপ্ত ঘোষণা।
শুভ নববর্ষ।
শেখ জাহাঙ্গীর হাছান মানিক 






















