ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু, দিশেহারা পরিবার রামুতে ৪০ হাজার ইয়াবা নিয়ে বিএনপি নেতার স্ত্রীসহ আটক ২ কক্সবাজার সরকারি কলেজ পরিদর্শনে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক লামা-ফাইতং সড়কে যাত্রী বেশে সিএনজি ছিনতাই: চালককে ছুরিকাঘাত জোয়ারিয়ানালার মরহুম জালাল আহমদ চৌধুরী’র ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ কুতুবদিয়ায় কৃষকদের নিয়ে পার্টনার ফিল স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চকরিয়ার যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মাঠপর্যায়ের ধারণা নিলেন ৫৮ জন বিসিএস কর্মকর্তা এরশাদের স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের ২ বছরের কারাদণ্ড রোহিঙ্গাদের জন্য এ বছর চাওয়া হয়েছে ৭১০ মিলিয়ন ডলার লামায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহে বর্ণাঢ্য র‍্যালি আওয়ামী লীগ ছিলই, ‘ব্যাক’ করেছে তাদের দম্ভ: আসিফ নজরুল বিদ্যুৎ বিভ্রাট, হাসি নেই কামারদের মুখে খুরুশকুলে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত আগামীতে ফুটবলের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চিনবে বিশ্ববাসী

প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই

  • টিটিএন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 285

মারা গেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রবীণ শিল্পী। সোমবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। শনিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।

১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্ম প্রতুলের। বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। মা বাণী মুখোপাধ্যায় ও প্রতুলকে নিয়ে দেশভাগের পরে পশ্চিম বাংলায় চলে যান তিনি। থাকতে শুরু করেন চুঁচুড়ায়। অল্প বয়স থেকেই কবিতায় সুর দিতেন তিনি। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতা দিয়ে শুরু। নিজেও গান লিখতেন। অথচ প্রথাগত কোনও সংগীতশিক্ষা তিনি নেননি। নিজের হৃদয় নিঃসৃত আবেগকেই সুর ও কথার মেলবন্ধনে বেঁধে ফেলতে শিখেছিলেন।

শেষ সময়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও চিকিৎসকদের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ শোনাতেন তিনি। সেই গানের কথার মতো ‘এই বাংলার মায়াভরা পথে’ আর হাঁটতে পারবেন না তিনি। তবে এই একটিই গান নয়, প্রতুল সারা জীবন ধরে অসংখ্য মণিমুক্তা সৃষ্টি করেছেন। বাংলা আধুনিক গান থেকে জাপানি গান, আবার হিন্দি ছবির গান থেকেও উপাদান সংগ্রহ করেছেন। সৃষ্টি করেছেন একের পর এক গান।

গায়কের প্রথম অ্যালবাম ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’ (১৯৮৮)। তবে সেটি একক অ্যালবাম নয়। অন্য শিল্পীদের সঙ্গে মিলে কাজ করতে হয়েছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে ‘যেতে হবে’ প্রতুলের প্রথম একক অ্যালবাম। শেষ অ্যালবাম ‘ভোর’ (২০২২)। সেখানে সংকলিত হয়েছিল শিল্পীর অপ্রকাশিত গানগুলো। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ছাড়াও ‘আলু বেচো’, ‘ছোকরা চাঁদ’, ‘তোমার কি কোনও তুলনা হয়’, ‘সেই মেয়েটি’, ‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ’-এর মতো গানও শ্রোতার মন জিতেছে বারবার। তবে নিজের গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার কখনওই পছন্দ করেননি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু, দিশেহারা পরিবার

প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মারা গেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রবীণ শিল্পী। সোমবার রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। শনিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।

১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্ম প্রতুলের। বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। মা বাণী মুখোপাধ্যায় ও প্রতুলকে নিয়ে দেশভাগের পরে পশ্চিম বাংলায় চলে যান তিনি। থাকতে শুরু করেন চুঁচুড়ায়। অল্প বয়স থেকেই কবিতায় সুর দিতেন তিনি। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ধান কাটার গান গাই’ কবিতা দিয়ে শুরু। নিজেও গান লিখতেন। অথচ প্রথাগত কোনও সংগীতশিক্ষা তিনি নেননি। নিজের হৃদয় নিঃসৃত আবেগকেই সুর ও কথার মেলবন্ধনে বেঁধে ফেলতে শিখেছিলেন।

শেষ সময়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও চিকিৎসকদের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ শোনাতেন তিনি। সেই গানের কথার মতো ‘এই বাংলার মায়াভরা পথে’ আর হাঁটতে পারবেন না তিনি। তবে এই একটিই গান নয়, প্রতুল সারা জীবন ধরে অসংখ্য মণিমুক্তা সৃষ্টি করেছেন। বাংলা আধুনিক গান থেকে জাপানি গান, আবার হিন্দি ছবির গান থেকেও উপাদান সংগ্রহ করেছেন। সৃষ্টি করেছেন একের পর এক গান।

গায়কের প্রথম অ্যালবাম ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’ (১৯৮৮)। তবে সেটি একক অ্যালবাম নয়। অন্য শিল্পীদের সঙ্গে মিলে কাজ করতে হয়েছিল। এরপর ১৯৯৪ সালে ‘যেতে হবে’ প্রতুলের প্রথম একক অ্যালবাম। শেষ অ্যালবাম ‘ভোর’ (২০২২)। সেখানে সংকলিত হয়েছিল শিল্পীর অপ্রকাশিত গানগুলো। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ছাড়াও ‘আলু বেচো’, ‘ছোকরা চাঁদ’, ‘তোমার কি কোনও তুলনা হয়’, ‘সেই মেয়েটি’, ‘ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ’-এর মতো গানও শ্রোতার মন জিতেছে বারবার। তবে নিজের গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার কখনওই পছন্দ করেননি।