ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২ মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী” শহরের লাইট হাউজ এলাকায় রিসোর্ট দখলের ঘটনায় আল-আমিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা : আটক ১ লোহাগাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে বেরিয়ে এলো জালনোটের কারবার : জালনোটসহ ‘কারবারি’ শাহ আলম আটক পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-শপিংমল রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের পেকুয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ জুন-জুলাইয়ের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, পুলিশের অধীনে হবে এসআরবি মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন পরিচয় গোপন রাখা হবে প্লট দখল নিয়ে প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ছফওয়ানের বিবৃতি, আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারি লোহাগাড়ায় ভোররাতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণ-টাকা ও মালামাল লুট গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন মুহিববুল্লাহ সৌদিয়া হোটেল থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার ‘সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে মিলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন’ তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত : দীনেশ ত্রিবেদী

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাডো জিপে কক্সবাজার থেকে নিয়ে যাচ্ছিলো ৩ লাখ ইয়াবা : কুমিল্লায় আটক ২

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?