ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে অপহৃত ৫ কিশোর উদ্ধার বিশ্ব মহাসাগর দিবস উপলক্ষে সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্ন কর্মসূচি রামুতে প্রিতম শর্মা নামের কিশোরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, আদালতে জামিন ফেসবুক থেকে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে বাধ্য করতে আইন করবে সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে পেকুয়ায় প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মাদকের থেকেও ভয়াবহ: মানব পাচারের অন্ধকার বাস্তবতা চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও শিশুসহ নিহত ২, আহত ২০ ১৩ বছর নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুল খালেক সর্দার, সন্ধান চায় পরিবার বিশ্ব মহাসাগর দিবসে ইনানী সৈকতে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচ্ছন্নতা অভিযান বিশ্বকাপে যেসব রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে আছেন মেসি পাহাড়তলীতে দুই খুনের পর পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন জিয়া, অবশেষে ধরা ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে ‘গোল্ডেন সিল্ক রোড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ ২০২৬’ যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে অপহৃত ৫ কিশোর উদ্ধার

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?