ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা টেকনাফের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান ২ আসামি গ্রেফতার কলাতলীতে অজ্ঞাত মরদেহ, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টায় পুলিশ জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন বানানোর অপচেষ্টা চলছে : সাদিক কায়েম বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম ছুঁল ৭৪ লাখ সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস যে সমীকরণে গোল্ডেন বুট জিততে পারেন মেসি আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য- পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে নির্যাতন, পরে উদ্ধার কক্সবাজারে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা থেকে ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ৫৪ বস্তা সার জব্দ, আটক ১ টেকনাফে কিশোরকে অপহরণ, ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড নয়, স্লুইসগেট দেখভাল করবে স্থানীয় প্রশাসন : পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুমের মাঝেই না ফেরার দেশে লোহাগাড়া থানার এসআই আজিজ

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?