ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু রামুর প্রজ্ঞামিত্র বিহারে ৪০তম স্বর্গপুরী উৎসব : পুন্যার্থীর ঢল কক্সবাজারে শুরু হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রেং উৎসব ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টিমের সঙ্গে সাউথ কোরিয়া গেলেন লায়ন মো. মুজিবুর রহমান জমি পরিদর্শনকালে এমপি কাজল- দ্রুত ঈদগাঁওতে আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হবে চসিক স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পাচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী বুলবুল আকতার ফালংজিতে শুরু হলো “থানগ্রেং” পা ফোলা কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নানার বাড়ির পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে ৩ অপহৃত উদ্ধার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ মধ্যরাতে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং নাইক্ষ্যংছড়িতে সেতুর রেলিং থেকে পড়ে যুবকের প্রাণহানি

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?