ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাগু’ গ্রেফতার ৪.১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা লোহাগাড়ায় ঢাকাগামী পর্যটকবাহী বাস উল্টে আহত-১৫ পেকুয়ায় আবু তাহের হত্যাকান্ড: ৭২ঘন্টায়ও দায়ের হয়নি মামলা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রদলের আট কমিটি বিলুপ্ত ২৪ দিন পর অপহৃতকে উদ্ধার করলো র‍্যাব টেকনাফে এক চিকিৎসককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা চলতি বছরেই দেশে ফিরবো: এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা কক্সবাজারে শুরু হয়েছে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উখিয়ায় ১ লাখ ইয়াবাসহ আটক ১, পলাতক ৪ বাংলাদেশ নাম শুনেই থামলেন মার্টিনেজ, বললেন ‘বাংলাদেশের ভক্তদের ভালোবাসি’ চূড়ান্ত হলো নকআউটের ৩২ দল, বিশ্বকাপ থেকে যাদের বিদায় চকরিয়ায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, নিহত ২ ‘এই দেশটিকে আমি ভালোবাসি’, বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন মার্টিনেজ ইনানী সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটক সায়েমের মরদেহ উদ্ধার

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মার বুকে ডুবে থাকা বিবেক

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পদ্মা, বাংলার প্রাণ, জীবনের প্রবাহ, সংযোগের প্রতীক। অথচ সেই পদ্মাই আবার বারবার হয়ে উঠছে মৃত্যুর নিঃশব্দ সাক্ষী। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার এক নির্মম প্রতিফলন।

একটি বাস, প্রায় চল্লিশ জন যাত্রী, চল্লিশটি স্বপ্ন, সবকিছু এক নিমেষে গ্রাস করে নিল পদ্মার গভীরতা। কেউ হয়তো বাড়ি ফিরছিল, কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিল, কেউ হয়তো নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছিল। কিন্তু এই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

এমন ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশের নদীপথে দুর্ঘটনার ইতিহাস দীর্ঘ এবং বেদনাবিধুর। প্রতিবারই আমরা একই দৃশ্য দেখি, হাহাকার, শোক, উদ্ধার অভিযান, তদন্ত কমিটি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই দুর্ঘটনা থামছে না?

ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি নিশ্চিত করা হয়? চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কি যথেষ্ট? নাকি সবকিছুই চলছে একটি অদৃশ্য উদাসীনতার ছায়ায়?

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়, সেই অবকাঠামোর নিরাপদ ব্যবহারে নিশ্চিত হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের গর্ব, কিন্তু নদীপথে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের লজ্জা। এই বৈপরীত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

এই দুর্ঘটনা আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে, আমরা এখনো মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখিনি যথাযথ ভাবে। যতক্ষণ না প্রতিটি প্রাণহানির জন্য দায় নির্ধারণ ও দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই চক্র চলতেই থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধুমাত্র শোক প্রকাশের নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। ফেরিঘাটে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ, প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, এসব আর বিলাসিতা নয়, এটি জরুরি প্রয়োজন।

পদ্মার ঢেউ থেমে থাকবে না, কিন্তু আমরা কি আমাদের অবহেলা থামাতে পারব না?

আজ পদ্মার বুকে শুধু একটি বাস নয়, ডুবে আছে আমাদের বিবেক, আমাদের দায়িত্ববোধ।

প্রশ্ন একটাই, আর কত প্রাণ গেলে আমরা সত্যিই জেগে উঠব?