কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে গভীর রাতে বেপরোয়া গতির একটি পিকআপের ধাক্কায় মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (২২) নামে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম কোটবাজার স্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিউল ইসলাম মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোছাইনের ছেলে। তিনি সড়কের ডিভাইডার নির্মাণকাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফমুখী তরমুজবোঝাই একটি পিকআপ কোটবাজার মধ্যম স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে মাথায় সিমেন্টের ঢালা নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন রবিউল। এ সময় দ্রুতগতির পিকআপটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা পিকআপটিকে আটকের চেষ্টা চালায়। কোটবাজার এলাকা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে উখিয়া থানা ফটকের সামনে কয়েকটি অটোরিকশা দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হলেও চালক গাড়ি না থামিয়ে সেখােনেও সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্তত চারটি যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পালানোর সময় পিকআপটি মহাসড়কে এক ধরনের তাণ্ডব চালায়। সামনে যা পেয়েছে, তা-ই চাপা বা ধাক্কা দিয়েছে। এতে পথচারী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উখিয়া সদরের দোকানদার আমিন শরীফ বলেন, “জীবনে এমন বেপরোয়া গাড়ি চালানো দেখিনি। মনে হচ্ছিল সামনে কেউ পড়লে তাকেও পিষে দেবে।”
কোটবাজার এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি ও কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে পিকআপটির পিছু নেন। তাঁর ভাষায়, “তরমুজবোঝাই পিকআপটি পালানোর সময় রাস্তায় একপ্রকার তাণ্ডব চালিয়েছে। সামনে যা পেয়েছে, দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে।”
শেষ পর্যন্ত রাত ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন নয়াপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় পিকআপটি আটক করা হয়। তবে এ সময় চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
শাহপরী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “দ্রুতগতির পিকআপটি শ্রমিককে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে চলমান নির্মাণকাজের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ প্রতিবেদক: 























