ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হোটেল কক্ষে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বজ্রপাত, আহত ৫ নারী বাসযাত্রীর ব্যাগে মিললো ২.৭ কেজি গাঁজা জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামবাসীর কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. আবদুল হাই এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ পাচারকারীর ফেলে যাওয়া বস্তায় এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা বিতরণ, তদন্তের মুখে এনজিও সওয়াব ভয়াল ২৯ এপ্রিল : এখনো অরক্ষিত বিস্তীর্ণ উপকূল পাঁচ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস একদিনে কক্সবাজারে ৮ প্রাণহানি সেন্টমার্টিনে “ভূতুড়ে জাল ও প্লাস্টিক” সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধন, ১৫০ কেজি ভূতুড়ে জাল সংগ্রহ ৫ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে “বিপজ্জনক এলাকা” নির্দেশক লাল পতাকা কক্সবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ৩১ মিমি বৃষ্টি, ৪ দিনের ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা

দ্রুত বিচার আইনের মামলায় কলাতলীর আলোচিত বেলায়েত কারাগারে

কক্সবাজার সদরের কলাতলীর আলোচিত বেলায়ত হোসেনকে অবশেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালদের বেঞ্চ সহকারি আবদুর রহিম।

বেলায়েত হোসেন (৩৬) ও তার ভাই শহিদুল ইমরান বাপ্পি (২৬) কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় বসবাসকারি মহেশখালীর সিরাজ আহমদের ছেলে।

বেলায়েতের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও দ্রুত বিচার আইনে অন্তত নয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আদালতে আরও ডজনাধিক মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও আদালত সূত্র।

উক্ত মামলার বাদী মেহেদি হাসানের আইনজীবী বাপ্পি শর্মা জানান, এক সময়ে কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তরে মাস্টার রুলে দারোয়ান হিসেবে কাজ করা মহেশখালীর বাসিন্দা সিরাজ আহমদের ছেলে বেলায়ত দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি ও ভূমিদস্যুতায় কলাতলী ও ঝিলংজা এলাকায় ‘ল্যান্ড লর্ড’ হিসেবে পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। জমি কেনাবেচার তথ্য পেলেই বেলায়ত চক্র ভুয়া দলিল তৈরি করে মামলা দায়ের করে। এতে প্রকৃত মালিকরা আইনি জটিলতায় পড়ে শেষ পর্যন্ত আপস করতে বাধ্য হন, বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় (স্পেশাল-৬/২০২০) কারান্তরিণ হন বেলায়েত চক্র। জামিনে বের হয়ে এসে আরো বেপরোয়া হন বেলায়েত। এরপর একের পর এক জমিতে ঝামেলা তৈরী করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। লালন করে টোকাই বাহিনী, নারী অপরাধী দল। তার দলে রয়েছে আইনজীবী, ক্লার্ক, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি, বিভিন্ন এলাকার দাগী আসামী ও চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কোথাও পরিত্রাণ পেত না। অপরাধ করে- চক্রের আইনজীবী, ক্লার্ক ও অন্যদের সহায়তায় ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

অ্যাডভোকেট বাপ্পী জানান, ঝিলংজার কলাতলী এলাকায় গোলাম হাসান নামে এক সার্ভেয়ারের নামে বন্দোবস্ত এক একর ২৭ শতক জমি জবরদখলে বেলায়েত ভূয়া কাগজে একাধিক মামলা করে। বেলায়েত কর্তৃক এডিএম আদালতে করা একটি মামলায় উভয়পক্ষকে আইনশৃংখলা রক্ষা করে শান্তি বজায় রাখতে বলা হয়। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর অকস্মাৎ বেলায়েত ও তার ভাই বাপ্পী এবং স্ত্রীর নেতৃত্বে চলা নারী বাহিনী দিয়ে প্রয়াত গোলাম হাসানের ছেলে সুলতান মেহেদী হাসানের প্লটের নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে (যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে)। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলানোর ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। এ মামলায় ৯এপ্রিল জামিন শুনানী শেষে প্রধান আসামী বেলায়েত হোসেন ও তার ভাই বাপ্পীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্রুত বিচার আইনের মামলায় কলাতলীর আলোচিত বেলায়েত কারাগারে

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজার সদরের কলাতলীর আলোচিত বেলায়ত হোসেনকে অবশেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালদের বেঞ্চ সহকারি আবদুর রহিম।

বেলায়েত হোসেন (৩৬) ও তার ভাই শহিদুল ইমরান বাপ্পি (২৬) কক্সবাজার পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের আদর্শগ্রাম এলাকায় বসবাসকারি মহেশখালীর সিরাজ আহমদের ছেলে।

বেলায়েতের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও দ্রুত বিচার আইনে অন্তত নয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আদালতে আরও ডজনাধিক মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও আদালত সূত্র।

উক্ত মামলার বাদী মেহেদি হাসানের আইনজীবী বাপ্পি শর্মা জানান, এক সময়ে কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তরে মাস্টার রুলে দারোয়ান হিসেবে কাজ করা মহেশখালীর বাসিন্দা সিরাজ আহমদের ছেলে বেলায়ত দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি ও ভূমিদস্যুতায় কলাতলী ও ঝিলংজা এলাকায় ‘ল্যান্ড লর্ড’ হিসেবে পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। জমি কেনাবেচার তথ্য পেলেই বেলায়ত চক্র ভুয়া দলিল তৈরি করে মামলা দায়ের করে। এতে প্রকৃত মালিকরা আইনি জটিলতায় পড়ে শেষ পর্যন্ত আপস করতে বাধ্য হন, বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো জানান, পিবিআই কক্সবাজার কার্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় (স্পেশাল-৬/২০২০) কারান্তরিণ হন বেলায়েত চক্র। জামিনে বের হয়ে এসে আরো বেপরোয়া হন বেলায়েত। এরপর একের পর এক জমিতে ঝামেলা তৈরী করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। লালন করে টোকাই বাহিনী, নারী অপরাধী দল। তার দলে রয়েছে আইনজীবী, ক্লার্ক, সরকারি বিভিন্ন বিভাগের চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারি, বিভিন্ন এলাকার দাগী আসামী ও চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ কোথাও পরিত্রাণ পেত না। অপরাধ করে- চক্রের আইনজীবী, ক্লার্ক ও অন্যদের সহায়তায় ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

অ্যাডভোকেট বাপ্পী জানান, ঝিলংজার কলাতলী এলাকায় গোলাম হাসান নামে এক সার্ভেয়ারের নামে বন্দোবস্ত এক একর ২৭ শতক জমি জবরদখলে বেলায়েত ভূয়া কাগজে একাধিক মামলা করে। বেলায়েত কর্তৃক এডিএম আদালতে করা একটি মামলায় উভয়পক্ষকে আইনশৃংখলা রক্ষা করে শান্তি বজায় রাখতে বলা হয়। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর অকস্মাৎ বেলায়েত ও তার ভাই বাপ্পী এবং স্ত্রীর নেতৃত্বে চলা নারী বাহিনী দিয়ে প্রয়াত গোলাম হাসানের ছেলে সুলতান মেহেদী হাসানের প্লটের নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে (যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে)। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলানোর ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। এ মামলায় ৯এপ্রিল জামিন শুনানী শেষে প্রধান আসামী বেলায়েত হোসেন ও তার ভাই বাপ্পীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ।