৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণী শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই ধারাবাহিকতায় সার্চ কমিটির বাছাইয়ে সারাদেশের ১৫ জন গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইলিয়াস।
তিনি টইটং ইউনিয়নের পূর্ব সোনাইছড়ি রমিজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মোহাম্মদ হোসাইন ও মাতা মমতাজ বেগম।
জানা গেছে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গুণী শিক্ষক বাছাইয়ের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে গুণী শিক্ষক বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে তিনজন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। তাঁদের একজন পেকুয়ার টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইলিয়াস।
শিক্ষকতার পাশাপাশি ক্রীড়া, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। ২০১৬ সালে তাঁর কোচিং প্রশিক্ষণের অধীনে অংশ নেওয়া একটি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে একটি দল জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতার কারণে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক বিভাগ এবং এটুআই এর মাধ্যমে তিনি কক্সবাজার জেলা আইসিটি অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় ২০২২ সালে কক্সবাজার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন মো. ইলিয়াস। একই বছর টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কক্সবাজার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেয়।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্য। চলতি বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় টইটং ইউনিয়নের একমাত্র ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী।
গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে মো. ইলিয়াস বলেন, এ স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। তবে এটিকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছি না, বরং এটি আমার বিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পেকুয়ার মানুষের সম্মিলিত অর্জন। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেওয়া নয়, তাদের নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুণী শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগকে শিক্ষকদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতি ও সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা এবং শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
পেকুয়ার শিক্ষক মো. ইলিয়াস গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পাওয়ায় স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার একজন শিক্ষকের জাতীয় পর্যায়ের এই স্বীকৃতি পেকুয়ার শিক্ষাঙ্গনের জন্য গর্বের। একই সঙ্গে এটি অন্য শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
পেকুয়া প্রতিনিধি: 





















