ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত চকরিয়ার দুই মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ, ‎সন্ধান চায় পরিবার
টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি!

টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।