ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা টানা তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২৭৪১ টাকা লোহাগাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের তদন্তের নির্দেশ পেকুয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের লোহাগাড়ায় ইয়াবা সেবন করে মাকে মারধর, ছেলের এক মাসের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আজিজনগরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাহাড়সম অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাত, জেলের মৃত্যু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ আজ জেলহত্যা দিবস গ্রীষ্মের আগেই গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী এলপিজির দাম বাড়ানোর পর কোন সিলিন্ডার কত  ১২০ কিমি বেগে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’
টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা

টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।