ঢাকা ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় পর্বের ফ্রি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন চলছে নেপাল সফরে গেলেন জেইউসি সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী পেকুয়ায় খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালিত লোহাগাড়ায় পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে নারীর মৃত্যু লামার ফাইতংয়ে ৫ ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা হলদিয়া পালং বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি : কক্সবাজারে রাত ৮টায় শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ গর্জনিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান : ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার রামুতে কোমলমতি শিশু নিকেতনের “বর্ষার ভরসায় জীবনের গান গাই” ৭ম পর্ব অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বড় ঘোষণা মিয়ানমার সরকারের শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী
টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর হোটেল পরিচয়ে পর্যটককে হুমকি: সীগালের সেই ম্যানেজার কামরুল গ্রেফতার

টিআইবি প্রতিবেদন

দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট-বিআরটিএ-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৪

২০২৩ সালে জাতীয়ভাবে প্রাক্কলিত ঘুসের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পরিমাণ অর্থ দেশের মানুষ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা পেতে ঘুস দিয়েছে।

সর্বোচ্চ দুর্নীতি ও ঘুসের হার পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায়।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেবা পেতে খানা বা পরিবারপ্রতি ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। গড় ঘুসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা ও ব্যাংকখাতে। সেবা পেতে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতি ও ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার ঘুসের শিকার হয়েছে।

জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কারণ হিসেবে ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না–একথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।

ফলাফলে আরও বলা হয়, জরিপ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘুস বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।

৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ খানা অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার খানাসমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানার ওপর দুর্নীতির বোঝা অপেক্ষাকৃত বেশি এবং সেবা নিতে গিয়ে উচ্চ আয়ের তুলনায় নিম্ন আয়ের খানা তাদের বার্ষিক আয়ের অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ঘুস দিতে বাধ্য হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, বিচারিক সেবা পেতে পরিবার প্রতি ৩০ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুস দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘুস ১১ হাজার ৭৭৬ টাকা দিতে হয়েছে ভূমি সেবা খাতে। সবচেয়ে বেশি ঘুস ও দুর্নীতি বরিশাল বিভাগে।

৫০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা জানিয়েছে অভিযোগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ ঘটনায় কোনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি প্রতিষ্ঠানগুলো।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম, মোহাম্মদ বদিউজ্জামান প্রমুখ।

৮ বিভাগের ১৫ হাজার ৫১৫টি পরিবারের তথ্য এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিপ পরিচালনা করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুসের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দুর্নীতিবাজদের আগের মতো মানুষ ঘৃণা করে না। দুর্নীতিবাজদের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সভাপতি করা হয়।