ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা নারীকে নৃশংসভাবে পঙ্গু করার চাঞ্চল্যকর মামলার ৩ আসামি র‍্যাবের জালে মাটিতে পুঁতে আলোচিত ছৈয়দ হ/ত্যা, পালংখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, আমাকে বানিয়ে গেছে জিন্দা লাশ-তারিন ৬৬/৩ পানি ব্যবস্হাপনা এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ২ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি শহরে নকল বিদেশি মদ তৈরির কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ১ দেশ থেকে হাম নির্মূলের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামুতে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু: প্রথমদিনেই ২ হাজার শিশুকে টিকা মাদক কারবারির ঘরে ৬০ হাজার ইয়াবা, র‍্যাবের উদ্ধার টেকনাফে বিএনপি অফিসে আগুন ‘মঙ্গলের’ পর ‘আনন্দ’ও বাদ, বর্ষবরণে হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ যিশুর পুনরুত্থান ও সম্প্রীতির ইস্টার সানডে আজ অর্থনীতি এখন প্রতিদিনের সংকট মোকাবিলা করছে : অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়ায় প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এসব বাসিন্দাকে নৌপথে চ্যানেল পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরে যেতে হয়। অধিকাংশ পরিবার জীবিকার জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গমতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেখানে যান না। একই চিত্র কুতুবজোম, মাতারবাড়ী, ছোট মহেশখালী ও শামলাপুর ইউনিয়নেও। ফলে অনেক শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসছে না।

দ্বীপের পরিবেশকর্মী আবদু খালেক বলেন, “প্রায় প্রতিটি পরিবারেই সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। গত দেড়-দুই বছরে এখানে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।”

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, উপকূলীয় এলাকায় টিকা নিয়ে অপপ্রচার ও কুসংস্কারের কারণে এমআর ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সেলিম জানান, জোয়ারিয়ানালা, মিঠাছড়ি ও গর্জনিয়াসহ দুর্গম পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে অন্তত ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

হাসপাতালে চাপ, বাড়ছে মৃত্যু :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৩৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শয্যার হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪২ জন। শয্যা সংকটে একেকটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার বয়স এক বছরের কম। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ইনচার্জ শহিদুল আলম বলেন, মৃত শিশুদের হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া ছিল।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ মো. শাহজাহান নাজির বলেন, “যেসব এলাকায় টিকার আওতা ৮৫ শতাংশের নিচে থাকে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।”

সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৪ লাখ ৫ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে মহেশখালী ও রামুতে ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ইউনিট চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা নারীকে নৃশংসভাবে পঙ্গু করার চাঞ্চল্যকর মামলার ৩ আসামি র‍্যাবের জালে

দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৬:০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সোনাদিয়ায় প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। এসব বাসিন্দাকে নৌপথে চ্যানেল পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদরে যেতে হয়। অধিকাংশ পরিবার জীবিকার জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গমতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেখানে যান না। একই চিত্র কুতুবজোম, মাতারবাড়ী, ছোট মহেশখালী ও শামলাপুর ইউনিয়নেও। ফলে অনেক শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসছে না।

দ্বীপের পরিবেশকর্মী আবদু খালেক বলেন, “প্রায় প্রতিটি পরিবারেই সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। গত দেড়-দুই বছরে এখানে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।”

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, উপকূলীয় এলাকায় টিকা নিয়ে অপপ্রচার ও কুসংস্কারের কারণে এমআর ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে।

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সেলিম জানান, জোয়ারিয়ানালা, মিঠাছড়ি ও গর্জনিয়াসহ দুর্গম পাহাড়ি ইউনিয়নগুলোতে অন্তত ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

হাসপাতালে চাপ, বাড়ছে মৃত্যু :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৩৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শয্যার হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪২ জন। শয্যা সংকটে একেকটি বেডে তিন থেকে চারজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবার বয়স এক বছরের কম। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ইনচার্জ শহিদুল আলম বলেন, মৃত শিশুদের হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া ছিল।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ মো. শাহজাহান নাজির বলেন, “যেসব এলাকায় টিকার আওতা ৮৫ শতাংশের নিচে থাকে, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।”

সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৪ লাখ ৫ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে মহেশখালী ও রামুতে ১ লাখ ২০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক হাম ইউনিট চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।