ঢাকা ০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর ভদ্রপল্লিতে আর ভদ্রতা নেই কক্সবাজারে ৩ দিনের পর্যটন মেলা শুরু হচ্ছে শুক্রবার : যা যা থাকছে টেকনাফে নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর ও চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ, আটক ২ কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ নিখোঁজের ১৫ ঘন্টা পর উদ্ধার হওয়া রামুর স্কুল ছাত্র শাহীনের জানাজা সম্পন্ন জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো আশ্রিত রোহিঙ্গারা পেকুয়ায় মাছ ব্যবসায়ী- আড়ৎদার দ্বন্দ্ব, মাছ বিক্রি বন্ধ কাউন্সিলর একরাম হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি : টেকনাফ সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ইয়াবা উদ্ধার বিমান বাহিনীর ১৩২ তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ মাদকই অপরাধের বড় কারণ, নির্মূলে কাজ করছে সরকার: পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ২য় শাহাদাত বার্ষিকীতে সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক-জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

টেকনাফে বিজিবির মানবপাচার বিরোধী অভিযান: ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ৪

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।

আটককৃতরা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা।

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।

অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু।

বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়।

পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান মন্ত্রী সাচিং প্রুর

টেকনাফে বিজিবির মানবপাচার বিরোধী অভিযান: ৮ রোহিঙ্গা উদ্ধার, আটক ৪

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে সাগর পথে পাচারের সময় আটজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ সময় মানব পাচারকারী চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে বিজিবির ২ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ দল সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকায় মানবপাচারবিরোধী এই অভিযান চালায়।

বিজিবি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয় মানব পাচারকারী চক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের কয়েকজন পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তারা হলো—
আসমা (১৯), শাবনূর (২০), জহুরা (৪৩) ও সাহারা খাতুন (৬২)।

আটককৃতরা সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি পাড়ার বাসিন্দা।

পলাতক আসামির মধ্যে আছেন একই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে কালা বদ্দা (৩০)।

অভিযানে আটজন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং দুই শিশু।

বিজিবি জানায়, তারা সবাই বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

উদ্ধারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবিকে জানায়, পাচারকারীদের সহযোগীরা তাঁদের উচ্চ বেতনের চাকরি, সহজে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আয়ের মাধ্যমে খরচ পরিশোধের প্রলোভন দেখায়।

পরে সুযোগ বুঝে পাচারকারী চক্র তাঁদের বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে আটকে রাখে এবং সাগর পথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিত।

বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে পাচারের পথ কঠিন হয়ে পড়ায় চক্রটি এখন লোকালয় ব্যবহার করছে।

আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাচারকারীদের সক্রিয় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তারা জানিয়েছে।

২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব পাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ। সীমান্ত এলাকায় পাহাড় থেকে সমুদ্র—কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ জায়গা থাকতে দেওয়া হবে না। পাচার প্রতিরোধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

উদ্ধার হওয়া আটজনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে।

সীমান্ত সুরক্ষা ও মানব পাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।