ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম আজ বিজয়া দশমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চর্চায় বিশ্বাসী’ – হিন্দু ক্যাম্পে ত্রাণ সচিব টেকনাফের বাহারছড়ায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে কৃষক রফিককে অপহরণ ধর্মের পরিচয়ে নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান” মহানবমীতে মন্ডপে মন্ডপে মানুষের ঢল ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার চিন্তা রয়েছে সরকারের: মাতামুহুরীতে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ‎ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতির ঘটনায় ‎ছাবের ডাকাতের স্ত্রী সন্তান গ্রেফতার : লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার দেশের বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান সৈকতে : প্রধান অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী টেকনাফে পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ৪ পেকুয়ায় ক্রীড়া সংস্থার কমিটি অনুমোদন: সভাপতি রফিকুল, সম্পাদক ছাফওয়ান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারে হামে ৩ শিশুর মৃত্যু: দুই হাসপাতালে ভর্তি ৪৭ শিশু, বাড়ছে সংক্রমণ

কক্সবাজারে ছোঁয়াচে রোগ হাম আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হলো। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুটি ৯ মাস বয়সী জেসিন, সে মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা নাসিরের কন্যা। এর আগের দিন একই উপজেলার ৭ মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ মৃত শিশুটি হাম ছাড়াও অন্যান্য রোগে ভুগছিল। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল।”

এদিকে জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে হামের প্রকোপ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪২ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। সব মিলিয়ে দুই হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড ও আলাদা নার্সিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ থাকলেও রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি শুরু হয় এবং তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫ টি শিশু ভর্তি রয়েছে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “হাম প্রতিরোধে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

কক্সবাজারে হামে ৩ শিশুর মৃত্যু: দুই হাসপাতালে ভর্তি ৪৭ শিশু, বাড়ছে সংক্রমণ

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে ছোঁয়াচে রোগ হাম আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হলো। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুটি ৯ মাস বয়সী জেসিন, সে মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা নাসিরের কন্যা। এর আগের দিন একই উপজেলার ৭ মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ মৃত শিশুটি হাম ছাড়াও অন্যান্য রোগে ভুগছিল। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল।”

এদিকে জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে হামের প্রকোপ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪২ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। সব মিলিয়ে দুই হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড ও আলাদা নার্সিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ থাকলেও রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি শুরু হয় এবং তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৫ টি শিশু ভর্তি রয়েছে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে বলে জানা গেছে, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “হাম প্রতিরোধে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”