ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু সীমান্তের আরএসও’র গুলির পর বৈঠার আঘাতে রক্তাক্ত স্থানীয় যুবক কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির যাত্রা: নিজস্ব প্রোডাকশনে স্থানীয় সিনেমা নির্মাণ ও সিনেমা হল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রহিম উল্লাহ খান রানা শহর ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আনোয়ারী- “সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে” চকরিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার ৩০ পর্যটক অসুস্থের ঘটনায় আল্-গণিতে যৌথ অভিযান, ৫০ হাজার টাকা দন্ড বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করবে সরকার রাষ্ট্র ও সমাজকে মেরামত করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে ১৩ জেলায় অব্যাহত থাকবে তাপপ্রবাহ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ সাংবাদিক মুজিবকে হেনস্থা- উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের বিবৃতি ও নিন্দা পানের দোকানি থেকে উখিয়া সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি-মুন্নার উত্থান যেভাবে

উড্ডয়নকালে কেন একই খাবার দেয়া হয় না পাইলট ও কো-পাইলট কে?

আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর অজানা এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো — বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটকে একসাথে এক ধরনের খাবার দেওয়া হয় না।

কারণ? নিরাপত্তার স্বার্থে দুজনেই যেন একসাথে অসুস্থ না হন, বিশেষ করে খাদ্যে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) আশঙ্কা থাকলে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স যেমন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, জাপান এয়ারলাইন্স এবং এমিরেটস-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মেনে চলে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার (co-pilot) সম্পূর্ণ আলাদা খাবার গ্রহণ করেন — কখনো আলাদা রন্ধনশৈলীতে তৈরি, কখনো ভিন্ন উৎস থেকে আসা খাবার।

১৯৮২ সালে একটি ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই একই খাবার গ্রহণ করেছিলেন, এবং সেই খাবারেই ছিলো সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। দুজনেই কিছুক্ষণের মধ্যে বমি ও দুর্বলতায় ভুগতে শুরু করেন। ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত সহকারী স্টাফদের সহায়তায় নিরাপদে অবতরণ করলেও, এই ঘটনা বিমান চলাচল জগতে এক বড় সতর্কতা তৈরি করে।

অন্যদিকে, জাপান এয়ারলাইন্স ২০১৩ সালে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক রুটে ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটকে ভিন্ন মেন্যু থেকে খাবার বেছে নিতে বলা হয়। পাইলট যদি “জাপানিজ মিল” নেন, কো-পাইলটকে নিতে হবে “ওয়েস্টার্ন মিল”।

ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই যদি একই উৎসের খাবার খান এবং তা দূষিত হয়, তাহলে উভয়েরই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

বিমানের মাঝ আকাশে পাইলট-সহ পুরো ককপিট টিমের অসুস্থ হওয়া মানে বিপদের শঙ্কা, এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সেজন্য এই নীতি গোপনে হলেও বহু বছর ধরে কার্যকর রয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিমানের প্রতিটি বিষয়েই রয়েছে নিরাপত্তার উপর বাড়তি গুরুত্ব। খাবার সম্পর্কেও এমন নীতিমালা কেবলমাত্র যাত্রী নয়, বরং পুরো ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।”

যাত্রীদের সেবা ও পাইলটদের সুস্থতা — উভয়ই এভিয়েশন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটের খাবার আলাদা রাখা যেন এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হয়ে উঠেছে আধুনিক বিমান পরিবহনে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু

উড্ডয়নকালে কেন একই খাবার দেয়া হয় না পাইলট ও কো-পাইলট কে?

আপডেট সময় : ০২:২৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫

আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর অজানা এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো — বিমানের পাইলট ও কো-পাইলটকে একসাথে এক ধরনের খাবার দেওয়া হয় না।

কারণ? নিরাপত্তার স্বার্থে দুজনেই যেন একসাথে অসুস্থ না হন, বিশেষ করে খাদ্যে বিষক্রিয়ার (Food Poisoning) আশঙ্কা থাকলে। বিশ্বের অনেক শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্স যেমন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, জাপান এয়ারলাইন্স এবং এমিরেটস-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম মেনে চলে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন এবং ফার্স্ট অফিসার (co-pilot) সম্পূর্ণ আলাদা খাবার গ্রহণ করেন — কখনো আলাদা রন্ধনশৈলীতে তৈরি, কখনো ভিন্ন উৎস থেকে আসা খাবার।

১৯৮২ সালে একটি ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই একই খাবার গ্রহণ করেছিলেন, এবং সেই খাবারেই ছিলো সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। দুজনেই কিছুক্ষণের মধ্যে বমি ও দুর্বলতায় ভুগতে শুরু করেন। ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত সহকারী স্টাফদের সহায়তায় নিরাপদে অবতরণ করলেও, এই ঘটনা বিমান চলাচল জগতে এক বড় সতর্কতা তৈরি করে।

অন্যদিকে, জাপান এয়ারলাইন্স ২০১৩ সালে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক রুটে ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটকে ভিন্ন মেন্যু থেকে খাবার বেছে নিতে বলা হয়। পাইলট যদি “জাপানিজ মিল” নেন, কো-পাইলটকে নিতে হবে “ওয়েস্টার্ন মিল”।

ফ্লাইটে দুইজন পাইলটই যদি একই উৎসের খাবার খান এবং তা দূষিত হয়, তাহলে উভয়েরই অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

বিমানের মাঝ আকাশে পাইলট-সহ পুরো ককপিট টিমের অসুস্থ হওয়া মানে বিপদের শঙ্কা, এমনকি দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। সেজন্য এই নীতি গোপনে হলেও বহু বছর ধরে কার্যকর রয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিমানের প্রতিটি বিষয়েই রয়েছে নিরাপত্তার উপর বাড়তি গুরুত্ব। খাবার সম্পর্কেও এমন নীতিমালা কেবলমাত্র যাত্রী নয়, বরং পুরো ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে।”

যাত্রীদের সেবা ও পাইলটদের সুস্থতা — উভয়ই এভিয়েশন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলটের খাবার আলাদা রাখা যেন এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি হয়ে উঠেছে আধুনিক বিমান পরিবহনে।