ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দাম বাড়ছেই, হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসবে বড় বিপদ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর ‘আগের অবস্থায়’ ফিরবে না: ইরান সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ১৭ প্রকল্প এবার পুরো ইরান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলেন ট্রাম্প চৌফলদন্ডীতে ৬০ বছরের বৃদ্ধা গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইস্টার সানডে উদযাপিত: সম্প্রীতি ও আলোর বার্তা রোহিঙ্গা নারীকে নৃশংসভাবে পঙ্গু করার চাঞ্চল্যকর মামলার ৩ আসামি র‍্যাবের জালে মাটিতে পুঁতে আলোচিত ছৈয়দ হ/ত্যা, পালংখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা খোরশেদ মরে গিয়ে বেঁচে গেছে, আমাকে বানিয়ে গেছে জিন্দা লাশ-তারিন ৬৬/৩ পানি ব্যবস্হাপনা এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ২ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুর্গম এলাকায় টিকা ঘাটতি, বাড়ছে ঝুঁকি শহরে নকল বিদেশি মদ তৈরির কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ১

উখিয়ায় দুই ভাইয়ের পাহাড় নিধন: একই জায়গায় আবারো শ্রমিকের মৃত্যু

উখিয়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সময় পাহাড় ধসে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ির কাসেম মার্কেট এলাকার সমিতি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি ভোরবেলা
একই জায়গায় পাহাড় কাটার সময় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত জালিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাইন্যাশিয়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের উপর পাহাড় ধ্বসে নির্মম মৃত্যু হয়।এরপরেও থামেনি পাহাড় কাটা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শুক্রবার ভোররাতে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় অন্ধকারে পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে নুরুল আমিন মাটিচাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত নুরুল আমিন উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার মীর আহমদের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সোনাইছড়ির আবুল কাসেমের
(দোবাই কাসেম) ছেলে হেলাল উদ্দিন (৫২) ও সরওয়ার (৪৭) আপন এই দুই ভাই মিলে ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করে আসছে। এই দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন তিনটি ড্রাম ট্রাক নিয়ে প্রতি রাতেই পাহাড়ের মাটি কেটে মেরিনড্রাইভে পাচার করে। শুক্রবার একই জায়গা থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক করে মেরিনড্রাইভের দিকে পাচারের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) দুর্জয় সরকার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইনানী রেঞ্জের অধীনে বিনবিভাগের ওই বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, শুক্রবার ভোররাত তিনটার সময় অভিযুক্ত হেলাল এবং সরোয়ারের ড্রাম ট্রাক (ডাম্পার) মাটি কাটার সময় ধাওয়া করলে গাড়ি দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়, পরে সাড়ে তিনটা নাগাদ তারা ডিউটি শেষ করে চলে আসলে আবারো তারা মাটি কাটা শুরু করে, ভোররাত ৪ টা ৩০ মিনিটের পর মাটিচাপা পড়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

এদিকে একই জায়গায় ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারী পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে মুসলিম উদ্দিন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায়ও হেলাল উদ্দিন দায়ী ছিলো, সেসময়ও বন আইনে তাঁর বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, হেলাল উদ্দিন এবং তার ভাই সরোয়ারের নামে বন আইনে ৫ টি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ১টিসহ মোট ৬ টি মামলা আছে, এরপরেও পাহাড়ের মাটি কাটা থামেনি তাদের।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান হেলালকে ১ নং ও তার ভাই সরওয়ারকে ২নং আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করেন।

তাছাড়া এ ঘটনার কয়েকদিন আগে বিটকর্মকর্তা রোকনুজ্জামান গিয়ে পাহাড়ের ওই জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ-আল-আমিন জানান, ভোররাতে আমাদের কর্মকর্তারা ডিউটি শেষ করে অফিসে ফেরার পরই পাহাড় কাটার কাজ শুরু করা হয়। এ সময় পাহাড়ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।পাহাড়া কাটার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত হেলালের বিরুদ্ধে এর আগেও বন আইনে পাঁচটি মামলা করা আছে ৷পরিবেশের আছে একটি, এই ঘটনায়ও জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে একই জায়গায় পরপর দুটি মৃত্যু এবং অব্যাহত পাহাড় কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

দাম বাড়ছেই, হরমুজ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে আসবে বড় বিপদ

উখিয়ায় দুই ভাইয়ের পাহাড় নিধন: একই জায়গায় আবারো শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৫:১৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

উখিয়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সময় পাহাড় ধসে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ির কাসেম মার্কেট এলাকার সমিতি পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি ভোরবেলা
একই জায়গায় পাহাড় কাটার সময় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত জালিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাইন্যাশিয়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের উপর পাহাড় ধ্বসে নির্মম মৃত্যু হয়।এরপরেও থামেনি পাহাড় কাটা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, শুক্রবার ভোররাতে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় অন্ধকারে পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে নুরুল আমিন মাটিচাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত নুরুল আমিন উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকার মীর আহমদের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সোনাইছড়ির আবুল কাসেমের
(দোবাই কাসেম) ছেলে হেলাল উদ্দিন (৫২) ও সরওয়ার (৪৭) আপন এই দুই ভাই মিলে ওই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করে আসছে। এই দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন তিনটি ড্রাম ট্রাক নিয়ে প্রতি রাতেই পাহাড়ের মাটি কেটে মেরিনড্রাইভে পাচার করে। শুক্রবার একই জায়গা থেকে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাক করে মেরিনড্রাইভের দিকে পাচারের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) দুর্জয় সরকার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইনানী রেঞ্জের অধীনে বিনবিভাগের ওই বিটের দায়িত্বে থাকা বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, শুক্রবার ভোররাত তিনটার সময় অভিযুক্ত হেলাল এবং সরোয়ারের ড্রাম ট্রাক (ডাম্পার) মাটি কাটার সময় ধাওয়া করলে গাড়ি দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়, পরে সাড়ে তিনটা নাগাদ তারা ডিউটি শেষ করে চলে আসলে আবারো তারা মাটি কাটা শুরু করে, ভোররাত ৪ টা ৩০ মিনিটের পর মাটিচাপা পড়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

এদিকে একই জায়গায় ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারী পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে মুসলিম উদ্দিন নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায়ও হেলাল উদ্দিন দায়ী ছিলো, সেসময়ও বন আইনে তাঁর বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, হেলাল উদ্দিন এবং তার ভাই সরোয়ারের নামে বন আইনে ৫ টি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ১টিসহ মোট ৬ টি মামলা আছে, এরপরেও পাহাড়ের মাটি কাটা থামেনি তাদের।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান হেলালকে ১ নং ও তার ভাই সরওয়ারকে ২নং আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করেন।

তাছাড়া এ ঘটনার কয়েকদিন আগে বিটকর্মকর্তা রোকনুজ্জামান গিয়ে পাহাড়ের ওই জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ-আল-আমিন জানান, ভোররাতে আমাদের কর্মকর্তারা ডিউটি শেষ করে অফিসে ফেরার পরই পাহাড় কাটার কাজ শুরু করা হয়। এ সময় পাহাড়ধসে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।পাহাড়া কাটার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত হেলালের বিরুদ্ধে এর আগেও বন আইনে পাঁচটি মামলা করা আছে ৷পরিবেশের আছে একটি, এই ঘটনায়ও জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে একই জায়গায় পরপর দুটি মৃত্যু এবং অব্যাহত পাহাড় কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।