ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু টেকনাফে দুই বোটসহ ৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি পেকুয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষ: দুই যাত্রীর মৃত্যু কুতুবদিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হলেন সাংবাদিক আবুল কাশেম রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনে ইইউর সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মনছুর আটক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি কাজল -রোহিঙ্গা ক্যাম্প মাদক ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির হেড কোয়ার্টার শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫’র পেছনে না ছুটে, সৃজনশীল হোক: শিক্ষামন্ত্রী গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্তে ১১ স্কাইডাইভার ও পাইলট নিহত

খেজুর দূর করবে রোজার ক্লান্তি

পবিত্র আল কোরআনে যতগুলো ফলের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে খেজুর অন্যতম। খেজুর এতটাই পুষ্টিকর ও উপকারী যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এ ফলটিকে রাখার কথা বলেন পুষ্টিবিদেরা। আজ আমরা একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক আয়োজনে খেজুরের পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আজমেরী রহমান। এখন চলছে পবিত্র রজমান। এ সময় খেজুর খাওয়া বেশ উপকারী। আজমেরী রহমান বলেন, সারা দিনের রোজার ক্লান্তির অবসান ঘটাতে খেজুরের জুড়ি নেই। খেজুরের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। তবে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে, দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার ফলে অনেকের পেটে গ্যাস জমে। যদি কেউ ইফতারিতে ভারী খাবার গ্রহণের পূর্বে দুটি খেজুর খেয়ে নেন, তাহলে কিন্তু পেটের গ্যাস কমে যাবে।

আজমেরী রহমান বলেন, এখন অনেকে সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খেজুর কিন্তু এ ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করবে। যদি কেউ দুটি খেজুর গ্রহণ করে থাকে, তার সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের মুক্তি ঘটবে। কীভাবে? আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। এর উত্তর, এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের সাথে লড়াই করতে পারে। খেজুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, কপার, পটাশিয়াম, ক্লোরিন, ফাইবার; যা শরীরের সকল ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে, খেজুরে রয়েছে গ্লুকোজ বা ন্যাচারাল সুগার, যা আপনার দীর্ঘক্ষণের ক্লান্তি মেটাতে খুব সাহায্য করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে শুধু পেটে গ্যাসই জমে না, অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগে আক্রান্ত হন। সে ক্ষেত্রে খেজুরে বিদ্যমান ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে লড়াই করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। কারণ, খেজুরে বিদ্যমান ভিটামিন ও মিনারেলস মায়ের দুধের পুষ্টি জোগায় এবং এর মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার গবেষণা থেকে জানা যায়, খেজুরে বিদ্যমান ডায়েটারি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফেনোলিক্স মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। এবং এর পলিফেনোলিক কমপাউন্ড ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার রোগকে ধীরকরণে সাহায্য করে। যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তারা দুই থেকে তিনটি খেজুর গ্রহণ করতে পারেন। এর আয়রন আপনার রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। খেজুরে গ্লাইসোমিক ইনডেক্স কম, যে কারণে এ ফলটি ধীরে ধীরে হজম হয়। বুঝতেই পারছেন, ডায়াবেটিক রোগীরা নিঃসন্দেহে খেজুর গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া খেজুর হৃদরোগ, দাঁতক্ষয়, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের সমস্যা সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে। ভাবুন তো, মহান আল্লাহতায়ালা এক খেজুরে কত পুষ্টি দিয়েছেন। আমরা কেউই চাই না এ ধরনের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে। তাই রমজান ছাড়াও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি হলেও খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করুন।

সুত্র: এনটিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী

খেজুর দূর করবে রোজার ক্লান্তি

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পবিত্র আল কোরআনে যতগুলো ফলের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে খেজুর অন্যতম। খেজুর এতটাই পুষ্টিকর ও উপকারী যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এ ফলটিকে রাখার কথা বলেন পুষ্টিবিদেরা। আজ আমরা একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক আয়োজনে খেজুরের পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আজমেরী রহমান। এখন চলছে পবিত্র রজমান। এ সময় খেজুর খাওয়া বেশ উপকারী। আজমেরী রহমান বলেন, সারা দিনের রোজার ক্লান্তির অবসান ঘটাতে খেজুরের জুড়ি নেই। খেজুরের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। তবে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে, দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার ফলে অনেকের পেটে গ্যাস জমে। যদি কেউ ইফতারিতে ভারী খাবার গ্রহণের পূর্বে দুটি খেজুর খেয়ে নেন, তাহলে কিন্তু পেটের গ্যাস কমে যাবে।

আজমেরী রহমান বলেন, এখন অনেকে সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খেজুর কিন্তু এ ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করবে। যদি কেউ দুটি খেজুর গ্রহণ করে থাকে, তার সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের মুক্তি ঘটবে। কীভাবে? আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। এর উত্তর, এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের সাথে লড়াই করতে পারে। খেজুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, কপার, পটাশিয়াম, ক্লোরিন, ফাইবার; যা শরীরের সকল ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে, খেজুরে রয়েছে গ্লুকোজ বা ন্যাচারাল সুগার, যা আপনার দীর্ঘক্ষণের ক্লান্তি মেটাতে খুব সাহায্য করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে শুধু পেটে গ্যাসই জমে না, অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগে আক্রান্ত হন। সে ক্ষেত্রে খেজুরে বিদ্যমান ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে লড়াই করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। কারণ, খেজুরে বিদ্যমান ভিটামিন ও মিনারেলস মায়ের দুধের পুষ্টি জোগায় এবং এর মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার গবেষণা থেকে জানা যায়, খেজুরে বিদ্যমান ডায়েটারি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফেনোলিক্স মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। এবং এর পলিফেনোলিক কমপাউন্ড ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার রোগকে ধীরকরণে সাহায্য করে। যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তারা দুই থেকে তিনটি খেজুর গ্রহণ করতে পারেন। এর আয়রন আপনার রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। খেজুরে গ্লাইসোমিক ইনডেক্স কম, যে কারণে এ ফলটি ধীরে ধীরে হজম হয়। বুঝতেই পারছেন, ডায়াবেটিক রোগীরা নিঃসন্দেহে খেজুর গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া খেজুর হৃদরোগ, দাঁতক্ষয়, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের সমস্যা সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে। ভাবুন তো, মহান আল্লাহতায়ালা এক খেজুরে কত পুষ্টি দিয়েছেন। আমরা কেউই চাই না এ ধরনের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে। তাই রমজান ছাড়াও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি হলেও খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করুন।

সুত্র: এনটিভি