ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎লাখ টাকার মিশনে নেমেও ঈদে বাড়ি ফেরা হলোনা শাহীন ডাকাতের:ফের আটক ডিবির হাতে জাতীয় দলে ফিরলেন চকরিয়ার জিকু শিল্পী রাজীব বড়ুয়া পরলোকে, শেষকৃত্য সম্পন্ন আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলির ঘটনায় উদ্বেগ জেলা আইনজীবী সমিতির,পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জামিনে বেরিয়ে ফের আটক গর্জনিয়ার আলোচিত শাহীন ডাকাত টেকনাফে টাকা দিয়ে সাংবাদিক কার্ড সংগ্রহ, ইয়াবা পাচারে আটক ভুয়া সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের কোনো অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না, নির্মূল করা হবে ঈদের আনন্দ কেড়ে নিল আগুন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার চকরিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় নছিমন চালক নিহত পেকুয়ায় বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন শহরে নিরাপত্তা ও সেবায় বিশেষ উদ্যোগ কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের দুই জামাত সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় পবিত্র হজ আজ সীমান্ত শহরে ব্রাজিল উন্মাদনা মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট, যানজটে ভোগান্তি

খেজুর দূর করবে রোজার ক্লান্তি

পবিত্র আল কোরআনে যতগুলো ফলের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে খেজুর অন্যতম। খেজুর এতটাই পুষ্টিকর ও উপকারী যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এ ফলটিকে রাখার কথা বলেন পুষ্টিবিদেরা। আজ আমরা একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক আয়োজনে খেজুরের পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আজমেরী রহমান। এখন চলছে পবিত্র রজমান। এ সময় খেজুর খাওয়া বেশ উপকারী। আজমেরী রহমান বলেন, সারা দিনের রোজার ক্লান্তির অবসান ঘটাতে খেজুরের জুড়ি নেই। খেজুরের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। তবে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে, দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার ফলে অনেকের পেটে গ্যাস জমে। যদি কেউ ইফতারিতে ভারী খাবার গ্রহণের পূর্বে দুটি খেজুর খেয়ে নেন, তাহলে কিন্তু পেটের গ্যাস কমে যাবে।

আজমেরী রহমান বলেন, এখন অনেকে সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খেজুর কিন্তু এ ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করবে। যদি কেউ দুটি খেজুর গ্রহণ করে থাকে, তার সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের মুক্তি ঘটবে। কীভাবে? আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। এর উত্তর, এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের সাথে লড়াই করতে পারে। খেজুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, কপার, পটাশিয়াম, ক্লোরিন, ফাইবার; যা শরীরের সকল ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে, খেজুরে রয়েছে গ্লুকোজ বা ন্যাচারাল সুগার, যা আপনার দীর্ঘক্ষণের ক্লান্তি মেটাতে খুব সাহায্য করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে শুধু পেটে গ্যাসই জমে না, অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগে আক্রান্ত হন। সে ক্ষেত্রে খেজুরে বিদ্যমান ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে লড়াই করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। কারণ, খেজুরে বিদ্যমান ভিটামিন ও মিনারেলস মায়ের দুধের পুষ্টি জোগায় এবং এর মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার গবেষণা থেকে জানা যায়, খেজুরে বিদ্যমান ডায়েটারি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফেনোলিক্স মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। এবং এর পলিফেনোলিক কমপাউন্ড ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার রোগকে ধীরকরণে সাহায্য করে। যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তারা দুই থেকে তিনটি খেজুর গ্রহণ করতে পারেন। এর আয়রন আপনার রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। খেজুরে গ্লাইসোমিক ইনডেক্স কম, যে কারণে এ ফলটি ধীরে ধীরে হজম হয়। বুঝতেই পারছেন, ডায়াবেটিক রোগীরা নিঃসন্দেহে খেজুর গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া খেজুর হৃদরোগ, দাঁতক্ষয়, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের সমস্যা সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে। ভাবুন তো, মহান আল্লাহতায়ালা এক খেজুরে কত পুষ্টি দিয়েছেন। আমরা কেউই চাই না এ ধরনের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে। তাই রমজান ছাড়াও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি হলেও খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করুন।

সুত্র: এনটিভি

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎লাখ টাকার মিশনে নেমেও ঈদে বাড়ি ফেরা হলোনা শাহীন ডাকাতের:ফের আটক ডিবির হাতে

খেজুর দূর করবে রোজার ক্লান্তি

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পবিত্র আল কোরআনে যতগুলো ফলের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে খেজুর অন্যতম। খেজুর এতটাই পুষ্টিকর ও উপকারী যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এ ফলটিকে রাখার কথা বলেন পুষ্টিবিদেরা। আজ আমরা একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক আয়োজনে খেজুরের পুষ্টিগুণ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আজমেরী রহমান। এখন চলছে পবিত্র রজমান। এ সময় খেজুর খাওয়া বেশ উপকারী। আজমেরী রহমান বলেন, সারা দিনের রোজার ক্লান্তির অবসান ঘটাতে খেজুরের জুড়ি নেই। খেজুরের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। তবে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে, দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার ফলে অনেকের পেটে গ্যাস জমে। যদি কেউ ইফতারিতে ভারী খাবার গ্রহণের পূর্বে দুটি খেজুর খেয়ে নেন, তাহলে কিন্তু পেটের গ্যাস কমে যাবে।

আজমেরী রহমান বলেন, এখন অনেকে সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। খেজুর কিন্তু এ ক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করবে। যদি কেউ দুটি খেজুর গ্রহণ করে থাকে, তার সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের মুক্তি ঘটবে। কীভাবে? আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। এর উত্তর, এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সর্দি-কাশি-কফজনিত রোগের সাথে লড়াই করতে পারে। খেজুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, কপার, পটাশিয়াম, ক্লোরিন, ফাইবার; যা শরীরের সকল ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞের মতে, খেজুরে রয়েছে গ্লুকোজ বা ন্যাচারাল সুগার, যা আপনার দীর্ঘক্ষণের ক্লান্তি মেটাতে খুব সাহায্য করে থাকে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে শুধু পেটে গ্যাসই জমে না, অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগে আক্রান্ত হন। সে ক্ষেত্রে খেজুরে বিদ্যমান ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে লড়াই করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য খুবই উপকারী। কারণ, খেজুরে বিদ্যমান ভিটামিন ও মিনারেলস মায়ের দুধের পুষ্টি জোগায় এবং এর মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার গবেষণা থেকে জানা যায়, খেজুরে বিদ্যমান ডায়েটারি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফেনোলিক্স মস্তিষ্ক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। এবং এর পলিফেনোলিক কমপাউন্ড ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার রোগকে ধীরকরণে সাহায্য করে। যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তারা দুই থেকে তিনটি খেজুর গ্রহণ করতে পারেন। এর আয়রন আপনার রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। খেজুরে গ্লাইসোমিক ইনডেক্স কম, যে কারণে এ ফলটি ধীরে ধীরে হজম হয়। বুঝতেই পারছেন, ডায়াবেটিক রোগীরা নিঃসন্দেহে খেজুর গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া খেজুর হৃদরোগ, দাঁতক্ষয়, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি রোগের সমস্যা সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে। ভাবুন তো, মহান আল্লাহতায়ালা এক খেজুরে কত পুষ্টি দিয়েছেন। আমরা কেউই চাই না এ ধরনের পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে। তাই রমজান ছাড়াও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি হলেও খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করুন।

সুত্র: এনটিভি