ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার হেরেও রেকর্ড করলো মহেশখালী উপজেলা ফুটবল দল পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেনারেটরে ওড়না পেঁচিয়ে আইওএমের নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু ২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: বিদেশি এসএমজি উদ্ধার, ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক দর্শকের ঢল সামলাতে ব্যর্থ জেলা স্টেডিয়াম: আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি! উখিয়ায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগ চকরিয়ায় বসতঘরে অভিযান, ইয়াবা-গাঁজা ও নগদ টাকাসহ নারী কারবারি গ্রেপ্তার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে খেলতে চায় ব্রাজিল বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা

ঈদের ছুটিতে ১০ দিনে সড়কে নিভে গেলো ২৭৪ প্রাণ

ঈদ মানেই আনন্দ, প্রিয়জনের কাছে ফেরার উচ্ছ্বাস, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই এবার পরিণত হয়েছে শোকের মিছিলে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের ঢলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনা একটি নয়, দুটি নয়, দেশজুড়ে প্রতিদিনই ঘটেছে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে গত ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২৪৯ জন। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার সড়কে মৃত্যু বেশি।

ঈদের ছুটি চলাকালীন সময়ে ২১ মার্চ দিবাগত রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাস ডুবে ২৬ জন নিহত হন।

জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআরটিএ)। তাদের হিসাবে, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় ২১৭ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশের এক গবেষণায় বলা হয়, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। যা মোট দুর্ঘটনার ৪২ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ‘রিসার্চ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগ ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নিয়ে ওই গবেষণা করেছিল। এই গবেষণায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ যুক্ত ছিল।

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের সময় সড়কে গাড়ির বাড়তি চাপ থাকে, এতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই ঈদের সময় সড়ক ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

তবে এবার সড়কে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না বলেই দাবি করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যাই বলে দিচ্ছে এবার ব্যবস্থাপনা কেমন ছিল। ব্যবস্থাপনা যেটুকু ছিল, সেটিও ভেঙে যাচ্ছে।

সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুসারে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করে দেশীয় সংস্থাগুলো। হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু এই হিসাবে আসে না।

তবে সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোরালো উদ্যোগ নেই। মাঝেমধ্যে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হয়, কিছু জরিমানা হয়; কিন্তু পরিকল্পিত ও সমন্বিত কোনো কার্যক্রম চালানো হয় না।

এ বিষয়ে সড়ক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণগুলো কী, তা বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে; কিন্তু ব্যবস্থাপনাগত উদ্যোগের বদলে অবকাঠামো নির্মাণ ও নানা ধরনের প্রকল্প নেওয়ার আগ্রহ অতীতে বেশি দেখা গেছে। ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় যান চলাচল বন্ধ এবং যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত ও নিয়মিত অভিযান। এসব ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়েছে।

সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

ঈদের ছুটিতে ১০ দিনে সড়কে নিভে গেলো ২৭৪ প্রাণ

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঈদ মানেই আনন্দ, প্রিয়জনের কাছে ফেরার উচ্ছ্বাস, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রাই এবার পরিণত হয়েছে শোকের মিছিলে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘরমুখো মানুষের ঢলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনা একটি নয়, দুটি নয়, দেশজুড়ে প্রতিদিনই ঘটেছে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে গত ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ২৪৯ জন। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার সড়কে মৃত্যু বেশি।

ঈদের ছুটি চলাকালীন সময়ে ২১ মার্চ দিবাগত রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাস ডুবে ২৬ জন নিহত হন।

জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআরটিএ)। তাদের হিসাবে, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় ২১৭ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে পুলিশের এক গবেষণায় বলা হয়, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। যা মোট দুর্ঘটনার ৪২ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের ‘রিসার্চ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগ ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চ্যালেঞ্জ ও কৌশল নিয়ে ওই গবেষণা করেছিল। এই গবেষণায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ যুক্ত ছিল।

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের সময় সড়কে গাড়ির বাড়তি চাপ থাকে, এতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই ঈদের সময় সড়ক ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষকে বাড়তি নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

তবে এবার সড়কে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাপনা ছিল না বলেই দাবি করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যাই বলে দিচ্ছে এবার ব্যবস্থাপনা কেমন ছিল। ব্যবস্থাপনা যেটুকু ছিল, সেটিও ভেঙে যাচ্ছে।

সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুসারে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব করে দেশীয় সংস্থাগুলো। হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু এই হিসাবে আসে না।

তবে সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জোরালো উদ্যোগ নেই। মাঝেমধ্যে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হয়, কিছু জরিমানা হয়; কিন্তু পরিকল্পিত ও সমন্বিত কোনো কার্যক্রম চালানো হয় না।

এ বিষয়ে সড়ক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণগুলো কী, তা বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে; কিন্তু ব্যবস্থাপনাগত উদ্যোগের বদলে অবকাঠামো নির্মাণ ও নানা ধরনের প্রকল্প নেওয়ার আগ্রহ অতীতে বেশি দেখা গেছে। ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় যান চলাচল বন্ধ এবং যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালানো বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত ও নিয়মিত অভিযান। এসব ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়েছে।

সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক