যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা ইরানে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
‘তীব্র গুলির লড়াইয়ের পর’ ওই ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা, খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের ওই ক্রুকে উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করে টুইট করেছেন। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই দুই ক্রুসহ ভূপাতিত হয়।
বিমানটির পাইলটকে আগেই উদ্ধার করার দাবি করেছিল ওয়াশিংটন। নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয় এই ক্রু, গণমাধ্যমে যাকে একজন ‘অস্ত্র কর্মকর্তা’ বলা হচ্ছে।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমরা তাকে পেয়েছি! আমার প্রিয় আমেরিকানরা, আমাদের এক অতিমানব ক্রু সদস্য কর্মকর্তার জন্য গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে দুঃসাহসিক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। তিনি সম্ভবত অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন কর্নেল। আমি রোমাঞ্চের সঙ্গে জানাচ্ছি তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন!
ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ক্রুস সদস্য জখম হলেও বেঁচে আছেন আর ভালো হয়ে যাবেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাকে উদ্ধার করা হলেও এখনও নিরাপদ করা যায়নি। উদ্ধারকারী দলটিকে এখন ইরানকে থেকে তুলে নিয়ে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
কিন্তু ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাদের স্পেশাল ফোর্সেসের সদস্যরা ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরে ঢুকে ওই এয়ারম্যানকে উদ্ধার করে, তাকে উড়িয়ে দেশটির বাইরে নিয়ে আসা হয়েছে আর এখন নিরাপদ আছেন।
এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের কয়েকশ সেনা এই অভিযানে অংশ নিয়েছে আর তীব্র লড়াইয়ের পর ওই ক্রুকে উদ্ধার করেছে। তবে ইরান এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
তাদের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর দুই দিন ধরে এই মার্কিন ক্রু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন। তার সঙ্গী পাইলটকে আগেই উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাটকীয় এই উদ্ধার অভিযান রাতের অন্ধকারে শুরু হলেও শেষ হয়েছে দিনের বেলায়। পুরো অভিযানটি নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইরানিরা ওই মার্কিন এয়ারম্যানের দিকে এগিয়ে আসছিল, এতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয় আর এরমধ্যেই তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই এয়ারম্যানকে উদ্ধার করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘বহু আকাশযান পাঠিয়েছিল আর সেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল’।
এই অভিযান কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ইরানের আকাশে ‘মার্কিন বিমান বাহিনী অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে’ আর এটি আবারও প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 

























