ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ শাহপরীরদ্বীপে সাগরে ভেসে এলো অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ প্রেসক্লাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ম্যাজিস্ট্রেট এড়িয়ে গেলেও ডিসি বললেন- অগোচরে চলছিল প্যারাসেইলিং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, আসছে আরও নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ঈদগাঁওয়ে প্রাইভেটকারে ৭৬ কেজি গাঁজা, একাধিক মামলার আসামিসহ আটক ২ নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরছে, বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মায়ের দুধেই শিশুর সুরক্ষা, আজ থেকে শুরু বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ  মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার জব্দ, আটক ২৩ সাড়ে ৬ বছরে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ হাজার ৩৮৪ জন Scars Still Fresh, Yet Flood Victims in Chakaria Strive to Rebuild Their Lives এখনো মুছেনি ক্ষত, তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় চকরিয়ার বন্যা দুর্গতরা রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ: মালয়েশিয়ার নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিবৃতি

অস্থায়ী ইজারায় সরকারি জমি দখল করলেন বিএনপি নেতা ফোরকান!

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে কোরবানির পশুরহাটের জন্য অস্থায়ীভাবে ইজারা নেওয়া সরকারি জমি দখল করে সেখানে গরুর খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইজারাদারের বিরুদ্ধে। অস্থায়ী ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমি দখলে রেখে স্থাপনা নির্মাণ ও গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালুখালীর কাস্টম এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাঁশ, টিন ও ত্রিপল দিয়ে দীর্ঘাকৃতির ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিককে গরুর দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বালুখালীর বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ফোরকান চৌধুরী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বালুখালী কাস্টমঘাট এলাকায় অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেয় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। ওই হাটের ইজারা নেন বালুখালী বাজারের ইজারাদার ফোরকান চৌধুরী। তবে ঈদ শেষে হাটের অবকাঠামো অপসারণ না করে সেখানে গরু রাখার জন্য স্থায়ী ধরনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উখিয়াঘাট মৌজার আরএস দাগ নম্বর-৪৮ এবং বিএস দাগ নম্বর-১৬৩ভুক্ত জমিটি কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। কোরবানির পশুরহাট বসানোর আগেও সেখানে বৈশাখী মেলা ও ঐতিহ্যবাহী বলি খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হতো।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী আব্দুস সাত্তার বলেন, পশুরহাট স্থাপনের সময়ই তাঁরা মাঠটি হারানোর আশঙ্কা করেছিলেন। কারণ এলাকাটিতে বিকল্প কোনো খেলার মাঠ নেই। তাঁর অভিযোগ, সাময়িক ইজারার সুযোগ নিয়ে এখন মাঠটি কার্যত ব্যক্তিগত দখলে চলে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি ও এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মাঠটি স্থায়ীভাবে বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এর আগে ইজারাদারকে জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। এখনো যদি তা না সরানো হয়ে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “জমিটি সরকারি হয়ে থাকলে অবশ্যই দখলমুক্ত করা হবে। সরকারি জমি দখল করে রাখার সুযোগ কারও নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোরকান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, জমির মালিকানার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ প্রেমিকা দিবস, সঙ্গীকে আনন্দ দেওয়ার দারুণ সুযোগ

অস্থায়ী ইজারায় সরকারি জমি দখল করলেন বিএনপি নেতা ফোরকান!

আপডেট সময় : ১১:৪৮:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালীতে কোরবানির পশুরহাটের জন্য অস্থায়ীভাবে ইজারা নেওয়া সরকারি জমি দখল করে সেখানে গরুর খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইজারাদারের বিরুদ্ধে। অস্থায়ী ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমি দখলে রেখে স্থাপনা নির্মাণ ও গবাদিপশু পালন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালুখালীর কাস্টম এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের উত্তর পাশে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাঁশ, টিন ও ত্রিপল দিয়ে দীর্ঘাকৃতির ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েকজন রোহিঙ্গা শ্রমিককে গরুর দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বালুখালীর বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ফোরকান চৌধুরী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বালুখালী কাস্টমঘাট এলাকায় অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর অনুমোদন দেয় উখিয়া উপজেলা প্রশাসন। ওই হাটের ইজারা নেন বালুখালী বাজারের ইজারাদার ফোরকান চৌধুরী। তবে ঈদ শেষে হাটের অবকাঠামো অপসারণ না করে সেখানে গরু রাখার জন্য স্থায়ী ধরনের ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উখিয়াঘাট মৌজার আরএস দাগ নম্বর-৪৮ এবং বিএস দাগ নম্বর-১৬৩ভুক্ত জমিটি কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। কোরবানির পশুরহাট বসানোর আগেও সেখানে বৈশাখী মেলা ও ঐতিহ্যবাহী বলি খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হতো।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী আব্দুস সাত্তার বলেন, পশুরহাট স্থাপনের সময়ই তাঁরা মাঠটি হারানোর আশঙ্কা করেছিলেন। কারণ এলাকাটিতে বিকল্প কোনো খেলার মাঠ নেই। তাঁর অভিযোগ, সাময়িক ইজারার সুযোগ নিয়ে এখন মাঠটি কার্যত ব্যক্তিগত দখলে চলে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি ও এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় মাঠটি স্থায়ীভাবে বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এর আগে ইজারাদারকে জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। এখনো যদি তা না সরানো হয়ে থাকে, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “জমিটি সরকারি হয়ে থাকলে অবশ্যই দখলমুক্ত করা হবে। সরকারি জমি দখল করে রাখার সুযোগ কারও নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোরকান চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, জমির মালিকানার বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।