ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক টেকনাফে গণপিটুনিতে ‘বাইন্না ডাকাত’ নিহত কচ্ছপিয়ার বড় জাংছড়ি খালে মাছ শিকারের উৎসবে  কক্সবাজারে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা কক্সবাজারের লবণ চাষী, জেলে ও পর্যটন শ্রমিকদের জন্য আশার আলো, নাকি অনিশ্চয়তার প্রতিধ্বনি? রামুতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ এপিবিএনের কনস্টেবল আটক কক্সবাজারে জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের উদ্যোগে মে দিবস পালিত ‘আঁকো তোমার শহর’—শিল্পচর্চায় নতুন ভাবনা অমরণি ফুলের কুতুবদিয়ায় অটো রিক্সার গ্যারেজে আগুন: পুড়ে গেছে ২২ টি টমটম অপহরণ মামলায় আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র তুহিন কারাগারে এআরএ-আরএসও সংঘর্ষ, সীমান্তে আতঙ্ক ট্রাকের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার “অধ্যক্ষ স.আ.ম. শামসুল হুদা চৌধুরী” যার আলোয় আলোকিত জনপদ নতুন কুড়িঁ স্পোর্টস উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা: জেলায় নিবন্ধন করেছে ৩ হাজার ৩৫২ জন

সাগরে ভাসতে থাকা মহেশখালীর জেলেরা উদ্ধার হলো যেভাবে

মহেশখালী থেকে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলার ডুবে প্রায় একদিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর প্রাণে বেঁচে ঘরে ফিরেছেন ১৪ জেলে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।

ফিরে আসা জেলেরা জানান, উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার জালাল মিয়া বহদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া নামের ৫২ অশ্বশক্তির একটি মাছ ধরার ট্রলারটি গত এক সপ্তাহ আগে ১৪ মাঝি-মাল্লা নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। সমুদ্রের গুলিরদ্বার পয়েন্টে মাছ শিকারের পর অন্য এলাকায় যাওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন ট্রলারের মাঝি আব্দুস সালাম। একপর্যায়ে ট্রলারটি ছয় বিও পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছায়।

জেলেরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ একটি অজ্ঞাত বড় ট্রলার তাদের ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে এফবি মায়ের দোয়া ডুবে যায়। মুহূর্তেই ১৪ মাঝি-মাল্লা সমুদ্রে পড়ে যান। জীবন বাঁচাতে তারা ট্রলারে থাকা ছোট ছোট ট্যাংক ও জালের ফ্লোট আঁকড়ে ধরেন এবং সেগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঢেউয়ের তোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসে থাকেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হাতিয়ার একটি জেলেট্রলার তাদের উদ্ধার করে। পরে চট্টগ্রাম উপকূলে নামিয়ে দিলে শুক্রবার ভোরে তারা বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন।

ট্রলারের মাঝি আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের ট্রলার হাতিয়ার এলাকায় পৌঁছানোর আগে কয়েকটি ট্রলারে দস্যুতা হয়েছিল। হয়তো সেই কারণেই আমাদের ট্রলারকে ডাকাতের ট্রলার ভেবে বড় ট্রলারটি ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়েছে। আমাদের বোটটি ছিল তাইল্ল্যা জালের ছোট বোট, আর তাদের বোট ছিল লাল জালের অনেক বড় বোট। ওই বোটটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

ট্রলার মালিক জালাল মিয়া বহদ্দার, তার ভাই ছিদ্দিক আকবর এবং বেঁচে যাওয়া জেলেরা জানান, সমুদ্রে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে জীবিত ফিরে আসা আল্লাহর অশেষ রহমত। ট্রলারের ১৪ মাঝি-মাল্লা সবাই তাজিয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা ও পরস্পর আত্মীয়। জাল ও সরঞ্জামসহ বোটটি ডুবে যাওয়ায় তাদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন মালিক।

এদিকে, উদ্ধারকারী ট্রলারের একজন মাল্লার ধারণ করা ছবিতে মহেশখালীর জেলেদের দুরাবস্থার চিত্র ধরা পড়ে। কয়েক মিনিটের ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়- ভেসে থাকা ক্লান্ত জেলেদের কান্না, হতাশা ও প্রাণে বাঁচার আকুতি। হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ও স্বজনদের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চকরিয়ায় ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে আটবছরের শিশু মেয়েকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত পলাতক

সাগরে ভাসতে থাকা মহেশখালীর জেলেরা উদ্ধার হলো যেভাবে

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মহেশখালী থেকে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলার ডুবে প্রায় একদিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর প্রাণে বেঁচে ঘরে ফিরেছেন ১৪ জেলে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।

ফিরে আসা জেলেরা জানান, উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার জালাল মিয়া বহদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া নামের ৫২ অশ্বশক্তির একটি মাছ ধরার ট্রলারটি গত এক সপ্তাহ আগে ১৪ মাঝি-মাল্লা নিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। সমুদ্রের গুলিরদ্বার পয়েন্টে মাছ শিকারের পর অন্য এলাকায় যাওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন ট্রলারের মাঝি আব্দুস সালাম। একপর্যায়ে ট্রলারটি ছয় বিও পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছায়।

জেলেরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ একটি অজ্ঞাত বড় ট্রলার তাদের ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে এফবি মায়ের দোয়া ডুবে যায়। মুহূর্তেই ১৪ মাঝি-মাল্লা সমুদ্রে পড়ে যান। জীবন বাঁচাতে তারা ট্রলারে থাকা ছোট ছোট ট্যাংক ও জালের ফ্লোট আঁকড়ে ধরেন এবং সেগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঢেউয়ের তোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসে থাকেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে হাতিয়ার একটি জেলেট্রলার তাদের উদ্ধার করে। পরে চট্টগ্রাম উপকূলে নামিয়ে দিলে শুক্রবার ভোরে তারা বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন।

ট্রলারের মাঝি আব্দুস সালাম বলেন, “আমাদের ট্রলার হাতিয়ার এলাকায় পৌঁছানোর আগে কয়েকটি ট্রলারে দস্যুতা হয়েছিল। হয়তো সেই কারণেই আমাদের ট্রলারকে ডাকাতের ট্রলার ভেবে বড় ট্রলারটি ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়েছে। আমাদের বোটটি ছিল তাইল্ল্যা জালের ছোট বোট, আর তাদের বোট ছিল লাল জালের অনেক বড় বোট। ওই বোটটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”

ট্রলার মালিক জালাল মিয়া বহদ্দার, তার ভাই ছিদ্দিক আকবর এবং বেঁচে যাওয়া জেলেরা জানান, সমুদ্রে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে জীবিত ফিরে আসা আল্লাহর অশেষ রহমত। ট্রলারের ১৪ মাঝি-মাল্লা সবাই তাজিয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা ও পরস্পর আত্মীয়। জাল ও সরঞ্জামসহ বোটটি ডুবে যাওয়ায় তাদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন মালিক।

এদিকে, উদ্ধারকারী ট্রলারের একজন মাল্লার ধারণ করা ছবিতে মহেশখালীর জেলেদের দুরাবস্থার চিত্র ধরা পড়ে। কয়েক মিনিটের ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়- ভেসে থাকা ক্লান্ত জেলেদের কান্না, হতাশা ও প্রাণে বাঁচার আকুতি। হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ও স্বজনদের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি হয়।