ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আনসার বাহিনী প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা গরুসহ ট্রাক জব্দ, আটক ৫ মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো যাবে না -জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত উখিয়ায় মানববন্ধন করে আলোচিত ‘ছৈয়দাখাতুন’ হত্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি! জাতিসত্তার কবি নূরুল হুদার জন্মভিটায় চুরি, উধাও ২০০ বছরের পুরনো সিন্ধুক ওশান প্যারাডাইসে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি: শতাধিক কর্মীর ব্লাড গ্রুপিং, ১২ জনের রক্ত সংগ্রহ কুতুবদিয়া ৩দিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলার উদ্বোধন মহেশখালীতে জমকালো আয়োজনে ‘ভূমিসেবা মেলা’ উদ্বোধন রাস্তার পাশে মিলল ভবঘুরে বৃদ্ধের মরদেহ খেলতে গিয়ে পুকুরে তলিয়ে যায় শিশু সাদিক ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ: দুই মাস পর আটক প্রধান আসামি ঝাউতলায় পৌরসভার নালা দখল করে দোকান নির্মাণ, নীরব পৌর প্রশাসন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি পিস্তল-গুলি ও ৪৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার দেশীয় অস্ত্রসহ রোহিঙ্গা যুবক আটক জলাশয়ে ডুবে প্রাণ গেল রোহিঙ্গা শিশুর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে এআরও নেতা হালিম নিহত

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক এআরও নেতা নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ক্যাম্প-৭ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত এই হামলার জন্য প্রাথমিকভাবে আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট (বালুখালী) থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন। পথে ক্যাম্প-৮/ইস্টের এ/৩২ পয়েন্ট ও ক্যাম্প-৭ এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম। যিনি ক্যাম্পভিত্তিক একটি সশস্ত্র গ্রুপ এআরও এর নেতা হিসেবে পরিচিত। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ (৩২)। তাদের প্রথমে স্থানীয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছে, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ শরণার্থীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারাবাহিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আনসার বাহিনী প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে এআরও নেতা হালিম নিহত

আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক এআরও নেতা নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ক্যাম্প-৭ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত এই হামলার জন্য প্রাথমিকভাবে আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট (বালুখালী) থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন। পথে ক্যাম্প-৮/ইস্টের এ/৩২ পয়েন্ট ও ক্যাম্প-৭ এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম। যিনি ক্যাম্পভিত্তিক একটি সশস্ত্র গ্রুপ এআরও এর নেতা হিসেবে পরিচিত। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ (৩২)। তাদের প্রথমে স্থানীয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছে, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ শরণার্থীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারাবাহিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।