টেকনাফে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১ জন বাংলাদেশী এবং ৫ জন রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ৬ জনকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫। এ সময় চক্রের অন্যতম মূলহোতা এক নারী সদস্যকে বিপুল পরিমাণ মায়ানমার মুদ্রাসহ (কিয়াট) গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার দিবাগত রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদারবিল এলাকার একটি বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়।
র্যাব জানায়, টেকনাফ বাজারের শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর একটি চৌকস দল জানতে পারে পশ্চিম গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলী আজগরের বসত বাড়িতে একদল মানবপাচারকারী কিছু নারী, পুরুষ ও শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে। চক্রটি ভিকটিমদের সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে আটকে রাখে। সংবাদ পাওয়ার পরপরই রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে উক্ত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকে চক্রের সক্রিয় নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার হেফাজতে থেকে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সর্বমোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ মায়ানমারের মুদ্রা কিয়াট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের মধ্যে উখিয়ার বাংলাদেশী নাগরিক যুগল বড়ুয়া এবং বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হুসাইন আহম্মেদ, কামাল হোসেন, আয়েসা, শুভ তারা ও সাদেক নামের ৫ রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশী নাগরিক যুগল বড়ুয়া জানান, গত ২২ মে সকালে উখিয়ার কুতুপালং এলাকা থেকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে আসামিরা তাকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে এই আস্তানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে অন্যান্য ভিকটিমদেরও বিভিন্ন স্থান থেকে ফুসলিয়ে ও জোরপূর্বক অপহরণ করে এখানে এনে আটকে রাখা হয়। পাচারকারী চক্রটি ভিকটিমদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। মুক্তিপণ না দিলে তাদের জোরপূর্বক সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করার হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কামাল হোসেন নামের এক ভিকটিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে গুরুতর জখম করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশী নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত নারী আসামি এবং এই চক্রের সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে র্যাব জানায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























