কক্সবাজারের টেকনাফে অভিনব কৌশলে সিএনজি অটোরিকশার মিটার বক্সে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫। এ সময় তার কাছ থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বরইতলী এলাকায় র্যাবের বিশেষ চেকপোস্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক জিয়াউল হক (৪৭) টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাদিমুরা গ্রামের টাওয়ার রোড এলাকার আবু জাহেরের ছেলে।
র্যাব-১৫ এর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ ক্যাম্পের র্যাব সদস্যরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, এক মাদক কারবারি সিএনজি অটোরিকশাযোগে ইয়াবার একটি বড় চালান নিয়ে বরইতলী এলাকা হয়ে ক্যাম্প সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে বরইতলী এলাকায় র্যাব ক্যাম্পের সামনে পাকা সড়কে একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। এর কিছুক্ষণ পর জাদিমুরা বাজারের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেয় র্যাব। পরে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সিএনজির সামনের মিটার বক্স তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা কালো পলিথিন মোড়ানো চারটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্যাকেটগুলো খুলে দেখা যায়, ৪০টি নীল রঙের বায়ুরোধক পলি প্যাকে রাখা রয়েছে মোট ৮ হাজার পিস ইয়াবা।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক জিয়াউল হক দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি চালানোর আড়ালে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই তিনি মিটার বক্সকে ইয়াবা বহনের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও জব্দকৃত সিএনজি অটোরিকশাসহ আটক আসামিকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি অবগত করেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে তাদের জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ প্রতিবেদক 




















