ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার প্রেসক্লাবে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ৭০০ পরিবারের মাঝে তবারুক বিতরণ ২৪ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত পেকুয়ার নন্দীরপাড়া স্টেশন সড়ক ভেসে এলো নিখোঁজ আলবার্টের মরদেহ : জীবিত উদ্ধার নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কোস্টগার্ডের হেফাজতে উখিয়া সীমান্তে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ পুলিশ বাহিনীকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়ান শুটারগানসহ যুবক আটক পালংখালী খালে মাছ ধরতে গিয়ে দুই রোহিঙ্গা শিশু নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলার সাথে থাকতে চেয়ে ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি কক্সবাজারে বহুল প্রত্যাশিত মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ‎

পেকুয়ায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের ত্রাণ বিতরণ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানিতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবারের ঘরে পানি প্রবেশ করায় চুলায় আগুন জ্বলছে না, রান্না করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।

এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে এসব খাবার পানিবন্দি মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পেকুয়া পৌরসভায় সাংবাদিক ছাফওয়ানুল করিমের নেতৃত্বে নৌকাযোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বানভাসি মানুষের কী দুর্ভোগ তা সরাসরি না আসলে কেউ বুঝবে না। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মগনামা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ৮০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ত্রাণ বিতরণের প্রথম ধাপে ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০০ পরিবারের হাতে শুকনা খাবার তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত মানুষের মাঝেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে মগনামা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।

একই সময়ে মগনামা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩০০ পানিবন্দি পরিবারের মাঝে নিজ উদ্যোগে শুকনা খাবার বিতরণ করেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন এবং দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন।

রাজাখালী ইউনিয়নে ইউপি সদস্য গোলাম রহমানের নেতৃত্বে ব্যক্তিগত অর্থায়নে শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা তার এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গোলাম রহমান বলেন, রাজাখালী ইউনিয়নের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। বিশেষ করে আমার ওয়ার্ড লালজানপাড়ায় শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যার যার অবস্থান থেকে জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে দুর্গত মানুষের অনেক উপকার হবে।

বারবাকিয়া ইউনিয়নে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শাহাদাত কবির এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে ৬০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।

শাহাদাত কবির বলেন, বানভাসি মানুষ খুবই কষ্টে আছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি মাত্র। এইভাবে ধারাবাহিকভাবে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে।

পেকুয়া পৌরসভার শেখের কিল্লাঘোনা, মৌলভীপাড়া ও মাইজপাড়ায় শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা এরশাদুল আলম।

পেকুয়া পৌরসভার সাবেক গুলধি-সরকারি ঘোনা এলাকায় ১০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন ডাক্তার এম এ মনছুর।

এছাড়াও বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করা হয়।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠন, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীদের এমন মানবিক উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বানভাসি মানুষের মাঝে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার প্রেসক্লাবে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

পেকুয়ায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের ত্রাণ বিতরণ

আপডেট সময় : ১০:৪২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানিতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক পরিবারের ঘরে পানি প্রবেশ করায় চুলায় আগুন জ্বলছে না, রান্না করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের।

এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে এসব খাবার পানিবন্দি মানুষের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পেকুয়া পৌরসভায় সাংবাদিক ছাফওয়ানুল করিমের নেতৃত্বে নৌকাযোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বানভাসি মানুষের কী দুর্ভোগ তা সরাসরি না আসলে কেউ বুঝবে না। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মগনামা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি ৮০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ত্রাণ বিতরণের প্রথম ধাপে ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০০ পরিবারের হাতে শুকনা খাবার তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত মানুষের মাঝেও ত্রাণ বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে মগনামা ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকের ঘরে পানি প্রবেশ করায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।

একই সময়ে মগনামা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩০০ পানিবন্দি পরিবারের মাঝে নিজ উদ্যোগে শুকনা খাবার বিতরণ করেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ হাতে শুকনা খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন এবং দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন।

রাজাখালী ইউনিয়নে ইউপি সদস্য গোলাম রহমানের নেতৃত্বে ব্যক্তিগত অর্থায়নে শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা তার এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

গোলাম রহমান বলেন, রাজাখালী ইউনিয়নের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। বিশেষ করে আমার ওয়ার্ড লালজানপাড়ায় শতাধিক পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। যার যার অবস্থান থেকে জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে দুর্গত মানুষের অনেক উপকার হবে।

বারবাকিয়া ইউনিয়নে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শাহাদাত কবির এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে ৬০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।

শাহাদাত কবির বলেন, বানভাসি মানুষ খুবই কষ্টে আছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি মাত্র। এইভাবে ধারাবাহিকভাবে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হবে।

পেকুয়া পৌরসভার শেখের কিল্লাঘোনা, মৌলভীপাড়া ও মাইজপাড়ায় শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা এরশাদুল আলম।

পেকুয়া পৌরসভার সাবেক গুলধি-সরকারি ঘোনা এলাকায় ১০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন ডাক্তার এম এ মনছুর।

এছাড়াও বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের মাঝে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করা হয়।

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠন, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীদের এমন মানবিক উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বানভাসি মানুষের মাঝে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।