ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশনের স্বর্ণপদক বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুল অর্জন করলেন টেকনাফের সাউদা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না – উখিয়ায় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান বাংলা চ্যানেল পাড়ি ২ নারীসহ ৩৫ সাঁতারুর গণভোটের ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছেন ইইউ’র ৫৬ পর্যবেক্ষক দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আসছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড বাতিল, নতুনভাবে গঠন জনতার কাফেলা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে- কক্সবাজারে আদিলুর রহমান খান ইসিতে অষ্টম দিনের আপিল শুনানি শুরু হোয়াইক্যং সীমান্তের চিংড়ি ঘের থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার পেকুয়ায় লবণ চাষিকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগ সীমান্তে মা ই ন বি স্ফো র ণে এক পা হারানো হানিফের অন্য পা নিয়েও শঙ্কা মানব পাচারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, টেকনাফে গুলিবিদ্ধ কিশোরীর মৃত্যু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন সেচ্ছাসেবকদল নেতা

পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর অর্থায়নে দুই বাক প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বিকাল তিন টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের বর বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ(৩৬) এবং কনে সোমাইয়া জন্নাত(২১)। বর ওই এলাকার মো.ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে এবং কনে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমি উদ্দিন পাড়া এলাকার সিরাজুল করিমের মেয়ে।

জানা গেছে, গ্রাম-বাংলার অন্য দশ জনের বিয়ের মতো তারা দুই জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাথায় টুপি পড়ে নোহা গাড়ীর সামনে সিটে বসে কনের বাড়িতে যান বর। পরে কনের বাড়ি লোকজনে বরযাত্রীদের বরণ করেন। সেখানে কনে পক্ষের লোকজন তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়ন শেষ করেন। সব শেষ করে বর যাত্রীরা কনে সুমাইয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে বরের বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বরের পিতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা উভয় পরিবার আহসান উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ তার উদ্যোগে আমি ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সংসার যেন সুখের হয় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ বলেন, কনে এবং বর দুইজনই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা তবে ইউনিয়ন ভিন্ন। তারা দুইজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবার নিতান্ত অসহায়। সে দৃষ্টিকোন থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সবকিছু মিলিয়ে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দ্রুত সময়ে তা করে দেব।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও আমাদের সম্পদ। দুই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়ে সেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আমার সহযোদ্ধা আহসান উল্লাহ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তার এমন কাজে সমাজের বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশনের স্বর্ণপদক বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুল অর্জন করলেন টেকনাফের সাউদা

This will close in 6 seconds

দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিলেন সেচ্ছাসেবকদল নেতা

আপডেট সময় : ১২:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

পেকুয়া উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর অর্থায়নে দুই বাক প্রতিবন্ধীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার বিকাল তিন টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা বরের বাড়িতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের বর বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ(৩৬) এবং কনে সোমাইয়া জন্নাত(২১)। বর ওই এলাকার মো.ছৈয়দ উল্লাহর ছেলে এবং কনে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমি উদ্দিন পাড়া এলাকার সিরাজুল করিমের মেয়ে।

জানা গেছে, গ্রাম-বাংলার অন্য দশ জনের বিয়ের মতো তারা দুই জনের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রীদের সঙ্গে মাথায় টুপি পড়ে নোহা গাড়ীর সামনে সিটে বসে কনের বাড়িতে যান বর। পরে কনের বাড়ি লোকজনে বরযাত্রীদের বরণ করেন। সেখানে কনে পক্ষের লোকজন তাদের আতিথেয়তা ও আপ্যায়ন শেষ করেন। সব শেষ করে বর যাত্রীরা কনে সুমাইয়াকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে বরের বাড়িতে ১ লক্ষ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বরের পিতা ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা উভয় পরিবার আহসান উল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ তার উদ্যোগে আমি ছেলের বিয়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সংসার যেন সুখের হয় তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ বলেন, কনে এবং বর দুইজনই পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা তবে ইউনিয়ন ভিন্ন। তারা দুইজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং তাদের পরিবার নিতান্ত অসহায়। সে দৃষ্টিকোন থেকে নিজে উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সবকিছু মিলিয়ে ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাদের একটি ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দ্রুত সময়ে তা করে দেব।

উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, প্রতিবন্ধীদের সমাজের বোঝা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আসলে তারা বোঝা নয়। তাদেরকে ঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাও আমাদের সম্পদ। দুই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়ে সেচ্চাসেবক দলের আহ্বায়ক ও আমার সহযোদ্ধা আহসান উল্লাহ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তার এমন কাজে সমাজের বিত্তবানদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।