ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৈকতে প্রশাসনের অভিযান: সুগন্ধার পর এবার কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ রামুর উখিয়ারঘোনাতে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা তেলের সংকট নেই, দাম বাড়ছে না: সেতুমন্ত্রী আজ পবিত্র শবে কদর হঠাৎ বৃষ্টি পর্যটন শহরে বিএসপিএ কক্সবাজার শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন তারেক অসুস্থ রোগীদের মাঝে ইফতার বিতরণ করলেন ছাত্রদল নেতা জনি বিএসপিএ কক্সবাজারের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন: মাহবুবসভাপতি, সুমন সম্পাদক টিটিএনের প্রতিনিধি সম্মেলন: নব উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন কুতুবদিয়ার নুরুল বশর চৌধুরী উঠে গেলো সৈকতের বালিয়াড়ীর দোকান: পুনর্বাসনের আকুতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ​ ২ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগ: বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপে যাত্রী আহত, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ মাতারবাড়ি থেকে অস্ত্রসহ যুবক আটক

ছয় পেরিয়ে সাতে: কথা বলার দায় আরও বড়

“ছয় পেরিয়ে আমরা পা রাখছি সাতে।”সময় হিসেবে এটি একটি সংখ্যা মাত্র নয়; একটি সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাত বছর মানে; টিকে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা এবং দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার সাহস অর্জন করা।

দি টেরিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন) যাত্রা শুরু করেছিল একটি বিশ্বাস নিয়ে; সংবাদ শুধু ঘটনা নয়, সংবাদ হলো মানুষের কথা। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা দিনে-রাতে পাঠকের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

এই সাত বছরে আমরা শিখেছি, কক্সবাজারকে শুধু পর্যটনের গল্পে সীমাবদ্ধ করলে সত্য অসম্পূর্ণ থাকে। তাই আমরা কথা বলেছি পর্যটনের পাশাপাশি জেলে পল্লীর জীবন নিয়ে, লবণ চাষিদের ঘাম ঝরানো শ্রম নিয়ে, পান–সুপারি চাষিদের নীরব সংগ্রাম নিয়ে। আমরা কথা বলেছি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে, নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও অংশ গ্রহণের বিষয়ে।

কিন্তু আমাদের দায়িত্ব এখানেই থেমে যায়নি। ভূগোল আমাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে স্থানীয় ঘটনাও অনেক সময় বৈশ্বিক ইঙ্গিত বহন করে। তাই আমরা কথা বলেছি ভূরাজনীতির; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ট্র্যাজেডি ও তার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে, সীমান্তের নীরব উত্তেজনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে।

আমরা চেষ্টা করেছি আবেগে নয়, বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে। কারণ সংবাদ যদি কেবল আবেগে ভাসে, তবে তা দিকনির্দেশনা হারায়। টিটিএন বিশ্বাস করে, দেশ মানে শুধু রাজধানী নয়, জনগণ মানে শুধু সংখ্যা নয়। দেশ মানে প্রান্তিক মানুষ, সীমান্তের উদ্বেগ, মাঠের শ্রম আর নীরব প্রশ্ন গুলো, যেগুলো অনেক সময় শিরোনাম হয় না।

সাত বছরে এসে আমরা দাবি করছি না যে সব ঠিক করেছি। আমরা শুধু বলছি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাইনি। ভুল থেকে শিখেছি, প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি, আর চেষ্টা করেছি সত্যের পাশে থাকতে।

নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার আরও স্পষ্ট, আমরা খবর দেব, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দেব প্রেক্ষাপট। আমরা প্রশ্ন করব, কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতে। আমরা কথা বলব, দেশের ও জনগণের।

ছয় পেরিয়ে সাতে এসে তাই বলি, সাথে থাকুন দিনে–রাতে। কারণ সত্যের পথ দীর্ঘ, আর সেই পথে হাঁটতে পাঠকের সঙ্গই সবচেয়ে বড় শক্তি।

ট্যাগ :

ছয় পেরিয়ে সাতে: কথা বলার দায় আরও বড়

আপডেট সময় : ০১:১৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

“ছয় পেরিয়ে আমরা পা রাখছি সাতে।”সময় হিসেবে এটি একটি সংখ্যা মাত্র নয়; একটি সংবাদ মাধ্যমের জন্য সাত বছর মানে; টিকে থাকা, দাঁড়িয়ে থাকা এবং দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার সাহস অর্জন করা।

দি টেরিটোরিয়াল নিউজ (টিটিএন) যাত্রা শুরু করেছিল একটি বিশ্বাস নিয়ে; সংবাদ শুধু ঘটনা নয়, সংবাদ হলো মানুষের কথা। এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা দিনে-রাতে পাঠকের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

এই সাত বছরে আমরা শিখেছি, কক্সবাজারকে শুধু পর্যটনের গল্পে সীমাবদ্ধ করলে সত্য অসম্পূর্ণ থাকে। তাই আমরা কথা বলেছি পর্যটনের পাশাপাশি জেলে পল্লীর জীবন নিয়ে, লবণ চাষিদের ঘাম ঝরানো শ্রম নিয়ে, পান–সুপারি চাষিদের নীরব সংগ্রাম নিয়ে। আমরা কথা বলেছি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে, নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও অংশ গ্রহণের বিষয়ে।

কিন্তু আমাদের দায়িত্ব এখানেই থেমে যায়নি। ভূগোল আমাদের এমন এক জায়গায় দাঁড় করিয়েছে, যেখানে স্থানীয় ঘটনাও অনেক সময় বৈশ্বিক ইঙ্গিত বহন করে। তাই আমরা কথা বলেছি ভূরাজনীতির; রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক ট্র্যাজেডি ও তার রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে, সীমান্তের নীরব উত্তেজনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে।

আমরা চেষ্টা করেছি আবেগে নয়, বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে। কারণ সংবাদ যদি কেবল আবেগে ভাসে, তবে তা দিকনির্দেশনা হারায়। টিটিএন বিশ্বাস করে, দেশ মানে শুধু রাজধানী নয়, জনগণ মানে শুধু সংখ্যা নয়। দেশ মানে প্রান্তিক মানুষ, সীমান্তের উদ্বেগ, মাঠের শ্রম আর নীরব প্রশ্ন গুলো, যেগুলো অনেক সময় শিরোনাম হয় না।

সাত বছরে এসে আমরা দাবি করছি না যে সব ঠিক করেছি। আমরা শুধু বলছি, দায়িত্ব এড়িয়ে যাইনি। ভুল থেকে শিখেছি, প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি, আর চেষ্টা করেছি সত্যের পাশে থাকতে।

নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার আরও স্পষ্ট, আমরা খবর দেব, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দেব প্রেক্ষাপট। আমরা প্রশ্ন করব, কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতে। আমরা কথা বলব, দেশের ও জনগণের।

ছয় পেরিয়ে সাতে এসে তাই বলি, সাথে থাকুন দিনে–রাতে। কারণ সত্যের পথ দীর্ঘ, আর সেই পথে হাঁটতে পাঠকের সঙ্গই সবচেয়ে বড় শক্তি।