ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ টেকনাফে উদ্ধার কিশোর,১ রোহিঙ্গাসহ চক্রের ৪ জন আটক প্রধান উপদেষ্টার বার্তা: নির্বাচনী আচরণে প্রশংসিত জামায়াত আমির শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই: প্রেস সচিব ‘আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে’: তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূস পিএসজির শিরোপা স্বপ্নে বড় ধাক্কা ২৯৭ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ ইসির ফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ, ইতিহাস জানেন? নতুন সরকার গঠন সোম বা মঙ্গলবার আজ পয়লা ফাল্গুন, বসন্ত এসে গেছে…
সায়ন্তন ভট্টাচার্যের ফিচার-

কোয়াবের সংবাদ সম্মেলন: দাবি, দৃশ্যপট ও প্রশ্নের রাজনীতি

বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর ডাকা সংবাদ সম্মেলনটি আপাতদৃষ্টিতে একটি দাবিনির্ভর আন্দোলনের ঘোষণা হলেও বাস্তবে এটি বহুস্তরীয় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এক বোর্ড পরিচালকের পদত্যাগ দাবিতে ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা—এই বক্তব্য যতটা সরল, সম্মেলনের পরিবেশ ও উপস্থিত খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন জাতীয় ও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটারের শারীরিক ভাষা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বক্তব্যের সঙ্গে তাদের চোখের ভাষা, মুখভঙ্গি কিংবা বসার ভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য ছিল না। কোথাও ছিল অস্বস্তি, কোথাও চাপগ্রস্ত নীরবতা। এই বৈপরীত্যই প্রশ্ন তোলে—এই আন্দোলন কি সত্যিই খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে উঠে আসা কোনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, নাকি সংগঠনের নেতৃত্বনির্ভর সিদ্ধান্ত?

কোয়াবের মূল উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষা। কিন্তু সেই প্রতিনিধিত্ব কার্যকর হয় তখনই, যখন খেলোয়াড়রা নিজেরাই বক্তব্যের কেন্দ্রে থাকেন। এখানে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। উপস্থিত খেলোয়াড়দের অনেকেই সরাসরি বক্তব্য দেননি, কেউ কেউ চোখাচোখি এড়িয়ে গেছেন, আবার কারও মুখে ছিল দ্বিধার ছাপ। এতে করে জনমনে একটি ধারণা জন্ম নিচ্ছে—খেলোয়াড়রা এখানে অংশীজন নন, বরং অবস্থানগতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো খেলোয়াড় আন্দোলনের নৈতিক শক্তি আসে স্বতঃস্ফূর্ততা ও স্বচ্ছতা থেকে। কিন্তু যখন আন্দোলনের বার্তা শরীরী ভাষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে, তখন বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হয়। কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে সেই সংকটই প্রকট হয়ে উঠেছে। দাবি যতই যৌক্তিক হোক না কেন, উপস্থাপনার ধরন সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই আন্দোলনের সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বোর্ড পরিচালকের পদত্যাগ দাবি এবং বয়কটের মতো চরম অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতরের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। এতে করে প্রশ্ন উঠছে, কোয়াব কি খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলছে, নাকি কোনো অভ্যন্তরীণ শক্তিসমীকরণের অংশ হয়ে উঠেছে?

সব মিলিয়ে, কোয়াবের এই সংবাদ সম্মেলন একটি দাবিনামা কম, বরং একটি সংকেত বেশি—বাংলাদেশ ক্রিকেটে খেলোয়াড় প্রতিনিধি সংগঠনগুলোর কাঠামো, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ খেলোয়াড়দের কণ্ঠ যখন স্পষ্ট নয়, তখন নীরবতাই সবচেয়ে জোরালো প্রশ্ন হয়ে ওঠে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই—খেলোয়াড়রা কি নিজেদের হয়ে কথা বলছেন, নাকি তাদের হয়ে কথা বলা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে কোয়াবের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান

This will close in 6 seconds

সায়ন্তন ভট্টাচার্যের ফিচার-

কোয়াবের সংবাদ সম্মেলন: দাবি, দৃশ্যপট ও প্রশ্নের রাজনীতি

আপডেট সময় : ০৪:০৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর ডাকা সংবাদ সম্মেলনটি আপাতদৃষ্টিতে একটি দাবিনির্ভর আন্দোলনের ঘোষণা হলেও বাস্তবে এটি বহুস্তরীয় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এক বোর্ড পরিচালকের পদত্যাগ দাবিতে ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা—এই বক্তব্য যতটা সরল, সম্মেলনের পরিবেশ ও উপস্থিত খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন জাতীয় ও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটারের শারীরিক ভাষা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বক্তব্যের সঙ্গে তাদের চোখের ভাষা, মুখভঙ্গি কিংবা বসার ভঙ্গির মধ্যে সামঞ্জস্য ছিল না। কোথাও ছিল অস্বস্তি, কোথাও চাপগ্রস্ত নীরবতা। এই বৈপরীত্যই প্রশ্ন তোলে—এই আন্দোলন কি সত্যিই খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে উঠে আসা কোনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, নাকি সংগঠনের নেতৃত্বনির্ভর সিদ্ধান্ত?

কোয়াবের মূল উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষা। কিন্তু সেই প্রতিনিধিত্ব কার্যকর হয় তখনই, যখন খেলোয়াড়রা নিজেরাই বক্তব্যের কেন্দ্রে থাকেন। এখানে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। উপস্থিত খেলোয়াড়দের অনেকেই সরাসরি বক্তব্য দেননি, কেউ কেউ চোখাচোখি এড়িয়ে গেছেন, আবার কারও মুখে ছিল দ্বিধার ছাপ। এতে করে জনমনে একটি ধারণা জন্ম নিচ্ছে—খেলোয়াড়রা এখানে অংশীজন নন, বরং অবস্থানগতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো খেলোয়াড় আন্দোলনের নৈতিক শক্তি আসে স্বতঃস্ফূর্ততা ও স্বচ্ছতা থেকে। কিন্তু যখন আন্দোলনের বার্তা শরীরী ভাষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে, তখন বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হয়। কোয়াবের সংবাদ সম্মেলনে সেই সংকটই প্রকট হয়ে উঠেছে। দাবি যতই যৌক্তিক হোক না কেন, উপস্থাপনার ধরন সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই আন্দোলনের সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বোর্ড পরিচালকের পদত্যাগ দাবি এবং বয়কটের মতো চরম অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতরের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। এতে করে প্রশ্ন উঠছে, কোয়াব কি খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলছে, নাকি কোনো অভ্যন্তরীণ শক্তিসমীকরণের অংশ হয়ে উঠেছে?

সব মিলিয়ে, কোয়াবের এই সংবাদ সম্মেলন একটি দাবিনামা কম, বরং একটি সংকেত বেশি—বাংলাদেশ ক্রিকেটে খেলোয়াড় প্রতিনিধি সংগঠনগুলোর কাঠামো, স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। কারণ খেলোয়াড়দের কণ্ঠ যখন স্পষ্ট নয়, তখন নীরবতাই সবচেয়ে জোরালো প্রশ্ন হয়ে ওঠে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই—খেলোয়াড়রা কি নিজেদের হয়ে কথা বলছেন, নাকি তাদের হয়ে কথা বলা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে কোয়াবের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা।