ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৮৪ আনসার-ভিডিপি সদস্য, থাকছে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ প্রথমবারের মতো স্থানীয় ভিসি পেল সিবিআইইউ : দায়িত্ব নিলেন ড. মোকতার আহমেদ ২ দিনের সফরে শনিবার কক্সবাজার আসছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম কক্সবাজার বিমানবন্দর: সাগরে বসানো লাইট চুরির ঘটনা কীভাবে ঘটলো? রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি, প্রতিবাদে কক্সবাজারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ হ্নীলার রঙ্গিখালী ও বাহারছড়ার বড় ডেইলে সেনা ক্যাম্প নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে এমপি শাহজাহান চৌধুরী খুঁটির উপর ভর করে আছে কালভার্ট, ঝুঁকিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলো শামসুল হক ফাউন্ডেশন ব্যাংকে পড়ে আছে ১৭২ কোটি টাকা, জানেন না মালিক ও উত্তরাধিকারীরা! রামুতে সুপার শপে আগুন রামুতে সুপার শপে আগুন ঢাকা-কক্সবাজার রুট: মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু আজ কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের

ঈদগাঁও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিশ্চুপ প্রশাসন

ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলেশ্বরী নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাগলবাজার এলাকার নজরুল মার্কেটের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোড সংলগ্ন ছাগলবাজার এলাকায় নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর পাড় ঘেঁষে গাইডওয়াল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে এ নির্মাণকাজ চলায় প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় রেজিস্ট্রারকৃত জায়গার ভেতরেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি। এটি কোনো অবৈধ দখল নয়।”

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীরা ফুলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে দখল করে একের পর এক স্থাপনা তুলছে। এতে নদীর প্রস্থ কমে গেছে, পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর প্রাণ ও সৌন্দর্য।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, “ফুলেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “নদী দখলের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা দখলকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে ফুলেশ্বরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আগের রূপ ও প্রবাহ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ৮৪ আনসার-ভিডিপি সদস্য, থাকছে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’

ঈদগাঁও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, নিশ্চুপ প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

ঈদগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলেশ্বরী নদী দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ছাগলবাজার এলাকার নজরুল মার্কেটের মালিক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাঁও বাজারের ডিসি রোড সংলগ্ন ছাগলবাজার এলাকায় নজরুল মার্কেটের পেছনে নদীর পাড় ঘেঁষে গাইডওয়াল নির্মাণ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে এ নির্মাণকাজ চলায় প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা দেখা দিলে বাজারের দোকানপাট ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার ঢলের পানি থেকে মার্কেট রক্ষায় রেজিস্ট্রারকৃত জায়গার ভেতরেই গাইডওয়াল নির্মাণ করছি। এটি কোনো অবৈধ দখল নয়।”

তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দাবি করেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালীরা ফুলেশ্বরী নদীর দুই পাড়ে দখল করে একের পর এক স্থাপনা তুলছে। এতে নদীর প্রস্থ কমে গেছে, পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর প্রাণ ও সৌন্দর্য।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, “ফুলেশ্বরী নদীকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এটি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।” তারা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিমল চাকমাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, “নদী দখলের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা দখলকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে ফুলেশ্বরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে ফিরিয়ে আনতে হবে তার আগের রূপ ও প্রবাহ।