কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের শাহ ফকির বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এতে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ‘ঈদগাঁও জনতা মোটরস’, ‘জামিল হার্ডওয়্যার’ এবং ‘মডার্ন হোমস’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ শাহ ফকির বাজারের দোকানগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঈদগাঁও উপজেলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় খবর পেয়ে রামু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়। তবে দূরবর্তী স্থান থেকে গাড়ি এসে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই দোকান তিনটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ‘মডার্ন হোমস’-এর স্বত্বাধিকারী মামুনুর রশীদ। অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি বলেন, “ধার দেনা ও বাকিতে বিপুল পরিমাণ নতুন মালামাল দোকানে তুলেছিলাম। কেবল আমার দোকানেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চোখের সামনে জীবনের সব সঞ্চয় ও পুঁজি হারিয়ে এখন আমি দিশেহারা।”
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত জরুরি আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
শাহ ফকির বাজার ব্যবসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ওবাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদগাঁওতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় দূর থেকে গাড়ি আসতে আসতেই সব শেষ হয়ে যায়।
এদিকে প্রতিবছরই ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের জানমাল রক্ষায় দ্রুত ঈদগাঁওতে একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জরুরি সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























