ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারা দেশে দুইদিন এলপিজি বিক্রি বন্ধ ঘোষণা কক্সবাজারে সিএনজি থেকে ৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটনের দাফন সম্পন্ন নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন  সড়ক ভাড়া দিলো কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা, পাঁচ ধাপে হবে ভোটগ্রহণ প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলা‌দে‌শি আহত বাড়িতে স্ত্রীর লাশ রেখে মসজিদে গিয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু অবশেষে গ্রেফতার হলো নিহত তাজমিনের প্রেমিক রাজু উখিয়ার কোটবাজার থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জসিম গ্রেপ্তার আরব আমিরাত থেকে ৯৬ লাখ টাকা চুরি করে পালিয়ে এলো চকরিয়ার নোমান, খুঁজছে পুলিশ কক্সবাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান : ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় কমিউনিটি রিপোর্টিং জোরদারে এমবোলডেন বাংলাদেশের মতবিনিময় সভা তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘সম্পর্ক নেই’ রাজুর

প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট

অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায় না। কেননা নির্দোষ ব্যক্তিও পুলিশি হয়রানি এড়াতে পালিয়ে থাকতে পারে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে নিম্ন আদালতে ৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে খালাস দিয়ে এ রায়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, দাপ্তরিক রেকর্ডে অনিয়ম বা ভুয়া নোটিশ ইস্যুর ঘটনা আসামির বিরুদ্ধে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে, তবে আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী গুরুতর সন্দেহ কখনোই সন্দেহাতীত প্রমাণের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, আসামি নীল বরণ ত্রিপুরা ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । পরে তিনি বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বদলি হন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্মকর্তা ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আপিল নম্বর, নোটিশ ও রসিদ ইস্যু করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ছাতক থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সিলেটের বিশেষ জজ আদালত আসামিকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলের পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি খালাস পান। রায়ে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আসামির বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের দাবি করলেও আদালতে অর্থদেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময়, স্থান বা অর্থের সঠিক পরিমাণ প্রমাণ করতে পারেননি। এছাড়া এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে আদালতে দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। মূল সাক্ষীকে আদালতে পরীক্ষা করা হয়নি। মূল সাক্ষীকে বাদ দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শোনা কথা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে জানান আদালত।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায়না : হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ০১:০০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকলেই কাউকে সাজা দেওয়া যায় না। কেননা নির্দোষ ব্যক্তিও পুলিশি হয়রানি এড়াতে পালিয়ে থাকতে পারে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে নিম্ন আদালতে ৩ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে খালাস দিয়ে এ রায়ে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, দাপ্তরিক রেকর্ডে অনিয়ম বা ভুয়া নোটিশ ইস্যুর ঘটনা আসামির বিরুদ্ধে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে, তবে আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী গুরুতর সন্দেহ কখনোই সন্দেহাতীত প্রমাণের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, আসামি নীল বরণ ত্রিপুরা ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । পরে তিনি বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বদলি হন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি কর্মকর্তা ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আপিল নম্বর, নোটিশ ও রসিদ ইস্যু করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ছাতক থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হলে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সিলেটের বিশেষ জজ আদালত আসামিকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলের পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি খালাস পান। রায়ে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আসামির বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের দাবি করলেও আদালতে অর্থদেওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময়, স্থান বা অর্থের সঠিক পরিমাণ প্রমাণ করতে পারেননি। এছাড়া এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে আদালতে দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। মূল সাক্ষীকে আদালতে পরীক্ষা করা হয়নি। মূল সাক্ষীকে বাদ দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শোনা কথা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে জানান আদালত।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট