ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নি/ষি/দ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ- যুবলীগের মিছিল: মোনাফসহ ১৩ জনের নামে মামলা পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের সম্পদ-ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে চায় সরকার : পর্যটনমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী সিগারেটের দাম বাড়ল, প্রজ্ঞাপন জারি বিএনপি কর্মীর মৃত্যু: শেখ হাসিনা-জয়সহ ১২৫ জনের নামে মামলা, তদন্তে পিবিআই বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা, পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রবৃষ্টি রামুতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে মোনাফ সিকদার সহ নি’ষি’দ্ধ যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার মহেশখালীতে চোর সন্দেহে পিটিয়ে ফয়সাল হত্যার ঘটনায় আটক-১ সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ২১ ইয়াবাসহ আহ্বায়ক মনির আলম আটকের জের, টেকনাফ পৌর কৃষকদলের কমিটি বিলুপ্ত সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বান্দরবানের দুটি নতুন টিওবি উদ্বোধন মক্কায় ড্রোন ছুড়ল হুথিরা, আটকে দিয়ে ধ্বংস করল সৌদি অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ সাময়িক বরখাস্ত

কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

নয় দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজারে গত পাঁচ দিনের দুর্যোগে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পানিতে ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টি মেডিকেল টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলো-আপ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন (ওআরএস), ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন (সিএস), ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট (ডব্লিউপিটি), ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন (এনএস), ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

তবে বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওআরএস, কলেরা স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, বন্যার পানিতে শিশুদের অবাধ চলাচল থেকে বিরত রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নি/ষি/দ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ- যুবলীগের মিছিল: মোনাফসহ ১৩ জনের নামে মামলা

কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

আপডেট সময় : ০১:০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নয় দিনের টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজারে গত পাঁচ দিনের দুর্যোগে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রোববার (১৩ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৬ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস এবং পানিতে ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টি মেডিকেল টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলো-আপ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার প্যাকেট ওরস্যালাইন (ওআরএস), ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন (সিএস), ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট (ডব্লিউপিটি), ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন (এনএস), ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।

তবে বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওআরএস, কলেরা স্যালাইন, জিংক ট্যাবলেটসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি পান, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করা, বন্যার পানিতে শিশুদের অবাধ চলাচল থেকে বিরত রাখা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।