ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ বালুখালীতে মহাসড়কের উপর ‘অবৈধ’ পানের হাট, জনভোগান্তি সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ লোহাগাড়ার দরবেশহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৭ দোকান ভারী বর্ষণ নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারিং ন্যায্য ছিল: সুইজারল্যান্ড কোচ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মিয়ানমার তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ ও প্রধান চালিকাশক্তি : রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে মাদকের বড় চালান ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক ১,

সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে আঁতাত করে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি রহস্যজনক কারণে চৌফলদন্ডি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের জন্যে খাস জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি মো. সাদেকুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যান্যদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় নির্মিত হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী নিজের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া দানপত্র দলিল তৈরি করেন। এই ভুয়া দলিলের ওপর ভিত্তি করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়, যা গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্তে দেখা যায়, চৌফলদণ্ডী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অন্য ব্যক্তির জমির দাগ ব্যবহার করে ভুয়া দানপত্র সৃজন করা হয়েছে।
​পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ মে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল সরজমিনে গিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পায়। তদন্ত দল ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গাটি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে হাসপাতালের পূর্ব পাশে লাগুয়া ৩৭ শতক সরকারি খাস জমি অত্র প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

​এরই ধারাবাহিকতায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং ২৭ অক্টোবর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পৃথক স্মারকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও উপ-পরিচালককে (পরিবার পরিকল্পনা) সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে উক্ত ৩৭ শতক খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে বারবার টেলিফোনেও তাগিদ প্রদান করে বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ উঠেছে, উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া মন্ত্রণালয়ের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তা দীর্ঘদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। কোনো ধরনের ভূমি বরাদ্দের পদক্ষেপ না নিয়ে তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফাইলটি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এবং তাদের সাথে আঁতাত করে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করছেন এই কর্মকর্তা। অসহযোগীতার এই বিষয়ে জমির মালিক সাদেকুর রহমান চৌধুরী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে দরখাস্ত মারফত অবগত করলেও কোনো কাজ হয়নি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গেলো ৪ মাসে ২০ বার কক্সবাজারের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে সরকারি কাজে সহযোগীতা এবং তাঁর মালিকানাধীন জমি অবমুক্ত করতে অনুরোধ করলেও উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া সাড়া দেননি।

এমনকি মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে ২৯ এপ্রিল এতদবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুনরায় চিটি পাঠালেও কর্ণপাত করেননি বিপ্লব বড়ুয়া।

চৌফলদন্ডি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি সাদেকুর রহমান চৌধুরীর মালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত তার পাশে সরকারি খাস জমি রয়েছে। সে খাস জমি আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী দখল করে আছে। এদিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নির্মানের জন্যে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যথাযথ সময়ের মধ্যে খাস জমি দখল উদ্ধার করে যদি স্বাস্থ ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নির্মান করা না হয় সেক্ষেত্রে চৌফলদন্ডির মানুষের স্বাস্থ্য সেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

​সরকারি নির্দেশনা অমান্য এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া চক্রকে সুবিধা দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে হাসপাতালটির নামে খাস জমি বরাদ্দ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিপ্লব বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ আমলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও আওয়মাীলীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার তদবির ও আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি না পাওয়া সত্ত্বেও পরিচালক অর্থ ও লাইন ডাইরেক্টর (এফপও-এফএসডি) এর পদ দখল করে রাখে। ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে তাকে মূল পদ উপ-পরিচালক পদে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়াওনতার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে অনৈতিক পন্থায় ৪৫ মিলিয়ন সাইকেল খাবার বড়ির দরপত্র বাতিলের সাথে তিনি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনীহার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া জানান, কোনো অনীহা নেই, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাজ চলবে।

কাজে বিলম্ব এবং মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে তাগাদা দেয়ার পরও কাজ কেনো এগুচ্ছে না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”আমাদের করনীয় আমরা করেছি। জেলা প্রশাসকের কাছে অধিদপ্তর থেকে চিটি দেয়া হয়েছে, সে মোতাবেক জেলা প্রশাসক জমির বিষয়ে যে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন, সে অনুযায়ী কাজ হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ

সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:২৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে আঁতাত করে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইচ্ছাকৃত বিলম্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি রহস্যজনক কারণে চৌফলদন্ডি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের জন্যে খাস জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি মো. সাদেকুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যান্যদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় নির্মিত হয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী নিজের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া দানপত্র দলিল তৈরি করেন। এই ভুয়া দলিলের ওপর ভিত্তি করেই ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়, যা গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্তে দেখা যায়, চৌফলদণ্ডী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অন্য ব্যক্তির জমির দাগ ব্যবহার করে ভুয়া দানপত্র সৃজন করা হয়েছে।
​পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত বছরের ১৭ মে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল সরজমিনে গিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পায়। তদন্ত দল ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গাটি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে হাসপাতালের পূর্ব পাশে লাগুয়া ৩৭ শতক সরকারি খাস জমি অত্র প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

​এরই ধারাবাহিকতায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এবং ২৭ অক্টোবর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পৃথক স্মারকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও উপ-পরিচালককে (পরিবার পরিকল্পনা) সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে উক্ত ৩৭ শতক খাস জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে বারবার টেলিফোনেও তাগিদ প্রদান করে বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ উঠেছে, উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া মন্ত্রণালয়ের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তা দীর্ঘদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখেন। কোনো ধরনের ভূমি বরাদ্দের পদক্ষেপ না নিয়ে তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফাইলটি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এবং তাদের সাথে আঁতাত করে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করছেন এই কর্মকর্তা। অসহযোগীতার এই বিষয়ে জমির মালিক সাদেকুর রহমান চৌধুরী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে দরখাস্ত মারফত অবগত করলেও কোনো কাজ হয়নি। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গেলো ৪ মাসে ২০ বার কক্সবাজারের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে সরকারি কাজে সহযোগীতা এবং তাঁর মালিকানাধীন জমি অবমুক্ত করতে অনুরোধ করলেও উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া সাড়া দেননি।

এমনকি মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে ২৯ এপ্রিল এতদবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুনরায় চিটি পাঠালেও কর্ণপাত করেননি বিপ্লব বড়ুয়া।

চৌফলদন্ডি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রটি সাদেকুর রহমান চৌধুরীর মালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত তার পাশে সরকারি খাস জমি রয়েছে। সে খাস জমি আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী দখল করে আছে। এদিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নির্মানের জন্যে সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যথাযথ সময়ের মধ্যে খাস জমি দখল উদ্ধার করে যদি স্বাস্থ ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র নির্মান করা না হয় সেক্ষেত্রে চৌফলদন্ডির মানুষের স্বাস্থ্য সেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

​সরকারি নির্দেশনা অমান্য এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া চক্রকে সুবিধা দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে হাসপাতালটির নামে খাস জমি বরাদ্দ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিপ্লব বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ আমলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ও আওয়মাীলীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার তদবির ও আত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি না পাওয়া সত্ত্বেও পরিচালক অর্থ ও লাইন ডাইরেক্টর (এফপও-এফএসডি) এর পদ দখল করে রাখে। ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে তাকে মূল পদ উপ-পরিচালক পদে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়াওনতার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে অনৈতিক পন্থায় ৪৫ মিলিয়ন সাইকেল খাবার বড়ির দরপত্র বাতিলের সাথে তিনি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনীহার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া জানান, কোনো অনীহা নেই, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কাজ চলবে।

কাজে বিলম্ব এবং মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে তাগাদা দেয়ার পরও কাজ কেনো এগুচ্ছে না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,”আমাদের করনীয় আমরা করেছি। জেলা প্রশাসকের কাছে অধিদপ্তর থেকে চিটি দেয়া হয়েছে, সে মোতাবেক জেলা প্রশাসক জমির বিষয়ে যে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন, সে অনুযায়ী কাজ হবে।”