ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী কক্সবাজারে পাঁচ মাসে ৫৩ হত্যা, ৭ ডাকাতি, ১৪ ছিনতাই টেন হেডেড মাইক্রোস্কোপ ক্যান্সার নির্ণয়ে আরও ভূমিকা রাখবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আসছে ডিজিটাল আইডি, মিলবে যেসব সেবা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের টেকনাফে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ টেন স্টার সংগঠনের ​মিয়ানমারের মংডু শহরে বিমান হামলা: আতঙ্কে কাঁপছে টেকনাফ সীমান্ত বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, কক্সবাজারে পরীক্ষার্থী ১৫ হাজার ৭৪৮ জন ইতিহাস ব্রাজিলের বিপক্ষে, তবু হলান্ড বলছেন, ‘সম্ভাবনা ক্ষীণ’ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে সব সাময়িক দোকানপাট সরানোর নির্দেশ ‘খেলা না খেলা বড় কথা নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েই বাড়ি ফিরব’ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ চালুর দাবি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে এমপি স্বপ্নার আবেদন উখিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব নাফনদী সাঁতরে আনছিলো ইয়াবা, আটক পাচারকারি: ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

আসছে ডিজিটাল আইডি, মিলবে যেসব সেবা

সম্প্রতি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। এর আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ প্রকল্পের আওতায় শিশুর জন্মের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। সে আইডির মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। নাগরিককে আর আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার একই তথ্য জমা দিতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে।

এছাড়া, বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে, প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

যদিও কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়ান্স) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আসছে ডিজিটাল আইডি, মিলবে যেসব সেবা

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সম্প্রতি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। এর আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ প্রকল্পের আওতায় শিশুর জন্মের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। সে আইডির মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবাসহ সব ধরনের সরকারি সেবা ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে। নাগরিককে আর আলাদা আলাদা পরিচয়পত্র বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার একই তথ্য জমা দিতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে।

এছাড়া, বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে, প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনে ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

যদিও কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়ান্স) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর