ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ কউক’র উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন- কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান চুড়ান্ত হচ্ছে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জমিতে বন্দিশিবির ও সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে আরাকান আর্মি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জরিমানা ব্যাংক-বিমা, সিগারেট ও মোবাইল ফোনসহ ১১ খাতে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক মানবতাবিরোধী অপরাধ : ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পরিকল্পিত নগরায়নে প্রতি সিটি ও জেলায় হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়ায় ২ ভূয়া ডাক্তার : ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা উখিয়ায় শ্মশানের দেয়াল ভাঙচুর : পুন:নির্মাণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দূর্গাপুজা বন্ধের ঘোষণা কক্সবাজার সরকারি কলেজে মাস্টার্সে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৫ বিষয় : ইংরেজি, ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও প্রাণিবিদ্যা লিবিয়াকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের মুলহোতা মহিউদ্দিন আটক, তার ভাই মুজিব অধরা

নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক

টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে ধাওয়া করলে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে রোহিঙ্গা ডাকাত দল। এর জবাবে ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে বিজিবি। এসময় দুই রোহিঙ্গা ডাকাত কে আটক করে বিজিবি।

এ সময় নাফ নদী থেকে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাব্যিক চর নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

​বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে হ্নীলা বিওপির সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৩ থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে দুই জন রোহিঙ্গা জেলেসহ একটি নৌকা সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে তিন জন রোহিঙ্গা ডাকাত দলের একটি নৌকা তাদের ধাওয়া করে স্লুইসগেটের কাছে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু জেলেদের নৌকাটি না থামানোয় রোহিঙ্গা ডাকাত দল ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে দুই রোহিঙ্গা জেলে নৌকা থেকে নাফ নদীর পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুলির আওয়াজ শুনে হ্নীলা বিওপির বিজিবির একটি নিয়মিত টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের নৌকাটি বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ২০০ মিটার নাফ নদীর ভেতরে চলে যায়। এ সময় বিজিবি টহল দল পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকা দুই রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করে।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি জানায়, ঈদের ছুটির কারণে ওই সময়ে সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধের ওপর প্রচুর দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালানো থেকে বিরত থাকে, যাতে ডাকাত দলের ফিরতি গুলিতে সাধারণ বেসামরিক মানুষ হতাহত না হন। পরবর্তীতে ডাকাত দলের নৌকাটি সুলিশপাড়া হয়ে বিওপির সামনে দিয়ে পুনরায় চর কাব্যিকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি জোরালো ধাওয়া করে এবং ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বিজিবির মারমুখী অবস্থানের মুখে ডাকাত দল চর কাব্যিকের গহীন এলাকায় পালিয়ে যায়। উপস্থিত দর্শনার্থীদের বরাতে আরও জানা গেছে, আটককৃত রোহিঙ্গাদের নৌকা থেকে ডাকাত দল জাল সদৃশ কিছু বস্তু নিজেদের নৌকায় তুলে নেয় এবং নৌকাটি নাফ নদীর প্রায় ১০০-১৫০ মিটার ভেতরে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

​আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫, ব্লক-২ এর জমির হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন এবং জোহাত ক্যাম্প-৪, ব্লক-বি এর মো. আলীর ছেলে মো. নুরুল আমিন।

বিজিবির প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, আটককৃত রোহিঙ্গারা মূলত মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে চর কাব্যিক এলাকায় অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে রোহিঙ্গা ডাকাত দল তাদের মালামাল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে এবং জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

আটককৃত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫

নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সাথে বিজিবির গোলাগুলি : ২ ডাকাত আটক

আপডেট সময় : ০১:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে ধাওয়া করলে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে রোহিঙ্গা ডাকাত দল। এর জবাবে ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে বিজিবি। এসময় দুই রোহিঙ্গা ডাকাত কে আটক করে বিজিবি।

এ সময় নাফ নদী থেকে দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাব্যিক চর নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

​বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে হ্নীলা বিওপির সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৩ থেকে আনুমানিক ৬০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে দুই জন রোহিঙ্গা জেলেসহ একটি নৌকা সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ব্রিজের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে তিন জন রোহিঙ্গা ডাকাত দলের একটি নৌকা তাদের ধাওয়া করে স্লুইসগেটের কাছে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু জেলেদের নৌকাটি না থামানোয় রোহিঙ্গা ডাকাত দল ১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে দুই রোহিঙ্গা জেলে নৌকা থেকে নাফ নদীর পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুলির আওয়াজ শুনে হ্নীলা বিওপির বিজিবির একটি নিয়মিত টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এগিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের নৌকাটি বেড়িবাঁধ থেকে প্রায় ২০০ মিটার নাফ নদীর ভেতরে চলে যায়। এ সময় বিজিবি টহল দল পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকা দুই রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করে।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিজিবি জানায়, ঈদের ছুটির কারণে ওই সময়ে সুলিশপাড়া বেড়িবাঁধের ওপর প্রচুর দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ফলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালানো থেকে বিরত থাকে, যাতে ডাকাত দলের ফিরতি গুলিতে সাধারণ বেসামরিক মানুষ হতাহত না হন। পরবর্তীতে ডাকাত দলের নৌকাটি সুলিশপাড়া হয়ে বিওপির সামনে দিয়ে পুনরায় চর কাব্যিকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি জোরালো ধাওয়া করে এবং ডাকাত দলকে লক্ষ্য করে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। বিজিবির মারমুখী অবস্থানের মুখে ডাকাত দল চর কাব্যিকের গহীন এলাকায় পালিয়ে যায়। উপস্থিত দর্শনার্থীদের বরাতে আরও জানা গেছে, আটককৃত রোহিঙ্গাদের নৌকা থেকে ডাকাত দল জাল সদৃশ কিছু বস্তু নিজেদের নৌকায় তুলে নেয় এবং নৌকাটি নাফ নদীর প্রায় ১০০-১৫০ মিটার ভেতরে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

​আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫, ব্লক-২ এর জমির হোসেনের ছেলে ইমাম হোসেন এবং জোহাত ক্যাম্প-৪, ব্লক-বি এর মো. আলীর ছেলে মো. নুরুল আমিন।

বিজিবির প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, আটককৃত রোহিঙ্গারা মূলত মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে চর কাব্যিক এলাকায় অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে রোহিঙ্গা ডাকাত দল তাদের মালামাল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে এবং জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

আটককৃত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।