জন্ম যার এক অজ পাড়া গায়।সালটা ১৯৩৯। মগনামায় জন্ম নেয়া এই মানুষটি এতদঅঞ্চলের উত্তীর্ণ এক স্বত্বা। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন নেতৃত্বের গুনাবলীর অধিকারী। পেকুয়া জিএমসি ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেনীর ছাত্র থাকাকালে পর পর দু’বার স্কুল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে প্রবেশিকা, ১৯৫৮ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে আইএ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে বিএ পাশ করেন। তারপর কিছুদিন চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। সেবছর ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরতে প্রাদেশিক গভর্নর জেনারেল আজম খানের সাথে দেখা করেন এবং আজম খানের সাথে হেলিকপ্টার যোগে কুতুবদিয়া গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেন। এরপর কিছুদিন ঠিকাদারি করেন। সেসময় ১৯৬৪ সালে কক্সবাজার মহকুমা আওয়ামীলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হন এবং সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিরোধী ‘কপ’ আন্দোলনে অংশ নেন। এর পরের বছর লবণের উপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারে আন্দোলন গড়ে তুলেন এবং লবণ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন।
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক হন এবং ৬ দফা আন্দোলনে অংশ নেন।১৯৬৮ সালে তিনি আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সে বছর চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে তিনি প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ( এমপিএ) নির্বাচিত হন। তারপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালে কক্সবাজার মহকুমা প্রশাসনিক পরিষদের চেয়ারম্যান হন এবং একই বছর ৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত এমএনএ ও এমপিএদের নিয়ে গণপরিষদ গঠিত হলে,গণপরিষদের সদস্য হিসেবে সংবিধান খসড়া প্রণয়ন কমিটির সদস্য হন।
১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠিত হলে তিনি কক্সবাজারের গভর্নর নিযুক্ত হন। ১৯৮০ সালে তিনি কক্সবাজার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালে স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হন এবং ৪২ দিন কারাভোগ করেন। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন তবে এই দুই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ১৯৮৬ ও ৮৭ সালে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯৯৩ সালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরাম গঠন করেন এবং গণফোরামের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে আত্মজীবনীমূলক “বাংলাদেশের রাজনীতি: আওয়ামীলীগ ও আওয়ামীলীগ বিরোধী রাজনীতি” নামের গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
মোধায় অনন্য এ মানুষটি দেশের আইন অঙ্গনেও স্বাক্ষর রেখেছেন সাফল্যের। সুপ্রিম কোর্টে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে বেশ সুনামের অধিকারী ছিলেন। ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচরদের একজন। রাজনীতিতেও তিনি সফল। মানুষের অধিকার আদায়ে আদালতের পাশাপাশি রাজপথেও ছিলেন সরব। সুবক্তা হিসেবেও তিনি ছিলেন সুবিদিত।
২০২০ সালের ১৮ মে ৮১ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। অ্যডভোকোট জহিরুল ইসলামের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে দোয়া মাহফিলসহ নানান আয়োজন রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















