ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, সোমবারও বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে  সেই নবদম্পতির জন্য উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসলেন উখিয়ার সেই ইউপি সদস্য, তদন্তের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে- ববি হাজ্জাজ  খুরুশকুলের শিশু উর্মি হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা : আসামী ৩ জন কক্সবাজার: স্বপ্নের পথে মৃত্যু, আর কত? জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এমপি স্বপ্না-নিরাপত্তা জোরদার, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে উখিয়ায় জামায়াত-এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপির কে? ইনানী সী পার্ল রিসোর্ট – চাকচিক্যের আড়ালে রাষ্ট্রের ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!  স্থানীয় সরকার নির্বাচন – কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর ও উখিয়ায় প্রার্থী দিল এনসিপি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কর্মশালায় ফারুক ওয়াসিফ-প্রযুক্তির এই যুগে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ববি হাজ্জাজ মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে ৫ জামায়াত-বিএনপি নেতা আটক কক্সবাজারে শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম প্রশিক্ষণ

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।