ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা রোনালদো বললেন, মেসিই সর্বকালের সেরা হজের খরচ কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী মানবিক সহায়তা জোরদার ও নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের সমঝোতার পরই হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের ১১ জাহাজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী শিশু ওয়াহিদ হ-ত্যা: বিক্ষোভে ফুঁসছে চকরিয়া, আসামিদের পক্ষে দাঁড়াবে না আইনজীবীরা কুতুবদিয়ায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত মিয়ানমার-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঈদগাঁওয়ের যুবকের মৃত্যু, আহত ১ কুতুবদিয়ায় জামায়াত আমীর আনোয়ারী – ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে” চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার আপত্তিকর ভিডিও প্রচারের অভিযোগে কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষার্থী বহিষ্কার জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

  • কালাম আজাদ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 676

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অসহিষ্ণু সমাজের আয়নায় আমরা

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।