ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার হেরেও রেকর্ড করলো মহেশখালী উপজেলা ফুটবল দল পরিবেশের দোহাই দিয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্তকারীদের হটাতে হবে- মানববন্ধনে বক্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জেনারেটরে ওড়না পেঁচিয়ে আইওএমের নারী প্রকৌশলীর মৃত্যু ২২ বছরেও সংস্কার হয়নি পেকুয়ার সিরাদিয়া সড়ক, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ টেকনাফে র‍্যাবের পৃথক অভিযান: বিদেশি এসএমজি উদ্ধার, ৩২৭ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক দর্শকের ঢল সামলাতে ব্যর্থ জেলা স্টেডিয়াম: আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি! উখিয়ায় যুবদল নেতার নেতৃত্বে ইয়াবা ছিনতাইয়ের অভিযোগ চকরিয়ায় বসতঘরে অভিযান, ইয়াবা-গাঁজা ও নগদ টাকাসহ নারী কারবারি গ্রেপ্তার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশে খেলতে চায় ব্রাজিল বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে কোরআন প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে সরকার বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত মহেশখালী দলে খেলছে না জাতীয় ও পরিচিত কোনো স্টার প্লেয়ার: অফিশিয়ালদের বিরুদ্ধে সমালোচনা

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

  • কালাম আজাদ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • 752

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৫, ইয়াবা ও সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার

২৫ মার্চের অপারেশন সার্চলাইটে সেনাবাহিনীতে কর্মরত কক্সবাজারের দুই শহীদ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

গোলাম কাদের (১৯৪০-১৯৭১)

অপারেশন সার্চ লাইটের দিন যে সব বাঙালি সেনা শহীদ হন তাদের অন্যতম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্সনায়েক শহীদ গোলাম কাদের (সৈনিক নং- ১৩১৬২৭৮)। চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের গ্রামের আমজাদ আলী ও আফিয়া খাতুনের গর্বের ধন। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ৮ আগস্ট সাহারবিল মাইজপাড়া গ্রামে জন্ম তাঁর। মেট্টিকুলেশন পাশের পর পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগদেন। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক হিসেবে কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী ল্যান্সনায়েক গোলাম কাদেরসহ কুমিল্লা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে তাদেরকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।’
মুক্তিযোদ্ধার নামীয় তালিকায় ০২০৬০৬০৫২ নম্বরের আইডি এবং ৪৮১৫৪ নম্বরধারী মন্ত্রণালয়ের সনদ, মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)- ০২১৩০৩০০৪৬ এবং ৪ জুন ২০০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৪০ নম্বর বাংলাদেশ গেজেটে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমানে তার তিন পৌষ্য ফরিদা ইয়াসমিন, মাহফুজা বেগম ও সায়েরা বানু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান।

ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সদস্য হিসেবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যারা অবদান রেখে শহীদ হন তাদের অন্যতম ক্যাপ্টেন মকবুল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালীর গ্রামের হাজী আবদুস সোবহান ও পরান্নেসা বেগমের পুত্র। চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস এস সি, চট্টগ্রাম ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ) থেকে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করার পর ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে অফিসার ক্যাডেটে সেনা বাহিনীতে যোগ দেন। সেকেণ্ড লে.কর্নেল হিসেবে পাকিস্তানের করাচীতে ২ বছর কর্মরত থাকার পর চট্টগ্রাম সেনা নিবাস হয়ে সর্বশেষ একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের আগে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পেয়ে পিএস সি ( পিএসএস ১০৭৪৭৬) ’ কুমিল্লা সেনা নিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে পাক বর্বর বাহিনী কুমিলা সেনা নিবাসের সকল বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে। পরে মিটিংয়ের নামে একটি হল ঘরে নিয়ে ১৩ জন সৈনিককে একটি গর্তে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। এই তের জনের মধ্যে ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদও ছিলেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গর্ত থেকে অন্যান্য সৈনিকের মতো মকবুল আহমদের সোল্ডার বেইজসহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা ক্যান্টেনমেন্ট এর ৬ নং সেক্টরে তাকে সমাহিত করা হয়।
হ্নীলা বাসস্টেশন টু পানখালী সড়কটি হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও টেকনাফ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহায়তায় ‘শহীদ ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ সড়ক’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

কালাম আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।