রামু উপজেলার শ্রীকুল পুরাতন রাখাইন বৌদ্ধ বিহারের প্রাক্তন বিহার অধ্যক্ষ, প্রয়াত ভদন্ত উঃ ছেকাচারা মহাথের মহোদয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ৭ ও ৮ মে (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) দুই দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মহান ধর্মীয় গুরুর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রীকুল মৈত্রী বিহার সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনের এই শোকোৎসব।
বিহার পরিচালনা কমিটি ও সকল দায়ক-দায়িকা বৃন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের প্রথম দিন ৭ মে দুপুর ২টায় শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। এরপর প্রয়াত মহাথের মহোদয়ের মরদেহ বিহার থেকে বিশেষ ভাবে তৈরি ‘ছে কাং’ এ স্থানান্তর করা হবে। দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী এয়াইং (দোলনা) ও আলং নৃত্য এবং রাতে সদ্ধর্মদেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় দিন ৮ মে (শুক্রবার) ভোরে ভিক্ষুসংঘের প্রাতরাশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। সকাল ৭টায় ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন সময়ে এয়াইং ও আলং নৃত্য পরিবেশিত হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে সঙ্ঘদান সভা। দুপুরে অতিথিদের ভোজন শেষে দুপুর ১টায় পঞ্চশীল গ্রহণ ও অনিত্য সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বিকাল ৩টায় মহাথের মহোদয়ের মরদেহ ‘ছে কাং’ থেকে দাহক্রিয়ার আসনে (তালাং) স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তীতে বিকাল ৪টায় বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে আতশবাজি ও ‘শবদেহ’ তে অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
শ্রীকুল পুরাতন রাখাইন বৌদ্ধ বিহারের পক্ষ থেকে উক্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে উপস্থিত থেকে পুণ্য লাভের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উঃ ছেকাচারা মহাথের গত রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজ বিহারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়ানকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০১ বছর।
রামু শ্রীকুল পুরাতন বিহারের অধ্যক্ষ, শতবর্ষী সংঘপুরোধা, আজীবন বিনয়ানুকূল ভিক্ষু জীবনধারী,
উঃ ছেকাচারা মহাথের ১৯২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের শ্রীকুলে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল নিওহলা রাখাইন (সওদাগর) এবং মাতার নাম ছিল প্যানগ্রা রাখাইন।নিওহলা রাখাইন (সওদাগর) এবং প্যানগ্রা রাখাইনের সংসারে তিন পুত্র এবং দুই কন্যা সন্তান ছিলেন।পরিবারের সবার কনিষ্ট সন্তানের নাম ছিল চিংহলা প্রু রাখাইন। চিংহলা প্রু রাখাইন ১৯৪২ সালে শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হন। তখন থেকে তিনি ছেকাচারা শ্রামণ নাম ধারণ করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ এক যুগ পরে ছেকাচারা শ্রামণ ১৯৫৬ সালে আকিয়াবের বেইচিং বিহারের অধ্যক্ষ পণ্ডিত উঃ গারুবংশ মহাথেরোর উপাধ্যায়াত্বে পবিত্র ভিক্ষু জীবন গ্রহণ করেন। সেই থেকে তাঁর নাম হয় উঃ ছেকাচারা ভিক্ষু। মিয়ানমারে কিছু বছর অবস্থান করে তিনি ১৯৮৮ সালে জন্ম জনপদ রামুতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি সেই থেকে আমৃত্যু রামুতেই ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : 




















