তীব্র রোদের দিনগুলোই ছিল কক্সবাজারের লবণ চাষিদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। সূর্যের তাপকে তারা শত্রু নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতেন কারণ সেই রোদের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল তাদের স্বপ্ন, সংসার আর জীবনের হিসাব-নিকাশ। কিন্তু হঠাৎই বদলে গেল সবকিছু। বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টিপাত যেন এই শিল্পের ওপর নেমে এসেছে এক নীরব ধ্বংসযজ্ঞ ।
কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণের মাঠ যেখানে প্রতিদিন সাদা সোনার ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ত, সেখানে এখন জমে আছে বৃষ্টির পানি। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে হাজারো পরিবারের জীবনের ভিত।
সরজমিন খুরুশকুলের চৌফলদণ্ডী, নাপিতখালী আর ইসলামপুরের লবণ মাঠে গেলে দেখা যায় এক বুক ভারী করা দৃশ্য। বিশাল মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কালো পলিথিন, কোথাও জমে থাকা পানি, আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শ্রমিক ,যাদের চোখে ক্লান্তি নয়, যেন নিঃশব্দ কান্না জমে আছে। সরোয়ার , আব্দুল হালিম , আবুল হোসেন সহ ৩ জন লবণ চাষি বলেন যে লবণ আমরা কষ্ট করে তুলেছিলাম, সব বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কথাগুলো শেষ হয়, কিন্তু তাদের চোখের ভাষা বলে দেয় আরও অনেক কিছু।
এদিকে কক্সবাজারের লবণ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, আকস্মিক বৃষ্টিতে সাধারণত লবণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না, তবে এ বছর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। প্রায় ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে উৎপাদন অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ কম উৎপাদন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টি কমে এলে আবার তাপপ্রবাহ ফিরে আসতে পারে।
অন্যদিকে লবণ চাষীদের আবারও নতুন করে স্বপ্ন বুনেন , প্রতিটি ব্যর্থ মৌসুমের পরেও তারা নতুন করে মাঠে নামেন, পলিথিন বিছান, পানি শুকানোর অপেক্ষায় থাকেন, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন আগামী দিনটা নিশ্চয়ই ভালো হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: 




















