ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার ইউপি সদস্য রুস্তম আলী টেকনাফে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান: অপহরণ চক্র ও পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনে তৎপরতা জোরদার আগুন দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু রাইয়ানের সংকটেও বিদ্যুৎ গিলছে টমটম-ইজিবাইক স্লোগান, সুবিধা ও বাস্তবতার রাজনীতি নিখোঁজ সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কারচুপির অভিযোগে হামিদুর রহমানের মামলা: কক্সবাজার-২ আসনের নির্বাচনী নথি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে তাহসানের চুক্তি নবায়ন ঈদগড়ের ইউপি সদস্য অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি চকরিয়ায় বেড়িবাঁধ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাটজাত ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস দেবে সরকার অভাব ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে ‘ভাগ্যের জুয়ায়’ টেকনাফের হ্নীলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ১০-১২টি বসতবাড়ি

রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি

  • আহসানুল হক:
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • 572

কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুলে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শাহরিয়াতের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, তানিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের বড় বোন জানান, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ইমুতে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন তানিয়া। সেখানে তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন: “আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও! না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”

এই ভিডিও বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়ার মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া ও শাহরিয়াতের বিয়ে হয়েছিল প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে। শুরুতে পরিবার রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে তানিয়ার সুখের কথা চিন্তা করে মেনে নেয়। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে শাহরিয়াত পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি তানিয়ার স্বজনদের ।

তারা বলেন, স্বামী শাহরিয়াতের পরকীয়া জেনে ফেলায় তানিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

ঘটনার দিনও এই বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তানিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মারধরের চিহ্ন লুকাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
দেওয়া হয়।

নিহত তানিয়ার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অবুঝ এই শিশুটিকে এতিম করার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তানিয়ার স্বজনেরা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘাতক স্বামী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী শাহরিয়াত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৮ লাখ টাকা মুক্তিপণে ইউপি সদস্যের মুক্তি, পুলিশের দাবি উদ্ধার

রামুতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: মৃত্যুর আগে ভিডিও বার্তায় বাঁচার আকুতি

আপডেট সময় : ১১:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুলে তানিয়া আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী শাহরিয়াতের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাকমারকুল ইউনিয়নের মিস্ত্রী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তানিয়া ওই এলাকার গ্রাম পুলিশ মকতুল হোসেনের পুত্রবধূ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, তানিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের বড় বোন জানান, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ইমুতে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন তানিয়া। সেখানে তিনি আর্তনাদ করে বলেছিলেন: “আমাকে অনেক মারধর করছে, আমাকে বাঁচাও! না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।”

এই ভিডিও বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তানিয়ার মৃত্যুর খবর পায় তার পরিবার। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া ও শাহরিয়াতের বিয়ে হয়েছিল প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে। শুরুতে পরিবার রাজি না থাকলেও পরবর্তীতে তানিয়ার সুখের কথা চিন্তা করে মেনে নেয়। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে শাহরিয়াত পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি তানিয়ার স্বজনদের ।

তারা বলেন, স্বামী শাহরিয়াতের পরকীয়া জেনে ফেলায় তানিয়ার ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।

ঘটনার দিনও এই বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তানিয়াকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। মারধরের চিহ্ন লুকাতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে
দেওয়া হয়।

নিহত তানিয়ার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অবুঝ এই শিশুটিকে এতিম করার বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তানিয়ার স্বজনেরা। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ঘাতক স্বামী ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী শাহরিয়াত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।