ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হলো চকরিয়ার কিশোর সাজিদ সাংগঠনিক গতি বাড়াতে এমজেএ কক্সবাজারের সভা, নতুন সদস্য আহ্বান ও উপ-কমিটি গঠন কুতুবদিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রীর গাড়ি, শিশুসহ ৪জন আহত নতুন গণমাধ্যম নিয়ে আসছেন সাকিব রামুতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ টেকনাফ ও ইনানী থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রা: আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি,উদ্ধার ৯, নিখোঁজ ২ শতাধিক সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না রোগীর সেবায় ২৪ ঘন্টা জরুরি বিভাগ সচল রাখতে হবে-এমপি কাজল ২ দিনের সফরে সোমবার কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা কালেক্টরেট সহকারী সমিতির নতুন কমিটি: জুবাইর আহবায়ক, মিজান সদস্য চুরি-ছিনতাই রোধ, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা জনরায় উপেক্ষিত হলে দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
মাথাবিহীন নারী, খণ্ডিত পুরুষ: পরিচয় মুছে ফেলার নৃশংস কৌশল

দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে

৫৫ কিলোমিটারের দূরত্বে একই জেলায় দুইদিনের ব্যবধানে দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। একটিতে মাথা ও হাতের কব্জিবিহীন নারীর অর্ধগলিত মরদেহ। অন্যটিতে খণ্ডিত করে বস্তাবন্দি করা অজ্ঞাত এক পুরুষের মরদেহ। কক্সবাজারে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় শুধু স্থানীয় জনপদ নয়, ভাবিয়ে তুলেছে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও।

তদন্তকারীদের ভাষায়, “এগুলো কেবল খুন নয়। বরং ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে পরিকল্পিতভাবে পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা। যা পেশাদার খুনির সম্পৃক্ততার স্পষ্ট ইঙ্গিত।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কিনারে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ। দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা দ্রুত খবর দেন কক্সবাজার সদর মডেল থানায়।

পুলিশ গিয়ে কম্বল খুলতেই সামনে আসে বিভৎস চিত্র। মরদেহের মাথা নেই, নেই দুই হাতের কবজি। দ্রুত সুরতহাল শেষে মরদেহ পাঠানো হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে।

মরদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব পাল কুন্ড। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রাথমিক ধোঁয়াশা কাটিয়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত নারীকে সাদিয়া আক্তার মুন্নি (২৮) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি মহেশখালী উপজেলার জাগিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সাইফুর রহমান। যিনি এখন পলাতক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত রমজানের মাঝামাঝি সময়ে এ দম্পতি দক্ষিণ জানারঘোনায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। স্বামী সাইফুর রহমান নিজেকে গাড়িচালক পরিচয় দিতেন। আর সাদিয়া গৃহিণী ছিলেন। কিন্তু ঈদের পর থেকে তাদের কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমিউদ্দিন নিশ্চিত করেন, “মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাতলা কম্বলে মোড়ানো ছিলো। মাথা ও কবজি বিচ্ছিন্ন থাকায় এটি অত্যন্ত রহস্যজনক। আমরা এখনো মাথাটি উদ্ধার করতে পারিনি।”

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, “মুখমণ্ডল এবং হাতের আঙুল না পাওয়ায় তার পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। স্বজন দাবি করা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ডিএনএ মেলানো হবে।”

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সনজীব পাল কুন্ডের ভাষ্য, “এই নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের বিষয় সামনে আসলেও খুনের ধরন অত্যন্ত পেশাদার।”

তবে স্বজনদের দাবি, সাদিয়ার সঙ্গে কারোর কোন বিরোধ ছিলো না। কিন্তু গত ২৭ মার্চ থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।

এর দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নেরর দক্ষিণ কচ্ছপিয়া এলাকায় হোছনী খালের একটি কালভার্টের নিচে পড়ে থাকা কয়েকটি বাজারের থলে ঘিরে কুকুরের অস্বাভাবিক আচরণ নজরে আসে পথচারীদের। সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ গিয়ে থলে গুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে টুকরো করে কাটা মানবদেহের ছয়টি খণ্ডাংশ। পরে সেগুলো এক জায়গায় রেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একজন পুরুষের মরদেহ। তবে পরিচয় এখনো অজানা।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) দুর্জয় বিশ্বাস নিশ্চিত করেন, “ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহটি টুকরো করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর গুমের জন্য বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যেন জোয়ারে ভেসে সাগরে চলে যায়।”

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এখনো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।”

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুটি ঘটনাতেই খুনিরা অত্যন্ত সচেতনভাবে ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছে। টেকনাফের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির হাতের চামড়া তুলে ফেলা হয়েছে। যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা না যায়। ঝিলংজার ঘটনায় নারীর মাথা ও কব্জি কেটে আলাদা করে গুম করা হয়েছে। যাতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়।

পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাসের মতে, “এসব প্যাটার্ন স্পষ্টতই পেশাদার অপরাধীচক্রের ইঙ্গিত বহন করে। আমরা সম্ভাব্য সূত্র ধরে তদন্তে আগাচ্ছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও নতুন নয়। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যারো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন মো. শাহেদুল্লাহ। তার মতে, “ঝিলংজার ঘটনার কারণ যা-ই হোক, হত্যার ধরণ কিন্তু পেশাদার।”

তার ভাষ্য, “খুনিরা এখন পুলিশের অপরাধী ধরার প্রক্রিয়া সম্পর্কে দারুণভাবে অবগত। এই দুটো ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো।”

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। তিনি জানান, “খুনের ধরণ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নৃশংসতা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এটি তদন্তে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে, কোনো অপরাধই শতভাগ নিখুঁত নয়। অপরাধীরা অজ্ঞাতসারে কোনো না কোনো ক্লু রেখে যায়।”

তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, “পুলিশ সেই ক্লুগুলো খুঁজে পাবে। দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরার কাজ চলছে। দ্রুতই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে।”

এদিকে সামাজিক সংগঠন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, দুটি ঘটনার পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মরদেহ বিকৃত করার এই প্রবণতা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ভরসা দিয়ে এ এন এম সাজেদুর রহমান অবগত করেন, দুটি ঘটনাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র গরমেও পর্যটকের ঢল, নোনাজলে খুঁজছে স্বস্তি

মাথাবিহীন নারী, খণ্ডিত পুরুষ: পরিচয় মুছে ফেলার নৃশংস কৌশল

দুই খুন ভাবিয়ে তুলেছে খোদ পুলিশকে

আপডেট সময় : ০২:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

৫৫ কিলোমিটারের দূরত্বে একই জেলায় দুইদিনের ব্যবধানে দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। একটিতে মাথা ও হাতের কব্জিবিহীন নারীর অর্ধগলিত মরদেহ। অন্যটিতে খণ্ডিত করে বস্তাবন্দি করা অজ্ঞাত এক পুরুষের মরদেহ। কক্সবাজারে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় শুধু স্থানীয় জনপদ নয়, ভাবিয়ে তুলেছে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও।

তদন্তকারীদের ভাষায়, “এগুলো কেবল খুন নয়। বরং ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে পরিকল্পিতভাবে পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা। যা পেশাদার খুনির সম্পৃক্ততার স্পষ্ট ইঙ্গিত।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কিনারে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ। দুর্গন্ধ ও অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা দ্রুত খবর দেন কক্সবাজার সদর মডেল থানায়।

পুলিশ গিয়ে কম্বল খুলতেই সামনে আসে বিভৎস চিত্র। মরদেহের মাথা নেই, নেই দুই হাতের কবজি। দ্রুত সুরতহাল শেষে মরদেহ পাঠানো হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে।

মরদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব পাল কুন্ড। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রাথমিক ধোঁয়াশা কাটিয়ে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত নারীকে সাদিয়া আক্তার মুন্নি (২৮) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি মহেশখালী উপজেলার জাগিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সাইফুর রহমান। যিনি এখন পলাতক।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত রমজানের মাঝামাঝি সময়ে এ দম্পতি দক্ষিণ জানারঘোনায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। স্বামী সাইফুর রহমান নিজেকে গাড়িচালক পরিচয় দিতেন। আর সাদিয়া গৃহিণী ছিলেন। কিন্তু ঈদের পর থেকে তাদের কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমিউদ্দিন নিশ্চিত করেন, “মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাতলা কম্বলে মোড়ানো ছিলো। মাথা ও কবজি বিচ্ছিন্ন থাকায় এটি অত্যন্ত রহস্যজনক। আমরা এখনো মাথাটি উদ্ধার করতে পারিনি।”

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, “মুখমণ্ডল এবং হাতের আঙুল না পাওয়ায় তার পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। স্বজন দাবি করা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ডিএনএ মেলানো হবে।”

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সনজীব পাল কুন্ডের ভাষ্য, “এই নারীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধের বিষয় সামনে আসলেও খুনের ধরন অত্যন্ত পেশাদার।”

তবে স্বজনদের দাবি, সাদিয়ার সঙ্গে কারোর কোন বিরোধ ছিলো না। কিন্তু গত ২৭ মার্চ থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।

এর দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নেরর দক্ষিণ কচ্ছপিয়া এলাকায় হোছনী খালের একটি কালভার্টের নিচে পড়ে থাকা কয়েকটি বাজারের থলে ঘিরে কুকুরের অস্বাভাবিক আচরণ নজরে আসে পথচারীদের। সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ গিয়ে থলে গুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে টুকরো করে কাটা মানবদেহের ছয়টি খণ্ডাংশ। পরে সেগুলো এক জায়গায় রেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি একজন পুরুষের মরদেহ। তবে পরিচয় এখনো অজানা।

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) দুর্জয় বিশ্বাস নিশ্চিত করেন, “ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহটি টুকরো করা হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর গুমের জন্য বস্তায় ভরে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যেন জোয়ারে ভেসে সাগরে চলে যায়।”

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এখনো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।”

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুটি ঘটনাতেই খুনিরা অত্যন্ত সচেতনভাবে ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করেছে। টেকনাফের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির হাতের চামড়া তুলে ফেলা হয়েছে। যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা না যায়। ঝিলংজার ঘটনায় নারীর মাথা ও কব্জি কেটে আলাদা করে গুম করা হয়েছে। যাতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়।

পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাসের মতে, “এসব প্যাটার্ন স্পষ্টতই পেশাদার অপরাধীচক্রের ইঙ্গিত বহন করে। আমরা সম্ভাব্য সূত্র ধরে তদন্তে আগাচ্ছি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, টেকনাফের বাহারছড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও নতুন নয়। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যারো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন মো. শাহেদুল্লাহ। তার মতে, “ঝিলংজার ঘটনার কারণ যা-ই হোক, হত্যার ধরণ কিন্তু পেশাদার।”

তার ভাষ্য, “খুনিরা এখন পুলিশের অপরাধী ধরার প্রক্রিয়া সম্পর্কে দারুণভাবে অবগত। এই দুটো ঘটনা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখালো।”

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান। তিনি জানান, “খুনের ধরণ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নৃশংসতা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এটি তদন্তে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে, কোনো অপরাধই শতভাগ নিখুঁত নয়। অপরাধীরা অজ্ঞাতসারে কোনো না কোনো ক্লু রেখে যায়।”

তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, “পুলিশ সেই ক্লুগুলো খুঁজে পাবে। দুটি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরার কাজ চলছে। দ্রুতই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে।”

এদিকে সামাজিক সংগঠন কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, দুটি ঘটনার পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মরদেহ বিকৃত করার এই প্রবণতা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ভরসা দিয়ে এ এন এম সাজেদুর রহমান অবগত করেন, দুটি ঘটনাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।