ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জেনে নিন ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার চালু হওয়া একগুচ্ছ নতুন নিয়ম কক্সবাজারের তরুণ-যুবসমাজের পক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সাবেক ছাত্রনেতা রিপনের দাবি চট্টগ্রামের টিউশনি শেষে ফেরার পথে মেধাবী ছাত্র রিয়াদুল নিখোঁজ মেরিন ড্রাইভে ধরা পড়ল ১০০ কেজি গাঁজা, আটক ২ ৫ লাখ ইয়াবাসহ মিয়ানমারের দুই মাদক কারবারি আটক ঈদগাঁওয়ে ৬ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, জব্দ টমটম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ, উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট করা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকার এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা নেওয়া প্রসঙ্গ সংসদে, ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কখন, কী কী থাকছে ফলোআপ-মাতামুহুরিতে ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেফতার ৫ প্রধানমন্ত্রীর সফরের ১ দিন আগেই কক্সবাজারে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অপেক্ষায় সাজছে কক্সবাজার, নিরাপত্তা জোরদার

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ১১৯

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। যেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১১ টি শিশু।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিলো। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়া সহ নানা সমস্যা ছিলো। শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। আমরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি শিশুটিকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।

তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য জানতে পারেনি টিটিএন।

কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে খোলা হয়েছে ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড। এছাড়া কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নতুন করে ১১ টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এই মূহুর্তে মোট ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯ টি। তার মধ্যে ৮২ টি শিশু কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা জিনিসপত্র দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশাকরি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও চলছে শিশুদের হামের চিকিৎসা। কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১৫ রমজান থেকে হাম রোগে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। সেটি দিনদিন বাড়তে থাকে। সোমবার ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন-এ এর অভাবে হাম রোগ হয়ে থাকে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে হাম রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাম রোগ হলে শিশুদের নিয়ে বাড়ির পাশের ফার্মেসিতে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জেনে নিন ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার চালু হওয়া একগুচ্ছ নতুন নিয়ম

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু, ভর্তি ১১৯

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। যেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১১ টি শিশু।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটির হামের সাথে আরও জটিলতা ছিলো। শিশুটির হামের সাথে নিউমোনিয়া সহ নানা সমস্যা ছিলো। শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিলো। আমরা বহু চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি শিশুটিকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলো। আমাদের চিকিৎসকরা বহু চেষ্টার পরেও বাঁচাতে পারেনি শিশুটিকে।

তবে শিশুটির পরিচয় এবং কবে মারা গেছে সেই তথ্য জানতে পারেনি টিটিএন।

কক্সবাজারে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে খোলা হয়েছে ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড। এছাড়া কক্সবাজারের বেসরকারি হাসপাতালেও চলছে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নতুন করে ১১ টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এই মূহুর্তে মোট ভর্তি রয়েছে ৩৭ টি শিশু। কেবলমাত্র কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৯ টি। তার মধ্যে ৮২ টি শিশু কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। নার্স আলাদা করা হয়েছে। যা যা জিনিসপত্র দরকার সবকিছু সরবরাহ করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী ভর্তি হচ্ছে। সকলে সহযোগিতা করলে আশাকরি আমরা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারব।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ছাড়াও কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও চলছে শিশুদের হামের চিকিৎসা। কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালের সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ১৫ রমজান থেকে হাম রোগে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। সেটি দিনদিন বাড়তে থাকে। সোমবার ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিচ্ছে। জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি, রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।

ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাসে এবং ১৫ মাসে দুইবার দেওয়া হয়। কক্সবাজারের ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং হামের টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কক্সবাজার অন্যান্য জেলার চেয়ে ভালো থাকে সবসময়। তবুও কিছু শিশুর সাকসেস রেট কম। এছাড়া আমরা নারীদের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন-এ এর অভাবে হাম রোগ হয়ে থাকে। অভিভাবকেরা সচেতন হলে হাম রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাম রোগ হলে শিশুদের নিয়ে বাড়ির পাশের ফার্মেসিতে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।