কক্সবাজারের টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে টেকনাফ সদরের লম্বরী, দরগাহছড়া ও মিঠাপানির ছড়াসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এসব জেলিফিশ বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সৈকতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী এবং চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ মুসা সাইফ বলেন, “সৈকতে হাঁটতে এসে আমরা দেখি অসংখ্য জেলিফিশ মরে তীরে পড়ে আছে। অনেকগুলো বেশ বড় আকৃতির। এভাবে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ মৃত জেলিফিশ ভেসে আসা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। এগুলো দ্রুত পরিষ্কার না করলে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে এবং সৈকতের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ পর্যটকদের মধ্যে এগুলো স্পর্শ করা নিয়ে এক ধরণের দ্বিধা ও ভয় কাজ করছে।”
জেলিফিশ ভেসে আসার কারণ সম্পর্কে স্থানীয় জেলে ইরফান বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় এখন প্রচুর জেলিফিশ জালে আটকা পড়ছে। জেলিফিশ জালে আটকে গেলে জাল টানা ভারি হয়ে যায় এবং অনেক সময় মাছের ক্ষতি হয়। তাই জেলেরা জাল থেকে এগুলো ছাড়িয়ে সাগরেই ফেলে দেন, যা পরে ঢেউয়ের তোড়ে তীরের বালুচরে এসে জমা হচ্ছে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিওআরআই) উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শরীফ জানান, জেলিফিশের সাঁতার কাটার ক্ষমতা খুবই সীমিত। এগুলো মূলত স্রোতের তোড়ে পানিতে ভেসে থাকে। মাছ ধরার সময় এগুলো জেলেদের জালে আটকে পড়ে এবং পরে জেলেরা এগুলো তীরে বা সাগরে ফেলে দেন।
সমুদ্রের অভ্যন্তরে কোনো প্রতিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে এমনটি ঘটছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তেমন কোনো আশঙ্কার কারণ দেখা যাচ্ছে না। যদি বড় কোনো বিপর্যয় হতো, তবে সাগরের বিশাল এলাকা জুড়ে একসাথে মৃত জেলিফিশ ভেসে উঠত। যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে এগুলো দেখা যাচ্ছে, তাই এটি জেলেদের জালে আটকে মারা যাওয়ার ঘটনা বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নোমান অরুপ 


















