ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন প্রবাসীর পাঠানো মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রহমতুল্লাহ ও তার স্ত্রী’র চকরিয়ায় পা’চা’রচ’ক্রের নারী সদ’স্য গ্রে’প্তা’র শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা: কক্সবাজারে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সদ্ধর্ম সভার ব্যাপক প্রস্তুতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বার্মিজ গরুসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি হাইকোর্টের রায়ে শিলখালীর ইউপি চেয়ারম্যান পদে বহাল কামাল হোসেন কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস পালিত চকরিয়ায় বাস চাপায় বিএনপি নেতার মৃত্যু মেরিন ড্রাইভে ‘চান্দের গাড়ি’ বন্ধের দাবি, জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত: গণমিছিল সফল করার আহ্বান জামায়াত নেতার টেকনাফের বাহারছড়ায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে গেলো আরাকান আর্মি ‘মায়েরা যথাযথ ভূমিকা পালন করলে ছেলেমেয়েরা অবশ্যই শিক্ষিত হবে’ দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য কক্সবাজারে ৬৩৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে, থাকবে জরুরি মেডিক্যাল টিম রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জলাশয়ে নারীর মরদেহ উদ্ধার

ইউরোপ যদি ই’রা’ন আ/ক্র/ম/ণ করে, রাশিয়ার ইউরোপ আ/ক্র/ম/ণ সহজ হয়ে যাবে!

বিশ্ব রাজনীতি প্রায়ই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করে, যেখানে একটি আঞ্চলিক সংঘাত হঠাৎ করে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ, বিশেষ করে যদি ইউরোপীয় শক্তি সরাসরি ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভবিষ্যতের জন্য এক বড় ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হলো রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ইউরোপ বা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত মনোযোগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন কোনো শক্তি একাধিক ফ্রন্টে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার সামগ্রিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইউরোপকে সেই অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ তখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাবে। এতে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হতে পারে।

এই পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি ইউরোপের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধসহ পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা প্রশ্নে মস্কো আরও সাহসী অবস্থান নিতে পারে। শক্তির রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া একটি পরিচিত কৌশল, এবং নতুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউরোপের অর্থনীতি। জ্বালানি সংকট, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হলে সেই চাপ বহুগুণ বাড়তে পারে।

তাই প্রশ্নটি শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের নয়; প্রশ্নটি ইউরোপের কৌশলগত ভবিষ্যতের। যদি ইউরোপ এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যা তাকে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সেটি কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি শিক্ষা দেয়: অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিপদ আসে সেই যুদ্ধ থেকে, যেটিকে প্রথমে দূরের সমস্যা বলে মনে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধও হয়তো ইউরোপের জন্য তেমনই এক কৌশলগত ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।

ট্যাগ :

মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

ইউরোপ যদি ই’রা’ন আ/ক্র/ম/ণ করে, রাশিয়ার ইউরোপ আ/ক্র/ম/ণ সহজ হয়ে যাবে!

আপডেট সময় : ০৪:৪১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব রাজনীতি প্রায়ই এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করে, যেখানে একটি আঞ্চলিক সংঘাত হঠাৎ করে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকে নাড়িয়ে দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ, বিশেষ করে যদি ইউরোপীয় শক্তি সরাসরি ইরান-এর বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ থাকবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভবিষ্যতের জন্য এক বড় ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হলো রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ইউরোপ বা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত মনোযোগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যখন কোনো শক্তি একাধিক ফ্রন্টে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার সামগ্রিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইউরোপকে সেই অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। সামরিক সরঞ্জাম, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক মনোযোগের বড় অংশ তখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরে যাবে। এতে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হতে পারে।

এই পরিস্থিতি রাশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদি ইউরোপের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধসহ পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা প্রশ্নে মস্কো আরও সাহসী অবস্থান নিতে পারে। শক্তির রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া একটি পরিচিত কৌশল, এবং নতুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউরোপের অর্থনীতি। জ্বালানি সংকট, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাত শুরু হলে সেই চাপ বহুগুণ বাড়তে পারে।

তাই প্রশ্নটি শুধু ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের নয়; প্রশ্নটি ইউরোপের কৌশলগত ভবিষ্যতের। যদি ইউরোপ এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে যা তাকে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে সেটি কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে না, বরং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি শিক্ষা দেয়: অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিপদ আসে সেই যুদ্ধ থেকে, যেটিকে প্রথমে দূরের সমস্যা বলে মনে হয়। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধও হয়তো ইউরোপের জন্য তেমনই এক কৌশলগত ফাঁদ হয়ে উঠতে পারে।