ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার আসামিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নিহত প্রায় ৯০ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চ্যালেঞ্জ শনাক্তে কক্সবাজারে যাচ্ছে ইসি মহেশখালীতে ড্রেন নির্মাণকাজে ডাম্পারের ধাক্কা, শ্রমিক নিহত টেকনাফে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মাঝি আটক কক্সবাজারে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে সাধারণ সভা ১৫ মে গর্জনিয়ায় সোহেলের বসতঘর থেকে মিললো ১ লাখ পিস ইয়াবা : এলাকায় চাঞ্চল্য কোরবানি পশুর চামড়ার দাম বাড়ল এবার কক্সবাজার সরকারি কলেজে ইউনিফর্ম পরে টিকটক-রিলস নিষিদ্ধ, নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির সতর্কতা বাবার নামে হোটেল ‘সায়মন’ নামকরণ করেছিলেন ইঞ্জি. মোশাররফ ঢাকায় অপহৃত স্কুলছাত্রী কক্সবাজারে উদ্ধার, গ্রেফতার ২ ১ মাসের শিশু হুমাইরাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন…

উখিয়ায় গৃহবধূ হত্যা: যুবকের দায় স্বীকার

উখিয়ায় গৃহবধূ জদিদা আক্তার (২২) হত্যার ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নুর শাহিন (১৮) নামের ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকায় নিজ ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় জদিদা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে জদিদা আক্তারের সঙ্গে দিনমজুর শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে চার বছরের এক ছেলে ও দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ২০ দিন আগে কাজের সন্ধানে শফিকুল ইসলাম বান্দরবানে যান। ঘটনার দিন ভোরে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জদিদাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর গলায় একটি ও মাথার পেছনে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

পরে মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এমএসএফ হাসপাতালের পাশের একটি বাড়ি থেকে নুর শাহিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতেই অভিযান চালিয়ে পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকার চিত্তাখোলা খালের পাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের হাতলযুক্ত ২১ ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজাদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি ক্লু-লেস মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার আসামিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

উখিয়ায় গৃহবধূ হত্যা: যুবকের দায় স্বীকার

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

উখিয়ায় গৃহবধূ জদিদা আক্তার (২২) হত্যার ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নুর শাহিন (১৮) নামের ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১১ মার্চ) ভোরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকায় নিজ ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় জদিদা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে জদিদা আক্তারের সঙ্গে দিনমজুর শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে চার বছরের এক ছেলে ও দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় ২০ দিন আগে কাজের সন্ধানে শফিকুল ইসলাম বান্দরবানে যান। ঘটনার দিন ভোরে সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জদিদাকে ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর গলায় একটি ও মাথার পেছনে দুটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

পরে মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে পালংখালী ইউনিয়নের গয়ালমারা এমএসএফ হাসপাতালের পাশের একটি বাড়ি থেকে নুর শাহিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতেই অভিযান চালিয়ে পালংখালী ইউনিয়নের মুছারখোলা এলাকার চিত্তাখোলা খালের পাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের হাতলযুক্ত ২১ ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজাদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি ক্লু-লেস মামলা ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযানে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে।