ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ: জিনিয়া শারমিন রিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ রামুতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, দাম্পত্যকলহ নাকি পরকীয়া?  নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ ‘সুপ্রভাত কক্সবাজার’-এর ইফতার ও শুভেচ্ছা আড্ডা অনুষ্ঠিত পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় ফরিদুল আলম ফরিদ উখিয়ায় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলাতলী গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী? মন্ত্রণালয় কমল ৮ প্রতিমন্ত্রীর, দায়িত্ব বাড়ল ২ উপদেষ্টার তালিকা করে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের সাবমেরিন-সহ ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত

উখিয়া থানায় দালাল ছাড়া হয়না কিছুই, বিপাকে স্বয়ং ওসি!

চিহ্নিত দালালরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন থানার আশেপাশে ঘোরাফেরায়, জিডি-মামলাসহ প্রয়োজনে কোন সেবাগ্রহীতা আসলে করা হয় টার্গেট। পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে কাজ করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ, এটি সীমান্ত উপজেলা উখিয়া থানার নিত্য নৈমিত্তিক চিত্র।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১৮ মাসে দালালদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর স্বস্তি মিলবে কিন্তু নতুন সরকার গঠন হলেও পাল্টেনি চিত্র।

পুলিশের বিশেষ শাখার একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ডজনখানেক ব্যক্তি থানা এলাকায় দালাল নামে পরিচিত। এদের মধ্যে এই অসাধু কাজকে একযুগ ধরে ধারণ করে বানিয়ে ফেলেছেন পেশা!

তালিকায় যাদের নাম আছে- লম্বা সুলতান,শাহজাহান (লালচুল), শাহজাহান (মোটা), শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামাল সহ আরো অনেকে। কথিত এসব দালালেরা থানার ওসির মাইম্যান পরিচয়ে আগতদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ এক ব্যক্তি আমার কাছে জিডি সহজে করে দিয়ে এক সপ্তাহে মোবাইল উদ্ধার করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। যখন বুঝতে পারি সে আসলে থানার কেউ না তখন এড়িয়ে যাই।’

থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে দালালদের সখ্যতা রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কনেস্টবল এবং ওসির বডিগার্ড পরিচয় দেওয়া থানার এক কনেস্টবল এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার!’

দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘ এসব কথিত দালালদের আমার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই, আমি আমার অফিসারদেরকেও রুল কলে প্রতিনিয়ত সর্তক করি যেন বাইরে ঘোরাঘুরি করা ৪-৫ জন চিহ্নিত দালালদের কোনভাবেই প্রশ্রয় না দেয়।’

স্থানীয়রা বলছেন, থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর সেখানেও যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাদের প্রত্যাশা দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হলেই অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি

উখিয়া থানায় দালাল ছাড়া হয়না কিছুই, বিপাকে স্বয়ং ওসি!

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চিহ্নিত দালালরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন থানার আশেপাশে ঘোরাফেরায়, জিডি-মামলাসহ প্রয়োজনে কোন সেবাগ্রহীতা আসলে করা হয় টার্গেট। পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে কাজ করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ, এটি সীমান্ত উপজেলা উখিয়া থানার নিত্য নৈমিত্তিক চিত্র।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১৮ মাসে দালালদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর স্বস্তি মিলবে কিন্তু নতুন সরকার গঠন হলেও পাল্টেনি চিত্র।

পুলিশের বিশেষ শাখার একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ডজনখানেক ব্যক্তি থানা এলাকায় দালাল নামে পরিচিত। এদের মধ্যে এই অসাধু কাজকে একযুগ ধরে ধারণ করে বানিয়ে ফেলেছেন পেশা!

তালিকায় যাদের নাম আছে- লম্বা সুলতান,শাহজাহান (লালচুল), শাহজাহান (মোটা), শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামাল সহ আরো অনেকে। কথিত এসব দালালেরা থানার ওসির মাইম্যান পরিচয়ে আগতদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ এক ব্যক্তি আমার কাছে জিডি সহজে করে দিয়ে এক সপ্তাহে মোবাইল উদ্ধার করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। যখন বুঝতে পারি সে আসলে থানার কেউ না তখন এড়িয়ে যাই।’

থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে দালালদের সখ্যতা রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কনেস্টবল এবং ওসির বডিগার্ড পরিচয় দেওয়া থানার এক কনেস্টবল এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার!’

দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘ এসব কথিত দালালদের আমার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই, আমি আমার অফিসারদেরকেও রুল কলে প্রতিনিয়ত সর্তক করি যেন বাইরে ঘোরাঘুরি করা ৪-৫ জন চিহ্নিত দালালদের কোনভাবেই প্রশ্রয় না দেয়।’

স্থানীয়রা বলছেন, থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর সেখানেও যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাদের প্রত্যাশা দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হলেই অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।