ঢাকা ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯ আইডিইবির সদস্যপদ পেলেন কক্সবাজারের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পেকুয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সেই রাজুর ৩ দিনের রিমান্ড এক দিনে দুই দফা ডাকাতি : ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ফের আতংক এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে কচ্ছপিয়ার সোহেল সিকদার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে কক্সবাজারের পূজামণ্ডপে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আইনের তোয়াক্কা না করে মেরিন ড্রাইভে ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ১০ প্রাণের বিনিময়েও জাগেনি প্রশাসন সৌদিতে নিহত প্রবাসীর পরিবার পেলো ক্ষতিপূরণ টেকনাফে একনলা বন্দুকসহ ‘ডাকাত’ করিম আটক পেকুয়ায় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পুরস্কৃত ৪০ শিক্ষার্থী চাকুরি পেছনে না ঘুরে নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে চাকুরি দাতা হোন- জেলা প্রশাসক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী আজ অবশেষে ইশরাকের ঘোষণা, পদত্যাগ করবেন দুপুরে

উখিয়া থানায় দালাল ছাড়া হয়না কিছুই, বিপাকে স্বয়ং ওসি!

চিহ্নিত দালালরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন থানার আশেপাশে ঘোরাফেরায়, জিডি-মামলাসহ প্রয়োজনে কোন সেবাগ্রহীতা আসলে করা হয় টার্গেট। পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে কাজ করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ, এটি সীমান্ত উপজেলা উখিয়া থানার নিত্য নৈমিত্তিক চিত্র।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১৮ মাসে দালালদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর স্বস্তি মিলবে কিন্তু নতুন সরকার গঠন হলেও পাল্টেনি চিত্র।

পুলিশের বিশেষ শাখার একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ডজনখানেক ব্যক্তি থানা এলাকায় দালাল নামে পরিচিত। এদের মধ্যে এই অসাধু কাজকে একযুগ ধরে ধারণ করে বানিয়ে ফেলেছেন পেশা!

তালিকায় যাদের নাম আছে- লম্বা সুলতান,শাহজাহান (লালচুল), শাহজাহান (মোটা), শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামাল সহ আরো অনেকে। কথিত এসব দালালেরা থানার ওসির মাইম্যান পরিচয়ে আগতদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ এক ব্যক্তি আমার কাছে জিডি সহজে করে দিয়ে এক সপ্তাহে মোবাইল উদ্ধার করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। যখন বুঝতে পারি সে আসলে থানার কেউ না তখন এড়িয়ে যাই।’

থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে দালালদের সখ্যতা রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কনেস্টবল এবং ওসির বডিগার্ড পরিচয় দেওয়া থানার এক কনেস্টবল এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার!’

দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘ এসব কথিত দালালদের আমার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই, আমি আমার অফিসারদেরকেও রুল কলে প্রতিনিয়ত সর্তক করি যেন বাইরে ঘোরাঘুরি করা ৪-৫ জন চিহ্নিত দালালদের কোনভাবেই প্রশ্রয় না দেয়।’

স্থানীয়রা বলছেন, থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর সেখানেও যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাদের প্রত্যাশা দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হলেই অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৯

উখিয়া থানায় দালাল ছাড়া হয়না কিছুই, বিপাকে স্বয়ং ওসি!

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চিহ্নিত দালালরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন থানার আশেপাশে ঘোরাফেরায়, জিডি-মামলাসহ প্রয়োজনে কোন সেবাগ্রহীতা আসলে করা হয় টার্গেট। পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে কাজ করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ, এটি সীমান্ত উপজেলা উখিয়া থানার নিত্য নৈমিত্তিক চিত্র।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১৮ মাসে দালালদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর স্বস্তি মিলবে কিন্তু নতুন সরকার গঠন হলেও পাল্টেনি চিত্র।

পুলিশের বিশেষ শাখার একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ডজনখানেক ব্যক্তি থানা এলাকায় দালাল নামে পরিচিত। এদের মধ্যে এই অসাধু কাজকে একযুগ ধরে ধারণ করে বানিয়ে ফেলেছেন পেশা!

তালিকায় যাদের নাম আছে- লম্বা সুলতান,শাহজাহান (লালচুল), শাহজাহান (মোটা), শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামাল সহ আরো অনেকে। কথিত এসব দালালেরা থানার ওসির মাইম্যান পরিচয়ে আগতদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ এক ব্যক্তি আমার কাছে জিডি সহজে করে দিয়ে এক সপ্তাহে মোবাইল উদ্ধার করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। যখন বুঝতে পারি সে আসলে থানার কেউ না তখন এড়িয়ে যাই।’

থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে দালালদের সখ্যতা রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কনেস্টবল এবং ওসির বডিগার্ড পরিচয় দেওয়া থানার এক কনেস্টবল এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার!’

দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘ এসব কথিত দালালদের আমার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই, আমি আমার অফিসারদেরকেও রুল কলে প্রতিনিয়ত সর্তক করি যেন বাইরে ঘোরাঘুরি করা ৪-৫ জন চিহ্নিত দালালদের কোনভাবেই প্রশ্রয় না দেয়।’

স্থানীয়রা বলছেন, থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর সেখানেও যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাদের প্রত্যাশা দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হলেই অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।