ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল গলায় চানাচুর আঁটকে শিশু আবিদের মৃত্যু উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক অভিযান: ৫ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ ফুটবল বিশ্বকাপ: হিসাব–নিকাশে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই মহেশখালীতে পুড়ছে প্যারাবন: নির্বিকার বনবিভাগ ও প্রশাসন প্রায় সাত বছর পর রূপালী পর্দায় সিনেমা দেখার সুযোগ পেল কক্সবাজারের মানুষ, আধুনিক সিনেমা হলের দাবি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক, উখিয়া ক্যাম্প পরিদর্শনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙে রাঙল টেকনাফ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় কক্সবাজারের সন্তান শামীমুর রহমান ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সময়সূচি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মা ও ছেলের মৃত্যু: এলাকায় শোকের ছায়া কক্সবাজারে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৩ ডিগ্রি, দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন মহেশখালীতে মাছ ধরার সময় হিটস্ট্রোকে জেলের মৃত্যু সেন্টমার্টিনে বিশাল অজগর ! উখিয়া থেকে অপহৃত যুবক টেকনাফে উদ্ধার

উখিয়া থানায় দালাল ছাড়া হয়না কিছুই, বিপাকে স্বয়ং ওসি!

চিহ্নিত দালালরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন থানার আশেপাশে ঘোরাফেরায়, জিডি-মামলাসহ প্রয়োজনে কোন সেবাগ্রহীতা আসলে করা হয় টার্গেট। পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে কাজ করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ, এটি সীমান্ত উপজেলা উখিয়া থানার নিত্য নৈমিত্তিক চিত্র।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১৮ মাসে দালালদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর স্বস্তি মিলবে কিন্তু নতুন সরকার গঠন হলেও পাল্টেনি চিত্র।

পুলিশের বিশেষ শাখার একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ডজনখানেক ব্যক্তি থানা এলাকায় দালাল নামে পরিচিত। এদের মধ্যে এই অসাধু কাজকে একযুগ ধরে ধারণ করে বানিয়ে ফেলেছেন পেশা!

তালিকায় যাদের নাম আছে- লম্বা সুলতান,শাহজাহান (লালচুল), শাহজাহান (মোটা), শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামাল সহ আরো অনেকে। কথিত এসব দালালেরা থানার ওসির মাইম্যান পরিচয়ে আগতদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ এক ব্যক্তি আমার কাছে জিডি সহজে করে দিয়ে এক সপ্তাহে মোবাইল উদ্ধার করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। যখন বুঝতে পারি সে আসলে থানার কেউ না তখন এড়িয়ে যাই।’

থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে দালালদের সখ্যতা রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কনেস্টবল এবং ওসির বডিগার্ড পরিচয় দেওয়া থানার এক কনেস্টবল এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার!’

দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘ এসব কথিত দালালদের আমার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই, আমি আমার অফিসারদেরকেও রুল কলে প্রতিনিয়ত সর্তক করি যেন বাইরে ঘোরাঘুরি করা ৪-৫ জন চিহ্নিত দালালদের কোনভাবেই প্রশ্রয় না দেয়।’

স্থানীয়রা বলছেন, থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর সেখানেও যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাদের প্রত্যাশা দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হলেই অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে যারা টেকনাফে শীঘ্রই কমিটি পাচ্ছে ছাত্রদল

উখিয়া থানায় দালাল ছাড়া হয়না কিছুই, বিপাকে স্বয়ং ওসি!

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চিহ্নিত দালালরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন থানার আশেপাশে ঘোরাফেরায়, জিডি-মামলাসহ প্রয়োজনে কোন সেবাগ্রহীতা আসলে করা হয় টার্গেট। পুলিশ কর্তাদের ম্যানেজ করে কাজ করে দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থ, এটি সীমান্ত উপজেলা উখিয়া থানার নিত্য নৈমিত্তিক চিত্র।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ১৮ মাসে দালালদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয়রা ভেবেছিলেন নির্বাচনের পর স্বস্তি মিলবে কিন্তু নতুন সরকার গঠন হলেও পাল্টেনি চিত্র।

পুলিশের বিশেষ শাখার একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ডজনখানেক ব্যক্তি থানা এলাকায় দালাল নামে পরিচিত। এদের মধ্যে এই অসাধু কাজকে একযুগ ধরে ধারণ করে বানিয়ে ফেলেছেন পেশা!

তালিকায় যাদের নাম আছে- লম্বা সুলতান,শাহজাহান (লালচুল), শাহজাহান (মোটা), শাহাবউদ্দিন, ফারুক, জামাল সহ আরো অনেকে। কথিত এসব দালালেরা থানার ওসির মাইম্যান পরিচয়ে আগতদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোবাইল হারানোর জিডি করতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় থানায় গিয়েছিলেন এনজিও কর্মকর্তা রিফাত উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ এক ব্যক্তি আমার কাছে জিডি সহজে করে দিয়ে এক সপ্তাহে মোবাইল উদ্ধার করে দিবে বলে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। যখন বুঝতে পারি সে আসলে থানার কেউ না তখন এড়িয়ে যাই।’

থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যদের সাথে দালালদের সখ্যতা রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই কনেস্টবল এবং ওসির বডিগার্ড পরিচয় দেওয়া থানার এক কনেস্টবল এই নেটওয়ার্কের নেপথ্যে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উখিয়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক সাংবাদিক সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ওসির আশ্রয়ে উখিয়া থানা দালাল, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে; পুলিশ সদস্যদের আচরণ দেখে মনে হয়, এটি যেন অবৈধ অর্থ উপার্জনের অঘোষিত দরবার!’

দালালদের দৌরাত্ম্যের বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ। তিনি বলেন, ‘ এসব কথিত দালালদের আমার পর্যন্ত আসার সুযোগ নেই, আমি আমার অফিসারদেরকেও রুল কলে প্রতিনিয়ত সর্তক করি যেন বাইরে ঘোরাঘুরি করা ৪-৫ জন চিহ্নিত দালালদের কোনভাবেই প্রশ্রয় না দেয়।’

স্থানীয়রা বলছেন, থানা হচ্ছে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর সেখানেও যদি ভোগান্তি থাকে তাহলে তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাদের প্রত্যাশা দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর হলেই অচিরেই থানায় নাগরিকবান্ধব পরিবেশ ফিরে আসবে।