ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর স্কুলে যাওয়া হবে না ছোট্ট নূরের.. মেরিন ড্রাইভে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত ৬,আশঙ্কাজনক ২ ঘুমধুম সীমান্তে অনুপ্রবেশ, তিন আরকান আর্মি সদস্য আটক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছয় সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হবে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর চলে গেল ছেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সারজিস-হান্নানের নেতৃত্বে এনসিপির কমিটি রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনী – সন্ত্রাসীর গোলাগুলি, নিহত ১ রমজানে মহানবী (সা.)-এর দিনলিপি সিগারেট বা যে কোনো ধোঁয়া গ্রহন করলে রোজা ভাঙ্গবে কি? টেকনাফের সাগরতীরের পাহাড়ে আগুন: ৪ ঘন্টা পর নিয়ন্ত্রণে প্যারাবনে হাত দিলেই খবর আছে : এমপি আলমগীর ফরিদ রাজাপালংয়ের ‘রাজার চেয়ার’ দখলে যাবে কার? ঈদগাঁওয়ে সংরক্ষিত বনের গাছ কাটার সময় গ্রেপ্তার ২, কাঠ জব্দ রামুতে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় আসা সেই দুই সহোদর হারালেন বাবাকেও

সৈকতের বালুতটে স্মৃতির আঁচড়ে বন্ধুত্বের রঙিন দিন

নীল সমুদ্রের নোনাজল-ছোঁয়া বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দে গেয়ে ওঠা এক টুকরো নস্টালজিয়া! এমনই এক রঙিন দিনে টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে জমে উঠেছিল এসএসসি ব্যাচ ২০১৪-এর টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর হাসি-কান্নার গল্পে একে একে জেগে উঠেছিল কৈশোরের দিনগুলো।

এই ব্যাচের একজন পুরোনো মুখ হয়ে আমিও ফিরে গিয়েছিলাম সেই নির্ভার কিশোর বেলায়। মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমি, বেলাল, রিদুয়ান, সাদ্দাম, হোসাইন ও আলম রওনা দিলাম দেশের শেষ সীমান্ত টেকনাফের পথে। সাগরপাড়ে পৌঁছে দেখি, আগেই এসে গেছে অনেক চেনা-অচেনা মুখ। বছরের পর বছর যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও যেন এক মুহূর্তেই মিলেমিশে গেলাম সবাই।

এখানে এসেছে— শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়, শাহপরীরদ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, নয়াপাড়া আলহাজ নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট মার্টিন উচ্চ বিদ্যালয়, লম্বরি মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়, নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও হ্নীলা আল ফালাহ একাডেমির বন্ধুরা। কেউ চাকরিজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউ উদ্যোক্তা। তবু সবাই যেন এক জায়গায়, একই পোশাকে— ফিরে পেলাম স্কুলজীবনের সেই হাসিখুশি সময়।

সূর্যের আলো গা ছুঁয়ে যখন সমুদ্রের বুকে হেলে পড়ছিল, তখন সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করছিলাম। চলছিল লোকগীতি, আঞ্চলিক গান, কবিতা, খেলাধুলা, র‍্যাফেল ড্র ও ক্রেস্ট প্রদান। কে কোথায় আছে, কে কী করছে, কেমন আছে পরিবার— এই গল্পে ভরে উঠেছিল চারপাশ। কেউ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে হাসছিল, কেউ একটু চুপচাপ হয়ে পড়েছিল। কেউ আবার বউ-বাচ্চার গল্প করতে গিয়ে অবিবাহিতদের বিয়ের তাগিদ দিচ্ছিল।

পরে মেরিন ড্রাইভের নরম ঘাসে বসে আনন্দের চড়ুইভাতিতে উদরপূরণ করলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে কেউ কেউ টেকনাফের রাজকীয় ঐতিহ্য ভুলে যায়নি! তারা মিষ্টি পান মুখে দিয়ে আঙুলের ডগায় চুন নিয়ে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠল।

বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে কেক কাটা, গান, আড্ডা আর দলীয় ফটোসেশনে জমে উঠেছিল অনুষ্ঠান। চারদিকে শুধু হাসি, আনন্দ আর স্মৃতির রঙে ভরে উঠেছিল সৈকতের বালুকাবেলা।

হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্ধু, কবি আজিজুর রহমান তার সুমধুর কণ্ঠে শুনাল এরূপ আঞ্চলিক কবিতার লাইন—

“বন্ধু’ অলোর মিলন মেলাত আয় হতো খুশি লার,
ছোড়ো ছোড়ো ঢেউ তুলে আর ঝাউবনর বৈয়ার।
স্কুল’র স্মৃতি আবার বুকোত মাইজ্জে বান,
বন্ধু তোরে ন ভুলিউম যাইলেও পরাণ।”

বন্ধু আতা উল্লার কণ্ঠে শুনেছি প্রাণ জুড়ানো বেশ কয়েকটি গান। বন্ধু-বান্ধবীরা মুচকি হেসে বলল, “সময় কেমন পাল্টে গেছে! তবু এই বন্ধুত্বটা আগের মতোই রয়ে গেছে।” এসব কথা শুনে সবার চোখে এক ঝলক আবেগের ছোঁয়াও লাগে।

দিনশেষে সূর্য যখন দিগন্তে ডুবে যাচ্ছিল, আমরা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম। যে বন্ধুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হলো, তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালাম। প্রতিশ্রুতি হলো— এটাই শেষ নয়, এই মিলনমেলা প্রতি বছর হবে, আরও বড় পরিসরে।

নীল আকাশ, সোনালি বালু আর ঢেউয়ের গর্জন যেন রবিবার (৮ নভেম্বর) সাক্ষী ছিল ২০১৪ ব্যাচের টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার্থীদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের। এদিন প্রথমবারের মতো শেষ হলো ‘সৈকতের বালুতটে স্মৃতির আঁচড়ে বন্ধুত্বের রঙিন দিন।’

লেখক:তারেকুর রহমান
সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থী, এসএসসি ব্যাচ ২০১৪।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

This will close in 6 seconds

সৈকতের বালুতটে স্মৃতির আঁচড়ে বন্ধুত্বের রঙিন দিন

আপডেট সময় : ০২:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

নীল সমুদ্রের নোনাজল-ছোঁয়া বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দে গেয়ে ওঠা এক টুকরো নস্টালজিয়া! এমনই এক রঙিন দিনে টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে জমে উঠেছিল এসএসসি ব্যাচ ২০১৪-এর টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব, স্মৃতি আর হাসি-কান্নার গল্পে একে একে জেগে উঠেছিল কৈশোরের দিনগুলো।

এই ব্যাচের একজন পুরোনো মুখ হয়ে আমিও ফিরে গিয়েছিলাম সেই নির্ভার কিশোর বেলায়। মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমি, বেলাল, রিদুয়ান, সাদ্দাম, হোসাইন ও আলম রওনা দিলাম দেশের শেষ সীমান্ত টেকনাফের পথে। সাগরপাড়ে পৌঁছে দেখি, আগেই এসে গেছে অনেক চেনা-অচেনা মুখ। বছরের পর বছর যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও যেন এক মুহূর্তেই মিলেমিশে গেলাম সবাই।

এখানে এসেছে— শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়, শাহপরীরদ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়, নয়াপাড়া আলহাজ নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট মার্টিন উচ্চ বিদ্যালয়, লম্বরি মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়, নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও হ্নীলা আল ফালাহ একাডেমির বন্ধুরা। কেউ চাকরিজীবী, কেউ শিক্ষক, কেউ উদ্যোক্তা। তবু সবাই যেন এক জায়গায়, একই পোশাকে— ফিরে পেলাম স্কুলজীবনের সেই হাসিখুশি সময়।

সূর্যের আলো গা ছুঁয়ে যখন সমুদ্রের বুকে হেলে পড়ছিল, তখন সবাই একসঙ্গে বসে গল্প করছিলাম। চলছিল লোকগীতি, আঞ্চলিক গান, কবিতা, খেলাধুলা, র‍্যাফেল ড্র ও ক্রেস্ট প্রদান। কে কোথায় আছে, কে কী করছে, কেমন আছে পরিবার— এই গল্পে ভরে উঠেছিল চারপাশ। কেউ স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে হাসছিল, কেউ একটু চুপচাপ হয়ে পড়েছিল। কেউ আবার বউ-বাচ্চার গল্প করতে গিয়ে অবিবাহিতদের বিয়ের তাগিদ দিচ্ছিল।

পরে মেরিন ড্রাইভের নরম ঘাসে বসে আনন্দের চড়ুইভাতিতে উদরপূরণ করলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষে কেউ কেউ টেকনাফের রাজকীয় ঐতিহ্য ভুলে যায়নি! তারা মিষ্টি পান মুখে দিয়ে আঙুলের ডগায় চুন নিয়ে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠল।

বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে কেক কাটা, গান, আড্ডা আর দলীয় ফটোসেশনে জমে উঠেছিল অনুষ্ঠান। চারদিকে শুধু হাসি, আনন্দ আর স্মৃতির রঙে ভরে উঠেছিল সৈকতের বালুকাবেলা।

হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বন্ধু, কবি আজিজুর রহমান তার সুমধুর কণ্ঠে শুনাল এরূপ আঞ্চলিক কবিতার লাইন—

“বন্ধু’ অলোর মিলন মেলাত আয় হতো খুশি লার,
ছোড়ো ছোড়ো ঢেউ তুলে আর ঝাউবনর বৈয়ার।
স্কুল’র স্মৃতি আবার বুকোত মাইজ্জে বান,
বন্ধু তোরে ন ভুলিউম যাইলেও পরাণ।”

বন্ধু আতা উল্লার কণ্ঠে শুনেছি প্রাণ জুড়ানো বেশ কয়েকটি গান। বন্ধু-বান্ধবীরা মুচকি হেসে বলল, “সময় কেমন পাল্টে গেছে! তবু এই বন্ধুত্বটা আগের মতোই রয়ে গেছে।” এসব কথা শুনে সবার চোখে এক ঝলক আবেগের ছোঁয়াও লাগে।

দিনশেষে সূর্য যখন দিগন্তে ডুবে যাচ্ছিল, আমরা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম। যে বন্ধুদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হলো, তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালাম। প্রতিশ্রুতি হলো— এটাই শেষ নয়, এই মিলনমেলা প্রতি বছর হবে, আরও বড় পরিসরে।

নীল আকাশ, সোনালি বালু আর ঢেউয়ের গর্জন যেন রবিবার (৮ নভেম্বর) সাক্ষী ছিল ২০১৪ ব্যাচের টেকনাফ উপজেলার শিক্ষার্থীদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের। এদিন প্রথমবারের মতো শেষ হলো ‘সৈকতের বালুতটে স্মৃতির আঁচড়ে বন্ধুত্বের রঙিন দিন।’

লেখক:তারেকুর রহমান
সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থী, এসএসসি ব্যাচ ২০১৪।