ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার,ট্রলি সরবরাহ এবং দালালের দৌরাত্ম বন্ধের নির্দেশ রমজান মাসের অমূল্য রত্ন রোজাদারের দোয়া মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে? ওপেন হার্ট সার্জারি শেষে ঘরে ফিরলেন অভিনেতা ‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল’ হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ: জিনিয়া শারমিন রিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ রামুতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, দাম্পত্যকলহ নাকি পরকীয়া?  নিজেরসহ পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ ‘সুপ্রভাত কক্সবাজার’-এর ইফতার ও শুভেচ্ছা আড্ডা অনুষ্ঠিত পোকখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় ফরিদুল আলম ফরিদ উখিয়ায় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত আটক ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কলাতলী গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন খেজুর কেন ইফতারে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রায়োন্ডা’ উন্মোচন

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের জন্য নতুন অফিসিয়াল বল হিসেবে “ট্রায়োন্ডা” উন্মোচন করা হয়েছে। আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ঐক্য ও প্রতীককে ফুটিয়ে তুলতেই এর নকশা করা হয়েছে। উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, কাফু, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জাভি হার্নান্দেজ ও জিনেদিন জিদানসহ পাঁচজন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলটিকে গর্বের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, অ্যাডিডাস আবারও প্রযুক্তি ও নকশার দিক থেকে ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

“ট্রায়োন্ডা” নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—‘ট্রাই’ (তিন) ও ‘ওন্ডা’ (ঢেউ)। এর নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতা এবং মেক্সিকোর ঈগলকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। লাল, সবুজ ও নীল রঙে আঁকা ঢেউময় নকশা তিন আয়োজক দেশকে একসাথে ধারণ করছে, সঙ্গে রয়েছে সোনালি ছোঁয়া, যা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।

বলটি চার-প্যানেল প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি, যা খেলার সময় গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়ায়। বিশেষ খোদাইয়ের কারণে ভিজে থাকলেও বলের গ্রিপ অটুট থাকে। এ ছাড়া বলটির ভেতরে যুক্ত হয়েছে ৫০০ হের্জ সেন্সর, যা রিয়েলটাইম তথ্য দেবে। এর ফলে VAR ব্যবহারের সময় অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা ফাউল দ্রুত ও সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্বকাপের বল নিয়ে ইতিহাসে নানা আলোচনার জন্ম হয়েছে। ১৯৭০ সালে প্রথমবার অ্যাডিডাস বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল তৈরি করে, নাম ছিল “টেলস্টার”। সাদা-কালো নকশার সেই বল ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠে। এরপর “ট্যাঙ্গো”, “ফিভারনোভা”, “টিমগাইস্ট”, “জাবুলানি”, “ব্রাজুকা” থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক “আল রিহলা”—প্রতিটি বলের নকশা সময়ের প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্যবহৃত “জাবুলানি” বিতর্কিত হলেও এটি ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। নতুন ট্রায়োন্ডা তাই শুধু খেলার সরঞ্জাম নয়, বরং ফুটবলের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রায়োন্ডা’ উন্মোচন

আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের জন্য নতুন অফিসিয়াল বল হিসেবে “ট্রায়োন্ডা” উন্মোচন করা হয়েছে। আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ঐক্য ও প্রতীককে ফুটিয়ে তুলতেই এর নকশা করা হয়েছে। উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, কাফু, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, জাভি হার্নান্দেজ ও জিনেদিন জিদানসহ পাঁচজন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলটিকে গর্বের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, অ্যাডিডাস আবারও প্রযুক্তি ও নকশার দিক থেকে ভিন্নধর্মী এক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

“ট্রায়োন্ডা” নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—‘ট্রাই’ (তিন) ও ‘ওন্ডা’ (ঢেউ)। এর নকশায় যুক্তরাষ্ট্রের তারকা, কানাডার ম্যাপল পাতা এবং মেক্সিকোর ঈগলকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। লাল, সবুজ ও নীল রঙে আঁকা ঢেউময় নকশা তিন আয়োজক দেশকে একসাথে ধারণ করছে, সঙ্গে রয়েছে সোনালি ছোঁয়া, যা বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করে।

বলটি চার-প্যানেল প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি, যা খেলার সময় গতি ও স্থিতিশীলতা বাড়ায়। বিশেষ খোদাইয়ের কারণে ভিজে থাকলেও বলের গ্রিপ অটুট থাকে। এ ছাড়া বলটির ভেতরে যুক্ত হয়েছে ৫০০ হের্জ সেন্সর, যা রিয়েলটাইম তথ্য দেবে। এর ফলে VAR ব্যবহারের সময় অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা ফাউল দ্রুত ও সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্বকাপের বল নিয়ে ইতিহাসে নানা আলোচনার জন্ম হয়েছে। ১৯৭০ সালে প্রথমবার অ্যাডিডাস বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল তৈরি করে, নাম ছিল “টেলস্টার”। সাদা-কালো নকশার সেই বল ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠে। এরপর “ট্যাঙ্গো”, “ফিভারনোভা”, “টিমগাইস্ট”, “জাবুলানি”, “ব্রাজুকা” থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক “আল রিহলা”—প্রতিটি বলের নকশা সময়ের প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্যবহৃত “জাবুলানি” বিতর্কিত হলেও এটি ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। নতুন ট্রায়োন্ডা তাই শুধু খেলার সরঞ্জাম নয়, বরং ফুটবলের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন।