ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চৌফলদন্ডি ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ফোরকান মাহমুদ উখিয়ায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বু/লে/টপ্রুফ ভেস্ট ও অ/স্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার সেনা সদস্য তিতাস শেখ হ/ত্যার বিচারের দাবিতে টেকনাফে বিএনপির মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ‘অভিযানে যাব, দোয়া কইরো’— মায়ের সঙ্গে সেনা সদস্যের শেষ কথা টানা তিন দফা বৃদ্ধির পর কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ২৭৪১ টাকা লোহাগাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের তদন্তের নির্দেশ পেকুয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের লোহাগাড়ায় ইয়াবা সেবন করে মাকে মারধর, ছেলের এক মাসের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর আজিজনগরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাই হাসিনার সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন অভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনেরা, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাহাড়সম অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছে সরকার: জামায়াত আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফে মাছ ধরার নৌকায় বজ্রপাত, জেলের মৃত্যু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কমনওয়েলথের সমর্থন চায় বাংলাদেশ আজ জেলহত্যা দিবস

বৈরি আবহাওয়াতেও কক্সবাজারে হোটেল রুম ‘সোল্ড আউট’

আকাশ মেঘে ঢাকা। ভোর হতেই ঝুম বৃষ্টি। বেলা বাড়তে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর বার্তা দিয়েছে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত। আর সমুদ্রের ঢেউও আজ একটু বেশি উত্তাল।

তবুও এসবকে পাত্তা না দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। ফলে কক্সবাজার সৈকত এখন ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে সরগরম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা। অনেকে আবার বৃষ্টির ভেজা ছাপ নিয়ে ছবি তুলছেন, শিশু-কিশোররা দৌড়ে বেড়াচ্ছে বালুচরে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নুসরাত জাহান বললেন, “আবহাওয়া একটু খারাপ হলেও আমাদের কাছে এটা অন্যরকম আনন্দ। বৃষ্টির ভেতর সমুদ্র দেখা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তবে হোটেল রুম পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।”

হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটি হলেই এখন এমন ভিড় হয়। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, “এবারের পূজা ও টানা ছুটিতে পর্যটক চাপ অভাবনীয়। প্রায় সব হোটেল-মোটেল রুম সল্ড আউট হয়ে গেছে। আগাম বুকিং ছাড়া রুম পাওয়া কার্যত অসম্ভব।”

পর্যটকের ভিড়ে সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসাও। সৈকতের আশপাশের ফাস্টফুড দোকান, রেস্তোরাঁ, বিচ-বাইক, ফটোগ্রাফার, সবখানেই জমে উঠেছে রোজগার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হোসেনের ভাষায়, “প্রকৃতি আর কি আসে যায়, মানুষ চলে আসে আনন্দ খুঁজতে। এতে আমাদের ব্যবসার চাকাও সচল হয়েছে।”

অন্যদিকে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিওন এর অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে টহলও জোরদার করা হয়েছে।”

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছেন সৈকতে। কারও হাতে রঙিন ছাতা, কারও কাঁধে শিশু, সবমিলে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে উৎসবের ছুটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে কক্সবাজারের সৈকত।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চৌফলদন্ডি ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ফোরকান মাহমুদ

বৈরি আবহাওয়াতেও কক্সবাজারে হোটেল রুম ‘সোল্ড আউট’

আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

আকাশ মেঘে ঢাকা। ভোর হতেই ঝুম বৃষ্টি। বেলা বাড়তে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর বার্তা দিয়েছে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত। আর সমুদ্রের ঢেউও আজ একটু বেশি উত্তাল।

তবুও এসবকে পাত্তা না দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি কাটাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। ফলে কক্সবাজার সৈকত এখন ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে সরগরম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠেছে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা। অনেকে আবার বৃষ্টির ভেজা ছাপ নিয়ে ছবি তুলছেন, শিশু-কিশোররা দৌড়ে বেড়াচ্ছে বালুচরে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক নুসরাত জাহান বললেন, “আবহাওয়া একটু খারাপ হলেও আমাদের কাছে এটা অন্যরকম আনন্দ। বৃষ্টির ভেতর সমুদ্র দেখা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তবে হোটেল রুম পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।”

হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটি হলেই এখন এমন ভিড় হয়। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, “এবারের পূজা ও টানা ছুটিতে পর্যটক চাপ অভাবনীয়। প্রায় সব হোটেল-মোটেল রুম সল্ড আউট হয়ে গেছে। আগাম বুকিং ছাড়া রুম পাওয়া কার্যত অসম্ভব।”

পর্যটকের ভিড়ে সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসাও। সৈকতের আশপাশের ফাস্টফুড দোকান, রেস্তোরাঁ, বিচ-বাইক, ফটোগ্রাফার, সবখানেই জমে উঠেছে রোজগার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হোসেনের ভাষায়, “প্রকৃতি আর কি আসে যায়, মানুষ চলে আসে আনন্দ খুঁজতে। এতে আমাদের ব্যবসার চাকাও সচল হয়েছে।”

অন্যদিকে, বৈরি আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিওন এর অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, “সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে টহলও জোরদার করা হয়েছে।”

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অঞ্চলে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছেন সৈকতে। কারও হাতে রঙিন ছাতা, কারও কাঁধে শিশু, সবমিলে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে উৎসবের ছুটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে কক্সবাজারের সৈকত।